মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:১৬ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
শিরোনাম :
আমি বিয়েটা করতে চাই না, কেন বলেছিলেন অর্চিতা স্পর্শিয়া ইতালিকে হারিয়ে সুপার এইটে ইংল্যান্ড ইউক্রেনযুদ্ধে নিহত উত্তর কোরিয়ার সেনাদের পরিবারকে বাড়ি দিলেন কিম জং-উন ২০২৬ এর রমজান কবে শুরু এবং চাঁদ কীভাবে দেখা হয়? জিয়া-খালেদা-তারেকের মতো একই পরিবারে তিন সরকার প্রধান ছিলেন যারা সিলেটে টিসিবির পণ্য বিক্রি যেদিন, মিলবে ৫ পণ্য নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করব : জামায়াত আমির নবনির্বাচিত এমপিদের শপথ পড়াতে সিইসিকে চিঠি মঙ্গলবার বন্ধ থাকবে ঢাকার যেসব সড়ক বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিচ্ছেন তারেক রহমান রমজানে নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের নির্বচন সম্পন্ন বঙ্গবীর ওসমানীর ৪১তম মৃ ত্যু বার্ষিকী পালিত সিলেটের যেসব এলাকায় মঙ্গলবার বিদ্যুৎ থাকবে না বিএনপির ভূমিধস বিজয়ে ১৪নং ওয়ার্ডে শুকরানা দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত কোম্পানীগঞ্জে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন, ওসি সফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে নজির স্থাপন দেশ ছেড়ে পালানোর সময় গ্রেপ্তার ইউক্রেনের সাবেক জ্বালানিমন্ত্রী গুরুতর অসুস্থ ইমরান খান বিপর্যয়ে’ ইসরায়েলের তেল আবিব নতুন সরকারের নির্দেশনা পেলে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: সেনাপ্রধান তারেক রহমানকে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন উপদেষ্টারা পতাকাবাহী গাড়িতে শপথ অনুষ্ঠানে যাবেন, ফিরবেন পতাকা ছাড়া সিলেটে বক্তব্য দেওয়ায় চাকুরিচ্যুত ইমাম! নির্বাচনে জয়ী হয়ে তারেক রহমানের সাথে দেখা করলেন এমএ মালিক তাহেরীর নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে মামলা করার ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী আজ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না জামায়াত এমপিরা সিলেটে বঙ্গবীর ওসমানীর মৃ ত্যু বার্ষিকী পালন সংসদে সিলেটের নতুন মুখ সড়কে প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর
জিয়া-খালেদা-তারেকের মতো একই পরিবারে তিন সরকার প্রধান ছিলেন যারা

জিয়া-খালেদা-তারেকের মতো একই পরিবারে তিন সরকার প্রধান ছিলেন যারা

জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির নেতৃত্বে আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকার গঠন হচ্ছে। সবকিছু ঠিক থাকলে এ সরকারের প্রধান হচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান ও তার পরিবারের ঝুলিতে যুক্ত হতে যাচ্ছে নতুন এক রেকর্ড।

 

বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের শপথের মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে জিয়া পরিবারও। বাবা জিয়াউর রহমান ও মা খালেদা জিয়ার পর এবার বাংলাদেশ পরিচালনার ভার নিচ্ছেন ছেলে তারেক রহমান।

রাজতন্ত্র বাদে আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোন দেশে কোন কোন পরিবারের একাধিক সদস্য দেশ পরিচালনা করেছেন, তা দেখে নেওয়া যাক:

বাংলাদেশে জিয়া পরিবার

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন প্রয়াত জিয়াউর রহমান বীর উত্তম। সেনাপ্রধান হন তিনি। এরপর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাকে। বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে তার প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার নিয়ে চার বার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হন। তখন খালেদা জিয়া ছিলেন পুরোদস্তুর গৃহিণী। স্বামীহারা খালেদা জিয়া দলের হাল ধরেন। যুক্ত হন স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে।

রাজনীতিতে এসে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান খালেদা জিয়া। চষে বেড়ান দেশের নানা প্রান্ত। এর ফলও পান। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর তিনি তিন দফা সরকারপ্রধানের দায়িত্বে ছিলেন।

বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, বাংলাদেশের একাধিক সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে না হারার অনন্য রেকর্ডও আছে তার দখলে। গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেন।

মায়ের মৃত্যুর পর তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারম্যান হন। ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে তার নেতৃত্বে দলটি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। এখন বাবা-মায়ের পর তিনিও দেশ চালানোর দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। এর আগে গত ডিসেম্বরে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন ছেড়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে দেশে ফেরেন তিনি।

