ব্রেকিং নিউজ:

দুই বাংলার জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্য আর নেই

সবসময় ডেস্কঃ ২০১৫-০৫-১৩ ১৮:৩১:৪৭

পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্য আর নেই। কলকাতার ঢাকুরিয়া এলাকার নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার ভারতীয় সময় রাত ১১ টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৬৫ বছর।

বুধবার সুচিত্রার একমাত্র মেয়ে ব্যাঙ্গালুরু থেকে ফিরলে শেষকৃত্যানুষ্ঠান সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। অসংখ্য পাঠকপ্রিয় বইয়ের কল্যাণে তিনি দুই বাংলায় বেশ সুপরিচিত ছিলেন এই খ্যাতিমান লেখিকা। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাহিত্য সংস্কৃতি অঙ্গণে শোকের ছায়া নেমে আসে।

তার কলমের ছোঁয়ায় আর কখনও উড়বে না কোন হেমন্তের পাখি. চলে গেলেন তিনি। নিরবে নিভৃতে চলে গেলেন সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্য। কলকাতার নিজ বাসভবনে মঙ্গলবার শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রতিথযশা লেখিকা। তার মৃত্যুর খবর যেন বজ্রাঘাতের মতো। এই দেখা দিলেন, এই চলে গেলেন। তিনি এভাবে চলে যাবেন, তা ভাবেনি কেউ। পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক সুচিত্রা ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবর পেয়ে এভাবেই নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন অগ্রজ সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। একই ধরণের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন বাণী বসু এবং তিলোত্তমা মজুমদার।

পারিবারিক সূত্রের বরাত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়। সুচিত্রার কখনোই গতানুগতিক লেখার স্রোতে গা ভাসাননি। বরং তার লেখায় প্রাধাণ্য পেয়েছে বাস্তবতা, শহুরে মধ্যবিত্ত জীবনের টানাপোড়েন, নারীদের নিজস্ব জগতের যন্ত্রণা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের নানা জটিলতার চিত্র। তবে নারীরা ছিলো তার লেখার প্রিয় বিষয়। জীবদ্দশায় তিনি মোট ২৪টি উপন্যাস লিখেছেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, কাছের মানুষ, দহন, কাঁচের দেয়াল, অলীক সুখ ইত্যাদি। এছাড়া বেশ কয়েকটি ছোটগল্পও রচনা করেছেন তিনি। এসব পাঠকপ্রিয় বইয়ের কল্যাণে তিনি পশ্চিমবঙ্গের পাশাপাশি বাংলাদেশী পাঠক মহলেও বেশ প্রিয় নাম ছিলেন। তার গোয়েন্দা চরিত্র মিতিন মাসি দুই বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।

১৯৫০ সালে বিহার রাজ্যের ভাগলপুরে এক মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সুচিত্রা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ডিগ্রীধারী সুচিত্রার লেখালেখির জগতের সঙ্গে পরিচয় কম বয়স থেকেই। বিয়ের সময় কিছুটা বিরতি পরলেও পরে আবার নতুন উদ্যোমে লিখতে শুরু করেন। তবে জনপ্রিয়তা দেখা মেলে নব্বইয়ের দশকে। কাঁচের দেয়াল, হেমন্তের পাখি, নীল ঘূর্ণির মতো সফল উপন্যাসগুলো সে সময় প্রকাশিত হয়। ২০০৪ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে নিজেকে পুরোপুরি লেখালেখিতে মনোনিবেশ করেন। তার লেখা দহন, অলীক স্বপ্নসহ আরো কয়েকটি উপন্যাস অবলম্বনে কলকাতায় চলচ্চিত্র নির্মাণ হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশেও নির্মিত হয়েছে ধারাবাহিক নাটক। সাহিত্য সেতু পুরস্কার, শরৎ পুরস্কারসহ বেশ কটি সম্মাননায় ঝুলি ভরেছেন তিনি।


এই বিভাগের আরও সংবাদ