ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নাগরিকত্ব সংশোধন আইন (সিএএ) কার্যকরের প্রক্রিয়া শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, গত বছর কেন্দ্রীয় সরকারের তরফ থেকে যে নির্দেশিকা পশ্চিমবঙ্গে পাঠানো হয়েছিল তা আগের রাজ্য সরকার কার্যকর করেনি। রাজ্যে প্রথমবার ক্ষমতায় এসে বিজেপি সরকার সিএএ আইন কার্যকর করল।
আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়, শুভেন্দু বুধবার (২০ মে) সকালে উত্তরবঙ্গে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। বিএসএফ এর কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। এ দিন সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দিতে বিএসএফের হাতে রাজ্যের ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ জমিও তুলে দিয়েছেন নতুন মুখ্যমন্ত্রী। এর পরেই অনুপ্রবেশ নিয়ে মুখ খোলেন।
তিনি বলেন, বিএসএফের সঙ্গে সুদৃঢ় বন্ধন তৈরি করে আমরা রাজ্য এবং দেশকে সুরক্ষিত করব। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৪ মে অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল। আগের সরকার এক দিকে শরণার্থীদের সিএএ (সুরক্ষা) দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। অন্য দিকে, এই গুরুত্বপূর্ণ আইনকে কাজে লাগায়নি। আজ থেকে এই আইন আমরা কার্যকর করলাম।
শুভেন্দু বলেন, সিএএ আইন অনুযায়ী, সাতটি সম্প্রদায়ের মানুষ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের আওতাভুক্ত। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত যারা এ রাজ্যে এসেছেন, তাদের পুলিশ কোনো হেনস্থা করতে পারবে না বা আটক করতে পারবে না। কিন্তু যারা সিএএর অন্তর্ভুক্ত নন, তারা সম্পূর্ণ অবৈধ অনুপ্রবেশকারী। তাদের সরাসরি রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করবে এবং বিএসএফের হাতে তুলে দেবে।
তিনি বলেন, বিজিবির (বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী) সঙ্গে কথা বলে তাদের দেশ থেকে বার করে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। অর্থাৎ, ডিটেক্ট, ডিলিট ও ডিপোর্ট। সীমান্ত সংলগ্ন সমস্ত থানায় দেশের স্বার্থে, রাজ্যের স্বার্থে আইন কার্যকর করলাম।
রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং মুখ্যসচিবকেও এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য দেন শুভেন্দু।
ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে বলেছিল, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে বা ধর্মীয় নিপীড়নের ভয়ে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসা, হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি এবং খ্রিস্টানদের শরণার্থীর মর্যাদা দেওয়া হবে। ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল কার্যকর হওয়া অভিবাসন এবং বিদেশি আইনের ৩৩ ধারা অনুযায়ী এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। দেশটির পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশনে এই আইন পাস হয়েছিল। প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সংখ্যার জোরে আইন পাস করিয়ে নেয় কেন্দ্র।
Leave a Reply