ব্রিটিশদের কাছ থেকে ভারত স্বাধীন হয় ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট। নতুন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন জওহরলাল নেহরু। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের এই নেতা স্বাধীনতা সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। ভারতে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায়ও নেহেরু ভূমিকা রেখেছেন। আর স্নায়ুযুদ্ধকালে সদ্যস্বাধীন ভারতকে জোট নিরপেক্ষ হিসেবে এগিয়ে নিয়ে যেতেও নেহরুর ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।

দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগার পর ১৯৬৪ সালের ২৭ মে রাজধানী দিল্লিতে মারা যান প্রধানমন্ত্রী নেহরু। তার পরিবার থেকে ভারতের তিনজন প্রধানমন্ত্রী এসেছেন। পরের নামটি জওহরলাল নেহরুর মেয়ে ইন্দিরা গান্ধী।

ইন্দিরা দুই মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৬ সালের জানুয়ারিতে তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। ছিলেন ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত। এরপর ১৯৮০ সালে আবারও ইন্দিরার নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকার গঠন করে। এই দফায় তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৮৪ সালের অক্টোবর পর্যন্ত। ইন্দিরা ভারতের প্রথম ও একমাত্র নারী প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী থাকাকলে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করে সমালোচিত হয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। তার আমলে ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ নামের রক্তক্ষয়ী সামরিক অভিযানের মাধ্যমে স্বর্ণমন্দির থেকে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উৎখাত করা হয়। ইন্দিরা ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ থেকে যাওয়া প্রায় এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতায় তার অবদান স্মরণীয়। ১৯৮৪ সালের ৩১ অক্টোবর নয়াদিল্লিতে দুই শিখ দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরা নিহত হন।

মায়ের মরদেহ রেখে ওই দিনই ইন্দিরাপুত্র রাজীব গান্ধীকে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে শপথ নিতে হয়েছিল। তখন রাজীব গান্ধীর বয়স ছিল ৪০ বছর। এখন পর্যন্ত তিনি ভারতের সবচেয়ে কম বয়সী প্রধানমন্ত্রী। নানা ও মায়ের মতো দক্ষ হাতে দেশ চালিয়েছিলেন তিনি। রাজীব গান্ধী প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কায় তামিল টাইগার বিদ্রোহী ও সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতায় ভূমিকা রেখেছিলেন।

মা ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর মাত্র সাত বছর পর একই ভাগ্য বরণ করতে হয়েছিল ছেলে রাজীব গান্ধীকেও। ১৯৯১ সালের ২১ মে তামিলনাড়ু রাজ্যের চেন্নাইয়ে নির্বাচনি প্রচার চালাতে গিয়ে আত্মঘাতী বোমায় নিহত হন তিনি।

পাকিস্তানে ভুট্টো-জারদারি পরিবার

পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন জুলফিকার আলী ভুট্টো। ১৯৬৭ সালের ৩০ নভেম্বর দলটি প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। এর মাত্র তিন বছর পর, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে পিপিপি তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানে (বর্তমান পাকিস্তান) বড় জয় পায়। সিন্ধু প্রদেশের ধনী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়া আর পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত ভুট্টো নিজেও পাঁচটি নির্বাচনি এলাকা থেকে নির্বাচিত হন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীন হলে পরাজয় মেনে রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়েন জেনারেল ইয়াহিয়া খান। ২০ ডিসেম্বর নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে জুলফিকার আলী ভুট্টো শপথ নেন। তার নেতৃত্বে পাকিস্তানে নতুন সংবিধান প্রবর্তন করা হয়। এর অধীনে ভুট্টো ১৯৭২ সালের ২১ এপ্রিল দ্বিতীয়বার পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নেন। ১৯৭৩ সালের ১৪ আগস্ট পাকিস্তানের প্রথম একীভূত সংবিধান কার্যকর হলে ভুট্টো পাকিস্তানের প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি ১৯৭৭ সালের ৫ জুলাই পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন।

পাকিস্তানে জেনারেল জিয়াউল হকের সামরিক শাসনামলে ১৯৭৯ সালে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। পরবর্তী সময়ে পিপিপির হাল ধরেন জুলফিকার আলীর মেয়ে বেনজির ভুট্টো। পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত বেনজির রাজনৈতিক ক্যারিশমা দেখিয়ে সরকারপ্রধান হন। তিনি পাকিস্তান তথা পুরো মুসলিম বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।

