ব্রেকিং নিউজ:

পর্যটন উন্নয়নে নদী এবং জলাভূমি রক্ষা

সবসময় ডেস্কঃ ২০১৮-০১-০৮ ১২:৪২:৩৮

নদী যেমন মানব জীবনের জন্য সর্বক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তেমনিভাবে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।

পর্যটন শিল্প সমগ্র বিশ্বের নদী এবং পানির সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। বর্তমানে পর্যটনের নতুন নতুন ডাইমেনশন তৈরী হচ্ছে যেমনঃ ইকোট্যুরিজম, নদী ভিত্তিক পর্যটন, দুঃসাহসিক পর্যটন ইত্যাদি । এ ধরণের পর্যটন উন্নয়নের জন্য পানিই হচ্ছে মূল কেন্দ্রবিন্দু। কিছু কিছু দেশ পানি নির্ভর পর্যটন কর্মকান্ড যেমনঃ নদীতে প্রমোদ ভ্রমণ বা নৌবিহার, সমুদ্রে প্রমোদ ভ্রমণ বা সী ক্রুজিং, স্কুবাডাইভিং, স্নোরকেলিং, সার্ফিং, র‌্যাফটিং, বোট রোয়িং, সমুদ্রে মৎস ধরা এবং তা অবলোকন, আন্ডার ওয়াটার ওয়ার্ল্ড এক্টিভিটিজ, প্যারাগ্লাইডিং, প্যারাসেইলিং, বার্ড ওয়াচিং ইত্যাদি। পর্যটনের প্রধান আকর্ষণগুলো নদী নির্ভর যেমন: হাওর, বাওর, সমুদ্র, নদী, সমুদ্র তীর, ম্যাংগ্রোভ বন ভ্রমণ ইত্যাদি ইত্যাদি। প্রশান্ত অথবা আটলান্টিক মহাসাগর এর বুকে সী ক্রুজিং, মেডিটেরিয়ান সাগর অথবা অন্যান্য সাগর এবং বিভিন্ন প্রধান প্রধান নদী যেমন আমাজান, নীল নদ, রাইন নদী, চাওপ্রিয়া নদীতে নৌবিহার সত্যই মনমুগ্ধকর। অনেক উন্নত দেশ রয়েছে যেগুলো রাজধানী গড়ে উঠেছে সমুদ্র তীর, নদী বা জলাভূমির নিকট। কাশ্মীর এর ডাল লেক, কেরালার নদী এবং খাল, ইন্দোনেশিয়ার বালি, জাপানের ওকিনাওয়া, মালদ্বীপ, ফিজি, হাওয়াই, গাম্বীয়া, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মরিশাস, ওয়াশিংটনের মোজেস খাল ইত্যাদি হল বিশ্বের নামকরা পর্যটন গন্তব্য।

পূর্বে পর্যটন জলাভূমি কার্যক্ষমতা ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং উপস্থাপন অথবা তদারকির কার্যক্রম তেমন গুরুত্বারোপ করা হয়নি। কিন্তু কালের বিবর্তনে পর্যটন উন্নয়ন কর্মকান্ড যা বিভিন্ন দেশে উন্নীত হয়েছে সেখানে নদী, সাগর, হাওর এবং অন্যান্য জলাভূমি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে ।

বাংলাদেশ হচ্ছে নদীমাতৃক এবং জলাভূমির দেশ যেমন টাংগুয়া হাওর এবং হাকালুকি হাওর (উভয়টি রামসার সাইট), বাইক্ষার বিল ইত্যাদি। এই হাওরের পানি শান্ত এবং স্নিগ্ধ এবং তার তীরসমূহ সবুজ বেষ্টিত। এখানে ভ্রমণকারীরা আসে পানি দেখতে এবং তাজা মাছের স্বাদ নিতে। কিছু কিছু ট্যুর অপারেটরগণ যেখানে নৌবিহারের অফার দিয়ে থাকেন। অনেক বিদেশি পর্যটক টাংগুয়া হাওরকে তাঁদের জীবনের বিশেষ অভিজ্ঞতা বলে ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশ শত শত সর্পিলাকার নদী এবং খালের জন্য বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত। এটি আরো বিখ্যাত নৌবিহারের জন্য। বাংলাদেশে রয়েছে বিখ্যাত নদী যেমন- পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, কুশিয়ারা ইত্যাদি। ৪৯তম কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি এসোসিয়েশনের (CPA) সম্মেলন ২০০৩ সালে ঢাকা, বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত  হয়েছিল। এ সম্মেলনে অনেক বিভিন্ন দেশের সাংসদ, মাননীয় মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। এসকল সম্মানীত অতিথিদের জন্য বাংলাদেশ আয়োজন করেছিল ঢাকা টু চাঁদপর নৌবিহারের। তাঁরা এই নৌবিহার খুব উপভোগ করেছিলেন এবং তাঁদের দারুণ অনুভূতি হয়েছিল। এ নৌবিহারে আমি আমত্যবর্গের সাথে হোস্ট অফিসার হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলাম।

পানি, হাওর এবং জলাভূমি বাংলাদেশের পর্যটন উন্নয়নের ক্ষেত্রে এক বিরাট সম্ভাবনার দ্বার উম্মোচন করতে পারে। যেহেতু নদীর দু’ধারে হাজার হাজার গ্রাম এবং স্থানীয় বাজার গড়ে উঠেছে তাই এখানে নৌবিহার খুবই জনপ্রিয়। পর্যটকরা নদীর পাড়ের দিগন্তবিস্তৃত শস্যাদি অবলোকন করতে পারে। তারা মাঠে কর্মরত স্থানীয় লোকদেরকে অবলোকন পারে। তাছাড়া, ইলিশ মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের কাছে একটি প্রধান আকর্ষণ।