ব্রেকিং নিউজ:

"বাবাকে অনেক ভালোবাসি"

ইশরাত জাহান ইরাঃ ২০১৫-০৬-০২ ১৭:৫২:৪৩

"বাবাকে অনেক ভালোবাসি"

আমার বাবা সম্পর্কে আজ একটু কথা বলি। বাবাকে সেই ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি নিজ থেকে কেনাকাটা বা তাঁর একার জন্যে কখনও শপিং করার অভ্যাস ছিল না। আমরা দু বোন এত বড় হবার পরেও এই রকম নিজের জন্য কিছু কেনা বা কিনে বাসায় নিয়ে আসার ঘটনা কখনও চোখে পড়েছে কিনা তা আমার ঠিক এই মুহুর্তে মনে পড়ছে না। বছরের পর বছর এই ধর্মীয় অনুষ্ঠান, এই যেমন ঈদের মত এমন একটা দিনেও বাবা কোন ড্রেস নিত না। আমার মা তার ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে কখনো সখনো জোর করেই গিফট করে। বিয়ে বার্ষিকীতে মা এই কাজটা বেশী করে, অবশ্য তখন কিছু বলার থাকে না। 

আমি এত গুলো কথা কেন বললাম এখন তাই বলি। আজ ক দিন ধরে বাবার মধ্যে একটু পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিষয়টি মা ও খেয়াল করেছে। বাবা ইদানিং বাসায় ফেরার পথে প্রায়ই তার নিজের জন্য কিছু না কিছু কিনে নিয়ে আসতেছে যা আগে কখনোই দেখি নি। আজ ক দিনের মধ্যে বাবা কালারফুল কিছু টি শার্ট কিনে নিয়ে আসছে। আজও একটা দারুণ কালারের টি শার্ট কিনেছে। আজ যেটা কিনেছে তা আমাকে অনেক সুন্দর করে এনে দেখালো বাবা। অনেকটা বাচ্চাদের মত তা গায়ে পড়েই দেখালো। আমি অবাক হয়ে বাবার দিকে খুব মন দিয়ে তাকালাম আর অনেক মায়া হল আমার বাবার প্রতি। আর ভাবলাম যে এই শিশুর মত এমন মানুষকে আমি কিভাবে কষ্ট দেব? কখনও কি এটা আমার পক্ষে সম্ভব? বাবার হাসোজ্জল মুখ খানা দেখে আমি বললাম ---
"বাবা তোমার টি শার্ট এর কালার টা অনেক সুন্দর হইছে।"

আমার খাটের পাশেই ড্রেসিন টেবিল বাবা আরও এক নজর তাকে দেখে নিল আয়নায়। দেখে মনে হচ্ছিলো যে আগামীকাল ঈদ আর তাই আমি আমার ছোট্ট বাচ্চাটাকে এই ড্রেসটি গিফট করেছি। আর বাচ্চাটিও বেজায় খুশী।

বাবা বলল --- " আরও একটি কালারের টি শার্ট পছন্দ হয়েছে।
আমি বললাম -- " আচ্ছা তোমাকে ওটা আমি কিনে দেব।

বাবা এখন খুব খুশি। বাবা চলে গেল তাদের রুমে। আম্মু হাসছে বাবার এই কান্ড দেখে। আর মা কে আমি শুধু এটাই বললাম -- " মা বাবাকে কিচ্ছু বইল না । যা কিনতে চায় কিনতে দিও। আগে তো বলেও দেয়া যেত না, এখন নিজ থেকেই করতেছে করতে দাও। আম্মু চলে গেল ঘুমাতে।

এতগুলো কথা এই জন্যে বললাম, কারণ আজ কাল বাবার এই স্বতঃফুরত ভাবটা অনেক দিন বাদে দেখতে পারছি। ভীষণ রকমের এক ভালো লাগা তৈরী হচ্ছিলো বাবার খুশি দেখে। সবশেষে বলি --

"বাবাকে অনেক ভালোবাসি"

 =========================================================================

বাবাকে উদ্দেশ্য করে এই সুন্দর লেখাটি পাঠিয়েছেন আমাদের সম্মানীয় পাঠক ইশরাত জাহান ইরা
ইরা আমাদের একজন নিয়মিত পাঠক এবং শুভাকাঙ্ক্ষী। তিনি বর্তমানে একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরীরত আছেন। একসময় রেডিওতে নিয়মিত আর.জে. হিসেবে কাজ করতেন ইরা। শখের বসে মাঝে মাঝেই লেখালেখি করে থাকেন।
ইরা বর্তমানে পুরোনো ঢাকায় বসবাস করছেন।

লেখাটি ভালো লাগলে বা তার আরও লেখা পড়তে চাইলে আমাদের জানাতে পারেন। পাশাপাশি আপনারাও লেখা প্রকাশ করতে চাইলে আমাদের লিখে পাঠাতে পারেন info@shobshomoy.com -এই ঠিকানায়। অথবা আমাদের ফেসবুক পেইজে মেসেজের মাধ্যমেও পাঠাতে পারেন আপনার লেখা।

***সব ধরনের নিউজ আপডেট পেতে এখানে ক্লিক করে ফেসবুকে আমাদের সাথে থাকুন***
আরও পড়ুনঃ হয়েছিলাম পথভ্রষ্ট   -স্বজন ইসলাম নাহিদ
                   
অসমাপ্ত গল্প…... ১   -হানা আহমেদ
                   
প্রকৃতি’র মেগাপিক্সেল   -মদিনা জাহান রিমি
                   
মৃত্যু অভিজ্ঞতা (Near death experience)  
-রিশাদ হাসান


এই বিভাগের আরও সংবাদ