ব্রেকিং নিউজ:

দুর্ভাগ্যজনক হলো এতে আমি কাঁদবো নাঃ শাহিরা বেরি

পর্নো সাইটে বাংলাদেশের শাহিরার নগ্ন ছবিতে সয়লাব!

সবসময় ডেস্কঃ ২০১৫-০৮-২০ ১৯:৫৭:৫৭

বিস্মিত বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আইরিশ মডেল, অভিনেত্রী শাহিরা বেরি। তার নগ্ন ছবিতে ইন্টারনেট সয়লাব। এমনকি পর্নো সাইটগুলোতে হরহামেশাই দেখা যাচ্ছে তার টপলেস বা উন্মুক্ত বক্ষের ছবি। এতে শাহিরার মাথায় হাত উঠেছে। তিনি তো কখনও এমন পোজ দেন নি। কোন সাইটকে এমন ছবি সরবরাহ করেন নি। কোন সাইট তার কাছে অনুমতি চায় নি। অবশেষে যাচাই করে তিনি যা বুঝলেন তা হলো, ওই ছবিগুলো তার নয়। তার দেহের সঙ্গে অন্য নারীর উন্মুক্ত স্থানগুলো কম্পিউটারের কারসাজির মাধ্যমে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে পশ্চিমা বিশ্ব গত কিছুদিন ধরেই সরগরম।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে বিখ্যাত প্লেবয় ম্যানসনে হিউ হেফনারের আমন্ত্রণে গিয়ে রীতিমতো ঝড় তুলে ফেলেছিলেন এই শাহিরা। তাকে তখন  প্লেবয় ম্যাগাজিনের জন্য পোজ দেয়ার প্রস্তাবও দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি বুড়ো প্রেমিক হিউ হেফনারের নৈশভোজে যোগ দিলেও তার শেষ টোপটি গেলেন নি। এই শাহিরার নামডাক এখন দেশে-বিদেশে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে। সব মিডিয়ায় তাকে নিয়ে রিপোর্ট। বাংলাদেশ, ফিলিপাইন, যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, যুক্তরাজ্য সহ অনেক দেশের মিডিয়া তাকে নিয়ে নিয়মিত সংবাদ প্রকাশ করছে। এর মধ্যে দৈনিক মানবজমিন প্রথম শাহিরাকে নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করে।

বর্তমানে তিনি ব্যস্ত রয়েছেন সিনেমায় অভিনয়, গানে পারফর্ম করা নিয়ে। এক বছরের বেশি সময় অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যানজেলেসে। সেখানে তিনি সম্প্রতি কাজ করেছেন গায়িকা ক্রিস্টিনা মিলিয়ানের সঙ্গে। আয়ারল্যান্ডের অনলাইন গস খবর দিয়েছে যে, শাহিরা বেরি বসবাস করতেন সেদেশের গ্যালওয়েতে। এ জন্য তাকে স্থানীয়রা গ্যালওয়ে বিউটি নামেও অভিহিত করে থাকেন।

তিনি ওই সাইটকে বলেছেন, সম্প্রতি আমি গুগলে গিয়ে আমার নাম লিখে সার্চ দিলাম। উদ্দেশ্য আমাকে নিয়ে কোথাও কিছু লেখা হয়েছে কিনা। কিন্তু আমি যা দেখলাম তাতে চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। হায় হায় কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভেসে উঠলো আমার অসংখ্য ছবি। কিন্তু সে ছবিগুলো আমার নয়। আমার ছবি কম্পিউটারের কারসাজি করে নগ্ন ছবি বানানো হয়েছে। তা আবার পোস্ট করা হয়েছে পর্নো সাইটগুলোতেও। প্রথমবার ছবিগুলো দেখলে মনে হতে পারে এটি আমার ছবি। কিন্তু না। কোথাও কোথাও একেবারে বিবস্ত্র করে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলছি এ ছবিগুলো আমার নয়। আমি মডেলিংয়ে যে ছবি তুলে থাকি তা আমার ফেসবুকে পোস্ট করে দেই।

