ব্রেকিং নিউজ:

আবারো পিছু হঠেছেন শিক্ষামন্ত্রী

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৮-১৪ ১৭:৪৫:৩৪

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরিতে ব্যর্থ বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাময়িক সনদ বাতিলের ঘোষণা থেকে আবারো পিছু হঠেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।

এবার সনদ বাতিল নয়, বরং নিজস্ব ক্যাম্পাস করতে ব্যর্থ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাসের বিষয়ে অগ্রগতির প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের সম্মেলন কক্ষে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সাথে এক মতবিনিময় সভায় বৃহস্পতিবার দুপুরে এ নির্দেশ দেন তিনি।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৬ জানুয়ারী শিক্ষামন্ত্রীর সভাপতিত্বে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন অনিয়ম, মামলা সংক্রান্ত জটিলতা, অনিষ্পন্ন কার্যাবলী নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এছাড়া ২০১০ ও ২০১২, ২০১৩ সালে বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিজস্ব ক্যাম্পাস চালু করতে তিনদফা সময় দেওয়া হয়েছিল।
ওই সভায় ৭ বছর অতিক্রমের পরও যেসব বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হয়নি তাদের ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অবশ্যই নিজস্ব ক্যাম্পাসে যেতে হবে, অন্যথায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাময়িক সনদ বাতিল করা হবে এবং ওই সময়ের পর এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।
তবে এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, নির্ধারিত সময়ের পরও যাদের নিজস্ব ক্যাম্পাস নাই, তাদের আমরা আর চলতে দিতে পারি না। সেজন্য আপনাদের কোন না কোন বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে হবে। আপনারা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট দিবেন। কোন শর্ত পূরণে কতটুকু অগ্রগতি হয়েছে, কতটুকু সময় লাগবে তা বিস্তারিত জানাবেন।
তিনি বলেন, কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতোমধ্যে নিজস্ব ক্যাম্পাস করেছে, আবার কেউ কেউ জায়গা কিনেছেন— সব বিষয়েই আমরা বিবেচনা করবো।
এ সময় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আমি বিষয়টি অর্থমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে বলবো।
এ সময় তিনি সব বিশ্ববিদ্যালয়ে মনিটরিং সিস্টেম চালু ও ইউজিসিকে আরো কার্যকর এবং শক্তিশালী করা হবে বলে জানান।
সভায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজ ও কর্মকর্তাদের দ্বন্দ্ব, স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর না হওয়া, সিন্ডিকেট সভা সম্পাদনে অনিয়ম, অননুমোদিত ক্যাম্পাস পরিচালনা, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের অভাব, শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো না থাকা, মান সম্পন্ন ল্যাবরেটরি ও লাইব্রেরির অভাব, ভিসিসহ অন্যান্য শীর্ষ পদে নিয়োগ না দেওয়া, গবেষণা খাতে কম অর্থ ব্যয় করার সমালোচনা করেছেন।
এ সময় তিনি বেসরকাররী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগও তুলেন।
মতবিনিময় সভায় বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শেখ কবীর হোসেন বলেন, আমাদের উপর ধার্য করা ভ্যাট প্রত্যাহার করতে হবে। সবকিছুতেই ভ্যাট মেনে নেওয়া যায় না।
ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ফরাসউদ্দীন আহমেদ বলেন, যে ভ্যাট ধার্য করা হয়েছে তা ন্যায়সঙ্গত না। তাই এটি প্রত্যাহার করা উচিত।


এই বিভাগের আরও সংবাদ