সিলেট শহরতলীর খাদিমপাড়া ইউনিয়নের পীরেরবাজারে অবস্থান ‘জামেয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার’। এলাকার লোকজন দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে আবাসিক মাদ্রাসাটিতে তাদের শিশুসন্তানদের পড়তে দিতেন। কিন্তু সেখানে শিশুদের সাথে মাদ্রাসার মুহতামিম যে বিভৎস আচরণ করতেন তা কারও জানা ছিল না। ভয় দেখিয়ে দিনের পর দিন শিশুদের পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে যেতেন মুহতামিম ফয়জুল হক।
শেষ পর্যন্ত নির্যাতনের ঘটনা ফাঁস হলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। আদালতে তিনি শিশুশিক্ষার্থীদের বলাৎকালের কথা স্বীকারও করেছেন। মুহতামিমকে গ্রেফতারের পর মাদ্রাসায় তালা দিয়ে পালিয়েছেন সকল শিক্ষক। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও পড়েছে অনিশ্চয়তায়। চারদিন ধরে মাদ্রাসাটির তালা খুলতে আসছেন না কোন শিক্ষক।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে মাদ্রাসা থেকে এক অভিভাবককে ফোনে জানানো হয় তার ছেলের স্তন দিয়ে পুঁজ পড়ছে, ডাক্তার দেখাতে হবে। শিশুটিকে ডাক্তারে নিয়ে গেলে জানানো হয় স্তনে দাঁতের কামড়ে ইনফেকশন হয়েছে। এরপর শিশুটি কিছুটা সুস্থ হলে তাকে মাদ্রাসায় যেতে বললে সে কান্নাকাটি শুরু করে। পরিবারের চাপে শিশুটি মুহতামিমের পাশবিক নির্যাতনের কথা জানায়।
ওই শিশুর বাবা জানান, ছেলের মুখে ভয়ঙ্কর নির্যাতনের কথা শুনে তিনি এলাকার লোকজন নিয়ে ৯ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসায় যান। এসময় আরেক শিশু মুহতামিম কর্তৃক বলাৎকারের কথা জানায়। মাদ্রাসার শিশুরা জানায়, প্রতিরাতেই মুহতামিম ১/২ জনকে তার রুমে ডেকে নিয়ে অপকর্ম করতেন। বিষয়টি থানাপুলিশে গড়ালে ওই রাতেই মুহতামিম ফয়জুল হককে আটক করে পুলিশ। পরদিন তাকে আদালতে সোর্পদ করা হলে তিনি বলাৎকারের কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
মুহতামিমকে আটকের পর মাদ্রাসায় তালা দিয়ে সকল শিক্ষক পালিয়ে যান। ছাত্ররাও বাধ্য হয়ে বাড়ি চলে আসে। মুহতামিমের অপকর্মের কারণে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত পড়েছে অন্ধকারে। মাদ্রাসাটি পুণরায় চালু হলেও শিশুদেরকে সেখানে পড়তে দেওয়া কতটুকু নিরাপদ হবে সেটিও ভাবছেন অভিভাবকরা।
স্থানীয় খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বদরুল ইসলাম আজাদ জানান, মাদ্রাসায় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ছিল। শিক্ষক ছিলেন ৬ জন। মাদ্রাসার ভেতরে যে এতো অপকর্ম চলতো তা কেউ জানতো না। মাদ্রাসাটি পুণরায় খুলবে কি-না তাও অনিশ্চিত। কারণ মাদ্রাসায় যে শিশু নিপিড়ণকারী আর কোন শিক্ষক নেই সেটিও নিশ্চিত নয়। সবমিলিয়ে শিক্ষার্থীরা পড়েছেন বিপাকে।
হযরত শাহপরাণ (রহ.) থানার ওসি মো. ফেরদৌস আহমদ জানান, শিশু নিপিড়নের ঘটনায় আর কোন শিক্ষক জড়িত কি-না সেটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।