ব্রেকিং নিউজ:

গ্রিসে আটকে পড়া শত শত বাংলাদেশী পাড়ি জমাচ্ছেন ইউরোপে

সবসময় ডেস্কঃ ২০১৫-০৯-০৩ ১৪:৫৪:৪২

অভিবাসীর স্রোত ঠেকাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউরোপ। তাদের সঙ্গে একই পথে পাড়ি জমাচ্ছেন গ্রিসে আটকে পড়া শত শত অবৈধ বাংলাদেশীও। গতরাতে বিবিসি এ খবর দিয়েছে।

এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকা থেকে প্রতিদিন স্রোতের মতো যাওয়া অভিবাসী ও শরণার্থীর চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইউরোপ। হাঙ্গেরির সঙ্গে অস্ট্রিয়া তাদের সীমান্তে নজরদারি বাড়ালেও গতকালও একটি ভ্যানের ভেতর থেকে ২৪ আফগানকে বিপজ্জনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ওদিকে হাঙ্গেরি অভিযোগ করেছে, গ্রিস কোন বাদবিচার ছাড়াই এসব অভিবাসীকে ইউরোপের মূল ভূখণ্ডের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এসব অধিবাসীর বেশির ভাগই সিরীয়। সাগরপথে তারা মূলত ইতালি গিয়ে নামছেন। তাই প্রতিদিনই শত শত অভিবাসী ইতালিতে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে সাধারণ গ্রিকদের প্রতিক্রিয়া কী হচ্ছে? এ বিষয়ে এথেন্সের বাসিন্দা জয়নাল আবেদীন বলেছেন বিস্তারিত। তিনি এথেন্স শহরে থাকেন ২৫ বছর ধরে। জয়নাল আবেদীন বলেছেন, এসব শরণার্থী বা অভিবাসীর মনোবল প্রবল। শুরুর দিকে যখন তারা সেখানে গিয়ে পৌঁছেন তখন এথেন্সের মানুষের সাংঘাতিক ক্ষোভ ছিল সরকার ও বিভিন্ন সিস্টেমের প্রতি। কিন্তু সরকার গ্রিসের সীমান্ত একেবারে উন্মুক্ত করে দিয়েছে। সিরিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান থেকে যারা যাচ্ছেন সেখানে, তাদের জন্য সীমান্ত উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। তারা মেসিডোনিয়া থেকে সাইবেরিয়া, সাইবেরিয়া থেকে অস্ট্রিয়া হয়ে ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাচ্ছেন। এজন্য গ্রিক অভিবাসীদের খুব একটা মনোক্ষোভ নাই। এসব অভিবাসীকে রাস্তায় দেখা যায় না। এদের জন্য বিশেষ কিছু স্পট আছে। সেখানে তারা গিয়ে নামেন। সরকারও তাদের থাকার একটি জায়গা দিতে সহায়তা করে। ওরা যেখানে এসে নামেন সেখানে বাস থাকে। জয়নাল আবেদিন বলেন, বাসগুলো প্রাইভেট। বাসের ভাড়া হলো ৫০ থেকে ৬০ ইউরো। ওদের ব্যবসা শুরু হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বড় বড় বাস যাচ্ছে।

বিবিসি জয়নাল আবেদিনের কাছে জানতে চায়, আপনারা যারা ধরুন ওখানে (গ্রিসে) বহুদিন ধরে আছেন স্থায়ীভাবে, বৈধ হয়েছেন কিন্তু একই সঙ্গে আপনারা বিদেশী, অভিবাসী। তারা এ বিষয়টাকে কীভাবে দেখছেন? জবাবে জয়নাল আবেদীন বলেন, এখানে যারা বাংলাদেশী ছিলেন, পুলিশ তাদের হয়রানি করেছে, ফেলে রেখেছে তারা সবাই গ্রিস থেকে চলে গিয়েছেন। আমার মনে হয় শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ চলে গিয়েছেন। সবচেয়ে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো গ্রিক সরকার ৩০শে সেপ্টেম্বরের পরে যাদের ৭ বছরের ডকুমেন্টস আছে তাদের বৈধতা দেয়ার জন্য প্রজ্ঞাপন দিয়েছে। কিন্তু সেই প্রজ্ঞাপনে আগ্রহ নেই অভিবাসীদের। তাই তারা চলে যাচ্ছেন।

বিবিসি আরও জানতে চায়- অর্থাৎ আপনি বলতে চাইছেন যে, বাংলাদেশী যারা অবৈধ ছিলেন তারা এ শরণার্থীদের সঙ্গে চলে যাচ্ছেন? জবাবে জয়নাল আবেদীন বলেন, হ্যাঁ চলে যাচ্ছেন এবং চলে গেছেন। বিবিসি জানতে চায় তাদের সংখ্যা কত? জয়নাল বলেন, আমরা মনে করি ১০ থেকে ১৫ হাজার বাংলাদেশী অলরেডি চলে গেছেন। বিবিসি জানতে চায়- কোন আশায় তারা যাচ্ছেন? জবাবে জয়নাল আবেদনি বলেন, তারা মনে করেন যেহেতু গ্রিসে অর্থনৈতিক অবস্থা খুব খারাপ, অন্য দেশে অর্থনৈতিক অবস্থা ভাল। সেখানে গেলে বৈধতা পেতে পারেন। কাজকর্ম করে উন্নতি করার সুযোগ পাবেন। এমন সব আশা করেই তারা ওখানে যাচ্ছেন।

বিবিসির প্রশ্ন- তারা যাচ্ছেস কোন দেশে মূলত? জবাবে জয়নাল বলেন, জার্মানিতে। এখনও এসব মানুষের পার্মানেন্ট কাজ আছে গ্রিসে। কিন্তু বৈধভাবে থাকার কোন স্কোপ নেই। এমন সব লোকও কাজ ছেড়ে চলে গেছেন। বিবিসি প্রশ্ন করে- আপনি চেনেন এ রকম কাউকে যিনি গেছেন? জয়নাল বলেন, অনেক লোককে চিনি আমি। অনেককে চিনি। যারা গেছেন, গিয়ে আমাকেও টেলিফোন করেছেন। অনেকে ইতালি থেকে টেলিফোন করেছেন। ইতালিতে একটি পার্ক আছে। ওই পার্কে গ্রিস থেকে যাওয়া শুধু বাংলাদেশীরা অবস্থান করছেন। আমার দোকানেও একটা ছেলে কাজ করতো। সে আমার কাছে একদিনের ছুটি চায়। পরের দিনই খবর আসে যে, সে চলে গেছে। সে এখন জার্মানি গিয়ে পৌঁছেছে। গ্রিসে গার্মেন্ট আছে দুই শ থেকে আড়াই শ। এতেও অনেক মানুষ অবৈধভাবে ছিলেন। তারাও অনেকে চলে গিয়েছেন। গ্রিসে যেসব বাংলাদেশী ছোটখাটো ব্যবসা করেন তারাও এখন দুর্ভোগে। কারণ, কর্মচারী নাই।


এই বিভাগের আরও সংবাদ