ব্রেকিং নিউজ:

বৈশাখী উৎসবে বৈশাখী সাজ -৩য় পর্ব

সবসময় ডেস্কঃ ২০১৬-০৪-১২ ১১:০৩:৫১

বৈশাখে বাঙালিয়ানা সাজ ফুটিয়ে তুলতে পোশাকের সঙ্গে মেকআপ আর চুলের স্টাইল মানানসই হওয়া দরকার। নতুবা বৈশাখী সাজ অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আবার বৈশাখের মেকআপে অবশ্যই থাকা চাই বৈশাখের ছোঁয়া। যেহেতু এদিনটায় অনেক গরম পরে, তাই তা আগে থেকে মাথায় রেখে তার জন্যও ত্বকের নেয়া চাই বাড়তি যত্ন। আরও কত কি? এসবকিছুই যেন ঠিকঠাক হয় তার জন্য আমাদের আগেভাগেই পুরো বিষয়টি মাথায় রেখে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেয়া দরকার। বৈশাখের সাজ নিয়ে আমাদের ধারাবাহিক প্রতিবেদনের আজকের পর্বে আপনাদের জানিয়ে দেবো কি ধরনের প্রস্তুতি আপনার থাকা চাই।

বৈশাখের মেকআপ ও প্রস্তুতিঃ

আগের দিনঃ বৈশাখের দিন সতেজ থাকতে চাই যত্ন নেয়া চাই এখন থেকেই, বিশেষ করে আগের দিন একটু বাড়তি যত্ন নিতে হবে। যাতে সারাদিনের ক্লান্তির ছাপ বৈশাখের দিন আপনার সাজকে অসম্পূর্ণ না করে দেয়।

ব্লাকহেডসঃ খেয়াল রাখবেন, মুখে ব্লাকহেডস দেখা যাচ্ছে কি-না। তার জন্য এখনই প্রতিকার নিন।

সানবার্নঃ সানবার্ন থাকলে দু'দিন আগে ফেসিয়াল করিয়ে নিতে পারেন। এতে মুখের কালো ভাব অনেকটা কমে যাবে।

ব্রণের দাগ ও তেলতেলে ভাবঃ ব্রণের দাগ বা তেলতেলে ভাবের সমস্যা অনেকেরই আছে। এ সমস্যা এড়াতে কিছু ফেস প্যাক লাগাতে পারেন।
ফেস প্যাক লাগানোর আগে ম্যাসাজ ক্রিম, লোশন বা ক্লিনজার দিয়ে ৪/৫ মিনিট ম্যাসাজ করে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
এরপর ত্বক অনুযায়ী ফেসপ্যাক লাগান।

তৈলাক্ত ত্বকঃ

১। ডিমের সাদা অংশ, লেবুর রস, শসার রস একসঙ্গে মিশিয়ে মুখে লাগান।
১৫/২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

২। মসুর ডাল বাটা, শসার রস ও ডিমের সাদা অংশ মিশিয়ে লাগাতে পারেন।

৩। কাঁচা হলুদ, বেশন, শসার রস ও গাজরের রস ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগান।
কাঁচা হলুদ ত্বককে উজ্জ্বল করে।
তবে মনে রাখতে হবে, প্যাকে কাঁচা হলুদের পরিমাণ যেন খুবই কম থাকে।
নতুবা মুখ কালো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।

স্বাভাবিক ত্বকঃ

বেসন, গ্গি্নসারিন, গোলাপজল, অলিভওয়েল ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগান।
ধুয়ে ফেলার সময় ভালো করে ম্যাসাজ করে নিন।

শুষ্ক ত্বকঃ

সয়াবিনের গুঁড়া, দুধের সর, গাজরের রস ও সামান্য কাঁচা হলুদ মিশিয়ে প্যাক তৈরি করে লাগালে ভালো ফল পাবেন।

ব্রণের দাগ থাকলেঃ

শসার পেস্ট, গোলাপজল ও কাঁচা হলুদ মিশিয়ে মুখে লাগালে দাগ অনেকটা কমে যাবে।

বয়স্কদের জন্যঃ

মুলতানি মাটি, চন্দন কাঠের গুঁড়া, কাঁচা হলুদ, মাষকলাইয়ের ডাল, মুগ ডাল ভালো করে পেস্ট করে মুখে লাগাতে পারেন।
এতে ত্বকের কুচকানো ভাব কমে টানটানে ভাব আসবে।

মেকআপের সময়ঃ

সকালে ঘুম থেকে উঠে ক্লিনজার দিয়ে ভালো করে মুখ পরিষ্কার করে নিন।
এতে ত্বকের তেলতেলে ভাব চলে যাবে।
যাদের ত্বক অতিরিক্ত তেলতেলে তারা ফ্রিজে রাখা শসার রস ও মুলতানি মাটি মিশিয়ে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করে ধুয়ে ফেলুন।
দুটি বরফের টুকরা ভালো করে ঘষে নিন।

মেকআপের বেইজ অবশ্যই হালকা করবেন।
ভারী মেকআপ করলে ঘামে মেকআপ নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে।
কমপ্যাক্ট পাউডার লাগিয়ে নিন।
তবে আগে প্যানস্টিক লাগিয়ে ডার্কসার্কেলগুলো ঢেকে নিন।
চাইল সানব্লক মিক্সড কমপ্যাক্ট লাগাতে পারেন।
এতে আগে প্যানস্টিক লাগানোর প্রয়োজন নেই।

