ব্রেকিং নিউজ:

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনা সঙ্কটে

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৬-২৯ ১৫:৩০:৪৯

গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনায় অনেকটা অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার কারণে গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ শূন্য ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু সরকারের এই আদেশের বিরুদ্ধে মামলা করেন গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের একজন সদস্য। সেই থেকে গ্রামীণ ব্যাংকের কোনো বোর্ডসভা হয়নি। নেয়া সম্ভব হয়নি গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্ত। ফলে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার ক্ষেত্রে গ্রামীণ ব্যাংক কিছুটা সঙ্কটে পড়েছে বলে মনে করছে অর্থ মন্ত্রণালয়।

গ্রামীণ ব্যাংকে এখন চেয়ারম্যান হিসেবে কে তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকে সরকার নিয়োগকৃত চেয়ারম্যান খন্দকার মোজাম্মেল হক এ বছরের শুরুতে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু সরকার তা গ্রহণ করেনি। পদত্যাগী চেয়ারম্যান তবু মনে করেন তিনি এই প্রতিষ্ঠানের আর চেয়ারম্যান নন। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যেহেতু তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়নি তাই এখন পর্যন্ত তিনিই গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান।
এ বিষয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব ড. এম আসলাম আলম বলেছেন, আমরা গ্রামীণ ব্যাংক আইন মেনে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ শূন্য ঘোষণা করেছি। এই আইনে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইচ্ছা করলে দু’জন পরিচালনা পর্ষদ সদস্য নিয়ে কোরাম পূরণসহ সভা পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু এখন গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সভা করতে পারছে না। ফলে গ্রামীণ ব্যাংক পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এটি সত্যি। তবে তার পদত্যাগপত্র এখন পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়নি। ফলে তিনি এখন পর্যন্ত গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে রয়ে গেছেন। পদত্যাগ করার পরও তিনি বেশ কয়েকটি পর্ষদের সভাও করেছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে।
গত ৩০ মার্চ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ‘গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালান পর্ষদের বোর্ড সভা অনুষ্ঠান প্রসঙ্গে’ শিরোনামে একটি চিঠি জারি করে। এতে উল্লেখ করা হয়, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত নয়জন পরিচালকের প্রত্যোকের মেয়াদ বিগত ফেব্রুয়ারি ২০১৫ মাসে শেষ হয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩-এর ১১(১) ধারা অনুযায়ী তারা এখন আর গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের পরিচালক নন। উক্ত আইনের ১৭(৩) ধারা অনুযায়ী নির্বাচিত পরিচালকগণের মেয়াদ শেষ হলে বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে নতুনভাবে পরিচালক নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত সরকার কর্তৃক নিযুক্ত চেয়ারম্যান এবং অপর দু’জন পরিচালকের উপস্থিতিতে কোরাম পূরণসহ সভা অনুষ্ঠানের বিধান রয়েছে। এ অবস্থাধীন, গ্রামীণ ব্যাংকের পরিচালান পর্ষদের সভা আহ্বান বা অনুষ্ঠানের বিষয়ে গ্রামীণ ব্যাংক আইন ২০১৩ যথাযথভাবে অনুসরণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হল। ’
এরপর এপ্রিল মাসে গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত নয়জন পরিচালকের পদ শূন্য করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেয়া চিঠি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি কাজী মো: ইজারুল হক আকন্দের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল দেন।
অর্থসচিব ও গ্রামীণ ব্যাংককে ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। ব্যাংকিং সচিব বলেছেন, হাইকোর্টের রুলের জবাব তারা দিয়েছেন।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি মেয়াদ শেষ হয়েছে উল্লেখ করে ৩০ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ গ্রামীণ ব্যাংকের নির্বাচিত নয় পরিচালকের পদ শূন্য ঘোষণা করে চিঠি দেয়। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে পরিচালকদের একজন তাহসিনা খাতুন ৬ এপ্রিল হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন।
ব্যাংকটির তিন বছর মেয়াদি ১২ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদে ঋণগ্রহীতা সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচিত ৯ জন পরিচালক আছেন।
তারা হলেন চট্টগ্রামের সাজেদা বেগম, সিলেটের মোছাম্মদ সুলতানা বেগম, কুমিল্লার রেহানা আক্তার, গাজীপুরের সালেহা খাতুন, দিনাজপুরের পারুল বেগম, বগুড়ার মেরিনা আক্তার, পটুয়াখালীর মোমেনা খাতুন, যশোরের শাহিদা আক্তার এবং ময়মনসিংহের তাহসিনা খাতুন।
অন্য তিনজন পরিচালক সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হন। তাদের একজন চেয়ারম্যান হয়ে থাকেন।


এই বিভাগের আরও সংবাদ