ব্রেকিং নিউজ:

পুরান ঢাকার ঐতিহ্য চকবাজারের ইফতার

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৬-২০ ১৬:৪৬:০৪

রমজান এলেই ব্যস্ত হয়ে পড়ে চকবাজার। ব্যস্ততা থাকে পুরো মাস। ইফতারির ঐতিহ্যের প্রসঙ্গ এলেই সবার আগে উচ্চারিত হবে চকের নাম। চকবাজারের ইফতারির খ্যাতি আর ঐতিহ্যের কথা এখন আর কারও অজানা নেই। শুধু ইফতার সামগ্রী নিয়ে এমন বাজার আর দেশের কোথাও বসতে দেখা যায় না। ১শ’ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে চকবাজারের ইফতার সামগ্রীতে। মিডিয়ার কল্যাণে চকবাজারের ইফতারির কথা পৌঁছে গেছে দেশের আনাচে কানাচে।

রমজান উপলক্ষে চকবাজার এখন জমজমাট। বাহারি সব আইটেম নিয়ে এখন প্রতিদিন বসে ইফতারির বাজার। সব আইটেম ছাড়িয়ে যে নাম সবার মুখে মুখে আসে তা হলো ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়।’ দুপুরের পর থেকেই হাঁকডাকের মাধ্যমে বিক্রি হয় ‘বড় বাপের পোলায় খায়, ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায়।’ সুপরিচিত হাজী শহীদ বাবুর্চির এক পদের খাবারের নাম এটি। দোকানের কর্মচারীরা জানালেন, এটি পুরনো ঢাকার শত বছরের ঐতিহ্যবাহী খাবার। তৈরি হয় ৩৬ প্রকারের উপকরণ আর ১৮ রকমের মসলা দিয়ে। চকের এ দোকানের সামনে দেখা গেল প্রচ- ভিড়। হুড়োহুড়ি করে অনেকেই বড়বাপের পোলায় খায় ইফতারি কিনছে।
তবে অনেকের মতে চকের ইফতারি বাজারের বয়স চার শ’ বছরের পুরনো। ইতিহাসবিদের মতে, ঢাকার বয়সের সমান চকবাজারের ইফতারির বাজার। তাঁদের মতে, ১৭০২ সালে ঢাকার দেওয়ান মুর্শিদ কুলি খাঁ চকবাজারকে আধুনিক বাজারে পরিণত করেন। তখন থেকেই প্রতি রমজানে চকবাজারে জমকালো ইফতারি বাজার বসে। সেই থেকে আজও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে চলেছে। সম্প্রতি চকের ঐতিহ্য যেন আরও বেড়েছে। চার শ’ বছরের পুরনো হলেও চকবাজারের ইফতারের নামডাক ছিল সব সময়। এখনকার ইফতার সামগ্রীও উৎকৃষ্ট মানের। বংশ পরম্পরায় তৈরি হয় চকের ইফতারি।

যুগ যুগ ধরে ইফতার তৈরির একই ধারা এখানে চলে আসছে। সুতি কাবাব, জালি কাবাব তৈরি হয় সেই মুঘল ধাঁচে। আস্ত মুরগির রোস্ট, কবুতর রোস্ট, বঁটি কাবাব, জালি কাবাব, সুতি কাবাবের পাশাপাশি চকবাজারে উঠেছে আস্ত খাসির কাবাবও। রয়েছে নানা ধরনের শরবত আর ফলের পসরা। আম, কাঁঠাল, বাঙ্গি, পেয়ারা, আপেল, নাশপাতি সবই আছে সেখানে।
বড়বাপের পোলায় খায় ঠোঙ্গায় ভইরা লইয়া যায় আইটেমের পরে যে নাম আসে তা হলো চকবাজারের শাহি জিলাপি। এক থেকে পাঁচ কেজি পর্যন্ত ওজন হয় একেকটি শাহি জিলাপির। বড় তাওয়ায় বিশেষভাবে তৈরি এসব জিলাপি বিক্রিও হয় প্রচুর। প্রতি কেজি ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয় শাহি জিলাপি। এছাড়া চকবাজারের মজাদার অন্য আইটেমের মধ্যে রয়েছে ডিমচপ, কচুরি, ফুলরি, সমুচা, পনির সমুচা, পেঁয়াজু, আলুর চপ, বেগুনি, ছোলাবুট, ডাবলি, মুরগির রোস্ট, খাসির লেগ রোস্ট পিস। এছাড়াও পেঁপে, আতা, আনারস, বিলেতি গাব থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের ফল, পিঠা, পায়েস, মিষ্টিসহ ইফতারের নানা সামগ্রী প্রতিদিন বিক্রি করা হচ্ছে চকবাজারে। পুরনো ঢাকার বাসিন্দাদের চকের ইফতার সামগ্রী দিয়ে ইফতার করা চিরাচরিত নিয়মে পরিণত হয়েছে। উপহার হিসেবেও পাঠানো হচ্ছে এই ইফতার। বাসায় তৈরির পাশাপাশি চকের খাবার দিয়েও ইফতার করেন তাঁরা।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে বড় বাপের পোলায় খায় ইফতার। এ ইফতারটি ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। সুতি কাবাব বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে সাড়ে ৫শ’ টাকা কেজি দরে। গত বছর যা ছিল ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি। কোয়েল পাখি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা পিস। গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। মুরগি ২৫০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবজি জাতীয় ইফতার আইটেম ৪ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। দইবড়া কেজি ১৫০ টাকা থেকে ১৮০, ফালুদা ২২০ থেকে ২৩০ টাকা বাটি বিক্রি হচ্ছে। রেশমি ও শাহী জিলাপি (বড়) পিস ২শ’ থেকে ৪শ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে চকে ধনিয়া পাতা, পুদিনা পাতা, শসা থেকে শুরু করে বিভিন্ন সালাদ সামগ্রীও বিক্রি হতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা বাহিনীকে টহল দিতে দেখা গেছে।


এই বিভাগের আরও সংবাদ