ব্রেকিং নিউজ:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভঙ্গুর অবস্থায় আছেঃ সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৮-০৫ ১৩:৫৪:২০

বিচারক স্বল্পতায় মামলার জট কমানো অসম্ভব বলে দাবি করেছে আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। একইসঙ্গে বিচারক স্বল্পতা না কমানো গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়তে পারে বলে কমিটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

গতকাল সংসদ সচিবালয়ে বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংসদীয় কমিটির সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। বৈঠকে কমিটির সদস্য আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম চৌধুরী, শামসুল হক টুকু, আবদুল মজিদ খান, তালুকদার মোহাম্মদ ইউনুস, জিয়াউল হক মৃধা, সফুরা বেগম এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে জাতীয় সংসদের মিডিয়া সেন্টারে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে কমিটির সভাপতি সারা দেশে মামলার জট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মামলার জট কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন। কিন্তু বিচারকহীন বিচার ব্যবস্থায় মামলার জট কমানো সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, আমেরিকায় প্রতি ১০ হাজার ও ভারতে প্রতি ১৫ হাজার জনে একজন বিচারক আছেন। সেখানে বাংলাদেশে এক লাখ ৫২ হাজার জনে একজন বিচারক। এভাবে একটি গণতান্ত্রিক দেশের বিচার ব্যবস্থা চলতে পারে না।

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন ভঙ্গুর অবস্থায় আছে। মামলার জট কমাতে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত না করতে পারলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এমনকি যে কোন সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়তে পারে। তিনি আরও বলেন, র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে জনবল বাড়িয়ে এই পরিস্থিতি উন্নয়ন করা যাবে না। আদালতে বিচারকের সংখ্যা বাড়াতে হবে।

বৈঠকে জানানো হয়, দেশের ১৬ কোটি জনসংখ্যার বিপরীতে অনুমোদিত বিচারকের পদ মাত্র এক হাজার ৬৫৫টি। এর মধ্যে শুধু সুপ্রিম কোর্টে ৪৫৭টি পদ শূন্য রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শেষে সারা দেশে জমে থাকা মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য পর্যায়ক্রমে বিচারক নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়। এজন্য করণীয় নির্ধারণে বিচারক, আইনজীবীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা ও সুপারিশমালা প্রণয়নের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদ ভবনে এই বৈঠক ডাকা হবে। এ ছাড়া বৈঠকে বিচার ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত পেশাজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়।

বৈঠকে জানানো হয়, একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার অভিযোগপত্র ও সম্পূরক অভিযোগপত্রে মোট সাক্ষী ৪৯১ জন। ইতিমধ্যে দুটি মামলায় ১৬৭ জন করে ৩৩৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। সাক্ষীদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হচ্ছে। কমিটি সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ করে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছে। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি জানান, আগেও সংসদীয় কমিটি একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা হামলা দ্রুত নিষ্পত্তির সুপারিশ করেছিল। বারবার তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও মামলাটি নিষ্পত্তি হচ্ছে না। কমিটি এ ব্যাপারে আবারো তাগিদ গিয়েছে।


এই বিভাগের আরও সংবাদ