ট্রেডিশনাল সাজ আনতে টানাটানা করে কাজল বা লাইনার লাগাতে পারেন।

অনেকেই লাল শ্যাডো ব্যবহার করতে চাইতে পারেন।
এ ক্ষেত্রে মডার্ন ভাব আনতে ব্লাক শ্যাডো ভালো করে ব্লেন্ড করে লাল শ্যাডো লাগান।
এরপর ভারী করে লাইনার লাগান।

ফেস ভারী হলে ডার্ক ব্রাউন, কফি, মেরুন রঙের ব্লাশন ব্যবহার করতে পারেন।
এতে চোয়ালের ভারী ভাব কমে যাবে।

লিপস্টিক যদি লাল পরেন, সে ক্ষেত্রে ঠোঁটের বাইরের দিকে বাড়িয়ে লিপস্টিক লাগাবেন।
নতুবা ঠোঁট ছোট লাগবে।
ন্যাচারাল কালারের লিপস্টিকে ঠোঁট ভারী দেখাবে।

চোখে রেড শ্যাডো লাগালে লিপস্টিক অবশ্যই ন্যাচারাল রাখবেন।
মুখের সঙ্গে মানিয়ে পরতে পারেন ছোট বা বড় সাইজের টিপ।
তবে এ উৎসবে বড় টিপই বেশি মানায়।

চুলের সাজঃ

বৈশাখের প্রচণ্ড গরমে সারাদিনের সাজে বেণি ও খোঁপা করাটাই মনে হয় যুক্তিযুক্ত হবে। তবে ছাড়া চুলের ফ্যাশনও আকর্ষণীয় লাগবে যদি আপনি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিভিন্ন ধরনের খোঁপা করা যেতে পারে, যা শাড়ির সঙ্গে সুন্দরভাবে মানিয়ে যায়। যেমন_ 

ফ্রেঞ্চ রোল খোঁপাঃ ব্যাকব্রাশ করে সব চুল একদিকে আঁচড়ে ক্লিপ লাগাতে হবে।
চুলটা মুড়ে ফ্রেঞ্চ রোল করে ক্লিপ দিয়ে আটকে দিতে হবে।
ক্লিপ আটকানো হয় সেদিকে, যেখানে ফুল পরতে পারেন চুল বা খোঁপাকে ডেকোরেট করতে। 

চূড়া-জুড়াঃ সামনে সামান্য ব্যাক কম্ব করে, মাথার ওপরে সব চুল চূড়া করে তুলে পনিটেল করুন।
এবার চুলগুলো কার্ল করে সব কার্লচুল পিন দিয়ে চূড়ায় আটকে নিন। 

টুইস্ট বানঃ চুল সামনে ও পেছনে অর্ধেক ভাগ করে নিন।
সামনের চুল স্টিক কম্ব দিয়ে বেশ কয়েকটি সমান ভাগে ভাগ করুন।
চুলের প্রত্যেকটি ভাগ পেঁচিয়ে পেছনে এনে মাথার পেছনে পিন দিয়ে আটকান।
বাকি চুল দিয়ে ঘাড়ের কাছে খোঁপা করে নিন। 

বেণিঃ

ফিশ বেণিঃ মাঝখানে সিঁথি করুন।
দু'পাশের চুলের অল্প অল্প নিয়ে সাগর বিনুনি করুন।
একটু আলগা করে মাথার পেছনে আটকে দিন।
এভাবে খোলা চুলে পাঁচ গুছির খেজুর ছড়ির বিনুনি করুন। 

সাগর চটিঃ চুল তিন ভাগ করুন।
তিন গুছির বেণি শুরু করুন।
যতবার আপনি বেণি করবেন ততবার পাশের চুলের গুছি থেকে একটু চুল চিরে নিয়ে অন্য গুছিতে মিশিয়ে বেণি করুন।
এভাবে ডানে-বাঁয়ে চুল নিয়ে নিয়ে মিশিয়ে বেণি করে যান।
তিন গুছি বেণি হবে, কিন্তু চেহারাটা হবে অন্য রকম। 

হাই প্ল্যাট পনিঃ সামনের চুল মাঝখানে সিঁথি করে বাকি চুল পেছনে টেনে নিয়ে উঁচু করে পনিটেল করুন।
পনিটেলের চুলগুলোকে চিকন চিকন করে অনেকগুলো বেণি করুন।
ইচ্ছা করলে বাজারে কিনতে পাওয়া যাওয়া বেনুনি-উইগত ব্যবহার করতে পারেন।
হাই পনির কয়েকটি বেণি পেঁচিয়ে বাকিগুলো ঝুলিয়ে রাখুন।

বৈশাখের বর্ণিল সাজে আপনিও সামিল হোন। বাঙালীর প্রাণের এ উৎসবে মেতে উঠুন সবাই। নিজেকে পরিপূর্ণ বৈশাখী আমেজে সাজাতে আমাদের সাথেই থাকুন। আমাদের বৈশাখী সাজের সবগুলো প্রতিবেদন পড়ুন।

শেয়ার করে নিজে যেটা জানলেন বন্ধুদের কেও তা জানতে দিন।

আরও জান্তেঃ রূপচর্চা ও স্বাস্থ্যকথা BeautificatioN & HealtH

 

এই বিভাগের আরও সংবাদ