ব্রেকিং নিউজ:

তিন বছরে ধর্ষণের শিকার ৬১ ভাগই শিশু

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৮-০৫ ১৮:৪৭:০০

বিকৃত যৌনাকাঙ্ক্ষার এক বিকৃত অভিপ্রকাশ ধর্ষণ। পরিসংখ্যান বলছে, গেল তিন বছরে যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তাদের ৬১ ভাগেরও বেশি শিশু। বিচারহীনতা ও শিশু ধর্ষণের মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়াই এ ধরনের অপরাধ বাড়ার কারণ বলে মনে করেন আইনজ্ঞরা।

মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এর হিউম্যান রাইটস মনিটরিং রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০০৮ সালে ৪৫৪ জন ধর্ষণের শিকার হয়। এদের মধ্যে ২৫২ জন শিশু। ২০০৯ সালে ধর্ষণের শিকার ৪৫৬ জনের মধ্যে শিশু ২৪৩ জন। ২০১২ থেকে ২০১৪ সালের হিসাব বলছে, মোট ধর্ষণের ঘটনায় ৬১ ভাগেরও বেশি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। 
গেল শনিবারেও ঢাকার মিরপুর এবং রায়েরবাগে একইদিনে দু’টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। আর চলতি বছরে এ পর্যন্ত শুধু ঢাকায় অন্তত ৩০টি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশু ধর্ষণ বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, ‘শিশুরা ঠিকভাবে কিছু বলতে পারে না, অরক্ষিত অসহায় থাকে।’ তাই তাদেরকে ভয় দেখিয়ে অপরাধীরা সহজেই স্বার্থসিদ্ধি করতে চায় বলে মনে করেন তিনি। এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে ‘বিচারহীনতা’কেই সবচেয়ে বড় কারণ মনে করেন তিনি। সালমা আলী বলেন, ‘আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও ফরেনসিক বিভাগের সমন্বয় খুবই জরুরি। কিন্তু এই তিন বিভাগের সমন্বয়ের অভাবই বিচারহীনতাকে বাড়িয়ে তুলেছে’।
ধর্ষণের ঘটনায় ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার থেকে যেসব মামলায় সহযোগিতা করা হয়েছে সেসব মামলার হিসাব থেকে জানা যায়, গত ১০ বছরে ঢাকায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে তিন হাজার ৯৮০টি। মামলা হয়েছে এক হাজার ৫৫৬টি। শাস্তি হয়েছে মাত্র ৪০টি ঘটনায়।
শিশু ধর্ষণের মামলায় ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বছরের পর বছর মামলা চলতে থাকে। এ বিষয়ে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার বলেন, দীর্ঘসূত্রিতার প্রধান কারণ সাক্ষীরা ঠিকভাবে সাক্ষ্য দিতে আসে না। এই সাক্ষ্য না দিতে আসার কারণ হিসেবে আসামীর সাথে সাক্ষীর টাকার বিনিময়ে সমঝোতা, আসামীপক্ষের হুমকি এসব বিষয় জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি। এক্ষেত্রে বাংলাদেশে সাক্ষী নিরাপত্তা আইন না থাকাকেই দায়ী করেন ফাহমিদা আক্তার।
ফাহমিদা আক্তার আরও বলেন, আসামীর সাথে ভুক্তভোগী অনেক সময় আপোষ করার কারণে অনেক মামলা ঝুলে যায়।
২০০১ সালের ১২ই জুলাই মানিকগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে নিম্ন আদালত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলো আসামি শুক্কুরকে। ১৬ বছর আগের সেই রায় পুনর্বিবেচনা করে সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ রিভিউ রায়ে সেই সাজা কমিয়েছেন । তাকে এখন যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মামলার এই দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে সালমা আলী বলেন, ‘রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে কিংবা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে আসামীরা ধরা পড়ে না। দীর্ঘদিন ধরে আসামী ধরা না পড়ার কারণে দেখা যায় মামলাগুলো হারিয়ে যায়’।
শিশু ধর্ষণের এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তিতে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাসহ ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলেন অ্যাডভোকেট সালমা আলী। এজন্য সরকারকে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।