এ বিষয়ে আবার প্লেবয় ম্যানসন নিয়মিত তাকে বলে থাকে, তার ছবি যেহেতু আগে থেকেই ইন্টারনেটে পাওয়া যায়, লোকজন ব্যবহার করে এ নিয়ে তার আহত হওয়ার কিছু নেই। তবে এবার শাহিরা অনেকটা শঙ্কিত। কারণ, তিনি ভবিষ্যতে নতুন কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করতে গেলে তারা তাকে পর্নোতারকা ভেবে বসতে পারে।

এ বিষয়ে শাহিরা নিজেই বলেন, দুর্ভাগ্যজনক হলো এতে আমি কাঁদবো না। কারণ, এর আগে কিছু মানুষ আমার নামে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে আমার পরিচয় ব্যবহার করেছে। ডেটিং দেয়া সাইটগুলোতে ব্যবহার করেছে। কিন্তু আমার ভয় হলো, কেউ যদি গুগলে গিয়ে আমাকে সার্চ করে এই ছবিগুলো পায় তাহলে তারা তো আমাকে পর্নোতারকা ভেবে বসতে পারেন। এতে আমার প্রতি অনেক মানুষের ঘৃণা জন্মাতে পারে। 

শাহিরা বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আইরিশ। তিনি পড়াশোনা করে হতে চেয়েছিলেন প্রাইমারি স্কুলশিক্ষিকা। এ জন্য পড়াশোনা শুরু করেন। আয়ারল্যান্ডের অভিজাত মেরি ইমাকুলেট কলেজ থেকে ২০১১ সালে অর্জন করেন গ্রাজুয়েশন। শিক্ষায় অর্জন করেন ব্যাচেলর ডিগ্রি। পড়ালেখার প্রতি তার বেশ ঝোঁক ছিল। কিন্তু ভবিষ্যৎ হিসেবে অকস্মাৎ তিনি বেছে নেন বিনোদন জগৎকে। এসব কথা লেখা হয়েছে তার নিজস্ব ওয়েবসাইটে। এতে তিনি আরও লিখেছেন, তিনি আয়ারল্যান্ডে মডেলিং শুরু করেন। শুরু করেন অভিনয়। কিন্তু হলিউডে যাওয়ার পর তিনি নিজেকে মডেল থেকে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সার্বক্ষণিক কঠোর পরিশ্রম করে যেতে থাকেন। রেকর্ড সময়ের মধ্যে তিনি অর্জন করেন এসএজি। এরই মধ্যে তিনি নিজস্ব স্টাইল ধরনের জন্য কিম কার্দাশিয়ান ওয়েস্ট-এর প্রতিনিধি হিসেবে অবস্থান করে নিয়েছেন। এমনি করে যখন তার ক্যারিয়ার এগিয়ে চলেছে তখন তার সাক্ষাৎকার নেয়ার জন্য টেলিভিশন চ্যানেলগুলো পিছু পিছু ঘোরে। এর মধ্যে রয়েছে আয়ারল্যান্ড অ্যাম। প্লেবয় ম্যানসনে গেলেই তার সাক্ষাৎ হয় হিউ হেফনারের সঙ্গে। বলা যায়, তিনি হেফনারের ব্যক্তিগত অতিথিতে পরিণত হয়েছেন।

শাহিরা যেসব মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে এনরিক ইংলেসিয়াস, ব্রুনো মারস, ক্রিস ব্রাউন, নিকি মিনোজ, টিওয়াইজিএ, বোন থাগস এন হারমনি, আকন, ম্যাজিক, আভিচ্চি, ম্যারুন ৫, স্কুলবয় কিউ, সেলিনা গোমেজ, কিগো, ক্রিস্টিনা মিলিয়ান, ডি লা ঘেতো, মাইক উইল এফটি ফিউচার, সোই লি অ্যান্ড দ্য উইকঅ্যান্ড, ওমারিয়ন এফটি ফ্রেঞ্চ মন্টানা অ্যান্ড কিড ইঙ্ক। মডেলিং করেছেন লন্ডনে। যুক্তরাজ্যে পুরুষদের সবচেয়ে বড় ম্যাগাজিন ‘লোডেড ম্যাগাজিন’-এ মডেল হয়েছেন।


এই বিভাগের আরও সংবাদ