ব্রেকিং নিউজ:

রিজার্ভ কাজে আসছে না বিনিয়োগকারীদের

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৪-২১ ১৩:৪২:৫৯

সমাপ্ত অর্থবছর (২০১৩-২০১৪ সাল জুলাই-জুন) শেষে যে সব কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের জন্য ডিভিডেন্ড দিয়েছে তার অধিকাংশতেই আগের বছরের তুলনায় নেতিবাচক। কোম্পানিগুলো ভবিষ্যত সমস্যা থেকে উত্তরণ জন্য রিজার্ভ সংরক্ষণ করলেও বাস্তবে বিনিয়োগকারীদের কোনো কাজে আসেনি বলে জানান শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা।

তারা জানান, আগের বছরগুলোতে আয়ের কিছু অংশ বিনিয়োগকারীদের প্রদান না করে রিজার্ভ হিসেবে রেখেছিল বেশ কিছু কোম্পানি। শেষ বছর কোম্পানিগুলোর আয় কম হওয়ার পরেও সেই রিজার্ভ থেকে দেয়া হয়নি ডিভিডেন্ড। বরং বেশ কিছু কোম্পানি হতভাগা বিনিয়োগকারীদের কথা না ভেবেই শেষ অর্থবছরে (২০১৩-২০১৪ সাল জুলাই-জুন) রিজার্ভমুখী ছিল বলে জানান তারা।
শেয়ারবাজার তালিকাভুক্ত অনেক কোম্পানি আছে যাদের রিজার্ভ পরিশোধিত মূলধনের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। এইসব কোম্পানির দাবি তারা রিজার্ভকৃত অর্থ দ্বারা কোম্পানির কার্যপরিধি বড় করে। রিজার্ভকৃত অর্থ তারা বসিয়ে রাখে না বলে তারা দাবি করে আসছে। কিন্তু কার্যপরিধি বড় করলেও কোনো ধরনের ফল পাওয়া যায় না। যার কারণে কোনো বছর আয়ের পরিমাণ কমে গেলেই ডিভিডেন্ড কম নিতে হয় বিনিয়োগকারীদেরকে। যাতে করে রিজার্ভ নিয়ে ক্ষোভ সৃষ্টি হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বলে মনে করেন।
বড় বড় রিজার্ভকৃত কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তাদের তালিকাভুক্তির সময় যে পরিমাণ শেয়ার প্রতি আয় করেছে এখনো বড় রিজার্ভ ব্যবহার করেও আয় সেই একই রকম। কোম্পানির ডিভিডেন্ড প্রদানেও কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। তাছাড়া শেষ অর্থবছরে আয়ে নেতিবাচকতার জন্য অধিকাংশ কোম্পানিতে কম ডিভিডেন্ড প্রদান করতে দেখা যাচ্ছে। তাহলে আগের বছরগুলোতে যে দুর্যোগ মোকাবেলা করার জন্য রিজার্ভ রাখা হয়েছে তা বাস্তবে কাজে লাগছে না। 
যারা কোম্পানির ভালোমন্দের কথা সবসময় বিবেচনা করে। কিন্তু বিনিয়োগকারীরা বিপদে পড়লে কোম্পানি তা বিবেচনা করে না। যদি তাই হবে তাহলে বিনিয়োগকারীদের কি উদ্দেশ্যে শেয়ার ক্রয় করে কোম্পানির সম্প্রসারন করে। আসলে এর পিছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে যারা কোম্পানি পরিচালনার নেতৃত্বে থাকে। কারণ তারা বিনিয়োগকারীদেরকে কোম্পানির অংশ ভাবতে পারে না।
কোম্পানির উদ্যোক্তা যদি ভালো হয় যার কাছে রিজার্ভ নিরাপদ বলে মনে হবে সেই কোম্পানিতে রিজার্ভ করার পক্ষে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট রকিবুর রহমান। আর তা মনে না হলে রিজার্ভ ভেঙ্গে ডিভিডেন্ড দেওয়ার পক্ষে তিনি। তাছাড়া কোম্পানির প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হলেও রিজার্ভ করা যেতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
কোনো কোম্পানি যদি ব্যবহার না করে তাহলে প্রতিবছর রিজার্ভ বাড়ানোর বিপক্ষে তিনি। তবে কোম্পানিগুলোর রিজার্ভ নিয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেন। 
এদিকে রিজার্ভ ব্যবহার করা হচ্ছে বলে পরিচালকরা যে দাবি করে আসছে তা মানতে নারাজ বিনিয়োগকারীরা। তাদের মতে, পরিচালকরা রিজার্ভ প্রকৃত পক্ষে ব্যবহার করে না। তারা শুধুমাত্র নামে বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদনে লিখে রাখে কিন্তু নিজেদের কাজেই রিজার্ভ ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগকারীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই কোম্পানি যদি রিজার্ভের অর্থ ব্যবহার না করে তাহলে রিজার্ভ করার দরকার নেই বলে মনে করেন ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা।


এই বিভাগের আরও সংবাদ