প্রথমার্ধে ছিল লিওঁর নিয়ন্ত্রণ, দ্বিতীয়ার্ধে পুরো ম্যাচটাই হয়ে গেল বার্সেলোনার। বিরতির পর দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে ফরাসি জায়ান্ট অলিম্পিক লিওঁকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করে নারী চ্যাম্পিয়ন্স লিগের মুকুট আবারও নিজেদের মাথায় তুলেছে বার্সেলোনা।
শনিবার (২৩ মে) নরওয়ের উলেভাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরুতে বেশ চাপে ছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি।
ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে লিওঁ আক্রমণের পর আক্রমণ চালালেও গোলের দেখা পায়নি। একবার তো ওয়েন্ডি রেনারের হেড জালে জড়িয়েও ভিএআরের কারণে বাতিল হয়। সেই সুযোগ হাতছাড়া করাই শেষ পর্যন্ত কাল হয়ে দাঁড়ায় আটবারের ইউরোপসেরা দলটির জন্য।
বিরতির পর যেন সম্পূর্ণ নতুন রূপে মাঠে নামে বার্সা। মাঝমাঠে গতি বাড়িয়ে দ্রুত আক্রমণে যেতে থাকে তারা। ৫৫ মিনিটে পাত্রি গুইহারোর দারুণ পাস থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন পোল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ইভা পায়োর। এরপর ৬৯ মিনিটে লিওঁর রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি।
দুই গোল হজমের পর ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি লিওঁ। বরং শেষ দিকে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে বার্সা। নির্ধারিত সময়ের শেষ মুহূর্তে দূরপাল্লার শটে তৃতীয় গোল করেন সালমা পারালুয়েলো। যোগ করা সময়েও পাল্টা আক্রমণ থেকে আরেকটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন এই স্প্যানিশ তারকা।
শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্টেডিয়ামে শুরু হয় বার্সা সমর্থকদের উল্লাস। চতুর্থবারের মতো ইউরোপ সেরা হওয়ার আনন্দে মাতেন খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা। এই শিরোপা বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে নরওয়েজিয়ান উইঙ্গার ক্যারোলিন গ্রাহাম হ্যানসেনের জন্যও। নিজের শহরের মাঠে ইউরোপ সেরা হওয়ার অনুভূতিকে তিনি আখ্যা দিয়েছেন ‘স্বপ্নপূরণ’ হিসেবে।
অন্যদিকে, নবম শিরোপার আশা ভেঙে হতাশ লিওঁ শিবির। দলের অভিজ্ঞ তারকা আডা হেগারবার্গ ম্যাচ শেষে স্বীকার করেন, সুযোগ তৈরি করেও কাজে লাগাতে না পারাই তাদের পরাজয়ের বড় কারণ।
Leave a Reply