ব্রেকিং নিউজ:

নিখোঁজ একছাত্রের মৃতদেহ উদ্ধার

জাফলং এখন মৃত্যুকূপ

সবসময় প্রতিবেদকঃ ২০১৫-০৭-২৫ ১৩:৩৬:৪১

প্রকৃতিকন্যা সিলেটের পর্যটন কেন্দ্র জাফলং। তবে দিনদিন এখানে বেড়েই চলছে পর্যটকদের মৃত্যুর সংখ্যা। গত এক যুগে ৩০ জন পর্যটকের মৃত্যু হলেও স্থানীয় প্রশাসন রয়েছে সুখ নিদ্রায়। নিহতের কোনো তথ্য প্রশাসনের কাছে নেই। প্রতিবছর ঈদ আসলে পর্যটকদের সচেতন করার জন্য মাইকিং, সর্তক বার্তা লেখা কয়েকটি সাইন বোর্ড টানিয়ে দায়মুক্ত। সর্বশেষ গত বুধবার বিকেলে ঢাকার কবি কাজী নজরুল কলেজের একাদশ শ্রেণীর দুই শিক্ষার্থী বেড়াতে এসে নিখোঁজ হন। শুক্রবার রাত পৌনে ১১টায় নিখোঁজ শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ অন্তরের (১৮) মরদেহ উদ্ধার করা হলেও অপরজনের খোঁজ মেলেনি।

গোয়াইনঘাট উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালাহ উদ্দিন জানান, দুই শিক্ষার্থীর একজনকে উদ্ধার করা হলেও আরেকজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান চলছে।

সিলেট ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে বেড়াতে আসা দুই শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে সিলেট ফায়ার সার্ভিসের তিটি ইউনিট ও স্থানীয় একটি ইউনিট কাজ করছে। তবে ঘন ঘন বৃষ্টি ও স্রোত বেশি থাকার কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, গত এক যুগে ৩০ জন পর্যটকের মৃত্যু হলেও প্রশাসনের কাছে নিহতের কোনো তথ্য নেই। ঈদ আসলেই পর্যটকদের সচেতন করার জন্য মাইকিং, সর্তক বার্তা লেখা কয়েকটি সাইন বোর্ড টানানো হয় মাত্র।

তবে গত বছর জাফলংয়ের পিয়াইন নদীতে পর্যটকদের সাঁতার কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সালাহ উদ্দিন।

এ পর্যন্ত কতজন পর্যটক মারা গেছেন- এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘কতজন পর্যটক মারা গেছেন তা আমাদের জানা নেই। তবে আপনি ভালো একটি প্রশ্ন করেছেন। শিগগিরই একটি তালিকা কররো।’

বিভিন্ন গণমাধ্যম ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক যুগে ৩০ জন পর্যটক প্রাণ হারিয়েছেন। সর্বশেষ গত বুধবার ঢাকা কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ হন। ২০০৩ সালের ১৫ আগস্ট জাফলংয়ে সলিল সমাধি ঘটে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রেজাউর রহমান ফয়সাল ও রাজন আহমদের। ২০০৬ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি গোয়াইনঘাট উপজেলার মুসা মিয়া, ১৬ আগস্ট একই উপজেলার ফখরুল ইসলাম, ২০০৮ সালের ৯ নভেম্বর ঢাকা পল্লবী এলাকার দিলশাদ আহমেদ, ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি হবিগঞ্জ বানিপুর এলাকার ইউনুছ মিয়া, ৮ মে ঢাকা মিরপুরের ফারুক আহমদ, ২১ জুন নরসিংদী সদর এলাকার সজিব মিয়া, ২০১০ সালের ২৩ মার্চ ঢাকার খিলগাঁও এলাকার তারেক আহমেদ, ২০ মে গোয়াইনঘাট উপজেলার রফিকুল ইসলাম ও গৌরাঙ্গ কর্মকার, ২২ মে ঢাকার শাহরিয়ার আহমেদ রাব্বি, ২ জুলাই ঢাকার তেজগাঁও এলাকার শাহরিয়ার শফিক, ৩০ জুলাই জামালপুরের মাদারগঞ্জ এলাকার মুস্তাকিন তালুকদার ও ১২ সেপ্টেম্বর ঝালকাঠির রুহুল আমিন খান রুমি মারা যান।

এছাড়া ২০১২ সালের ২২ আগস্ট ঢাকার ফাহাদ উদ্দিন, ৩০ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া এলাকার হিমেল রাজ সঞ্জয়, ২০১৩ সালের ১৭ আগস্ট ঢাকার শনিরআখড়া এলাকার শুভ আহমদ, ২৫ অক্টোবর ঢাকার যাত্রাবাড়ীর কলেজ ছাত্র ইমরান হোসেন, ২০১৪ সালের ৩০ মে মাদারীপুর সদর উপজেলার চলকিপুর গ্রামের মো. ইব্রাহিম, আগস্টে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিছামনি গ্রামের খুর্শেদ মিয়ার ছেলে সাকিল, একই উপজেলার বিলবরনগর গ্রামের বাছির মিয়ার ছেলে মামুন, গুলবাড়ি গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সাদেক হোসেন ও সিলেট নগরীর শাহী ঈদগাহের খুরশেদ আলমের ছেলে কামরুল ইসলাম মারা যান।

স্থানীয়দের দেয়া তথ্য অনুযায়ী ২৯ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেলেও এক জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রকৃতির চাঁদর মোড়ানো ভারতের মেঘালয় পর্বতের পাদদেশে অবস্থিত নৈস্বর্গিক সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি জাফলং নিয়ে দিন দিন পর্যটকদের আগ্রহ বাড়ছে। প্রতি বছর ঈদের ছুটি ছাড়াও শীতে হাজার হাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের পদভারে মুখরিত হয়ে উঠে জাফলং। ভ্রমণপিপাসুরা ইচ্ছেমতো জাফলং ঘুরে বেড়ান আর পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে সাঁতার কাটেন। আর তখনই ঘটে বিপত্তি।

তবে পর্যটকদের সংখ্যা বাড়লেও তাদের জন্য থাকে না কোনো দিক নির্দেশনা। ফলে দিন দিন অপমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েই চলছে।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য বিভিন্ন সময় সাইন বোর্ড, বিলবোর্ড সাঁটানোসহ নানা উদ্যোগ নিয়ে থাকি। কিন্তু কেউ আমলে নেয় না।’

তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের সতর্ক করার জন্য পুলিশ প্রশাসন ও বিজিবি সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের নির্দেশ অমান্য করে অনেকে সাঁতার কাটতে নামেন। সাঁতার না জানার কারণেই পর্যটকরা পানিতে ডুবে মারা যান।’