১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে বেনজির প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। এই মেয়াদে তিনি ১৯৯০ সালের আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। এরপর ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে আবারও সরকারপ্রধান হন বেনজির ভুট্টো। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত। ২০০৭ সালের ২৭ ডিসেম্বর রাওয়ালপিন্ডির লিয়াকত বাগে নির্বাচনি সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের শিকার হন বেনজির ভুট্টো।

বেনজির ভুট্টোর স্বামী আসিফ আলী জারদারি পাকিস্তানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট। ২০২৪ সালের মার্চে এ দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রথম দফায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন তিনি। আসিফ আলী জারদারি বর্তমানে পিপিপির কো-চেয়ারম্যান। দলটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে আছেন বেনজিরপুত্র বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি।

শ্রীলঙ্কায় বন্দরানায়েকে পরিবার

এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকে ছিলেন শ্রীলঙ্কার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী। ১৯৫৬ সালের এপ্রিলে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন তিনি। এর আগে ১৯৫১ সালে প্রতিষ্ঠা করেন রাজনৈতিক দল শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টি। তাকে আধুনিক শ্রীলঙ্কার (তখনকার সিলন) অন্যতম প্রভাবশালী নেতা ধরা হয়। জনসাধারণের কাছে তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। দেশটিতে জাতীয়তাবাদী সংস্কারের সূচনা করেছিলেন তিনি। ১৯৫৯ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর আততায়ীর গুলিতে এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকে নিহত হন।

স্বামীর মৃত্যুর পর শ্রীলঙ্কা ফ্রিডম পার্টির হাল ধরেন এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকের স্ত্রী শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। দক্ষ হাতে দল সামলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে সরকার চালানোর গুরু দায়িত্বও কয়েক দফায় সামলেছেন। ১৯৬০ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন শ্রীমাভো। শুধু শ্রীলঙ্কা নয়, পুরো বিশ্বের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৬৫ সালের মার্চ পর্যন্ত।

এরপর ১৯৭০ সালের মে মাসে দ্বিতীয় দফায় শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে। এই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ১৯৭৭ সালের জুলাই পর্যন্ত। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে শ্রীমাভো তৃতীয় মেয়াদে দেশের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তখন তার মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। রাষ্ট্রপ্রধান পদে মেয়ে আর সরকারপ্রধান পদে মা—এমন নজির বিশ্বে বিরল।

শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদে ছিলেন ২০০০ সালের আগস্ট অবধি। এরপর রাজনীতি থেকে অবসরে যান। এরও মাস দুয়েক পরে ২০০০ সালের অক্টোবরে তার মৃত্যু হয়।

এসডব্লিউআরডি বন্দরনায়েকে ও শ্রীমাভো বন্দরনায়েকে দম্পতির মেয়ে চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা। বাবা-মায়ের পথ ধরে তিনিও শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে সফল একজন ব্যক্তি। চন্দ্রিকা কুমারাতুঙ্গা দেশের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী-দুই পদেই ছিলেন। ১৯৯৪ সালের আগস্টে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। একই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ক্ষমতায় ছিলেন। স্বল্প মেয়াদের প্রধানমন্ত্রিত্বের পর মায়ের হাতে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দেন তিনি। চন্দ্রিকা হন প্রেসিডেন্ট। ১৯৯৪ সালের নভেম্বরে দায়িত্ব নেওয়ার পর চন্দ্রিকা ২০০৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত টানা রাষ্ট্রপ্রধানের পদে ছিলেন।

থাইল্যান্ডে সিনাওয়াত্রা পরিবার

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ২০২৫ সালের আগস্টে বরখাস্ত হন পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা। ওই বছরের জুনে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ওই ফোনকলে নৈতিকতা লঙ্ঘন করেছিলেন পেতংতার্ন। ফলে সরকারপ্রধানের পদ হারান ফিউ থাই পার্টির এ নেত্রী। এর বছরখানেক আগে (২০২৪ সালের নভেম্বরে) প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন পেতংতার্ন।

পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী সিনাওয়াত্রা পরিবার থেকে দেশের শীর্ষ পদে আরোহণ করা তৃতীয় ব্যক্তি। তার বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রা থাই রক থাই পার্টি থেকে ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হন। ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগপর্যন্ত এ পদেই ছিলেন তিনি।

থাকসিনের বোন ইংলাক সিনাওয়াত্রাও ২০১১ সালে দেশটির প্রধানমন্ত্রী হন। ২০১৪ সালে সাংবিধানিক আদালত তাকে এ পদ থেকে অপসারণ করেন। একই বছর আরেক সামরিক অভ্যুত্থানে কয়েক মাসের জন্য রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়ে থাইল্যান্ড। ওই ঘটনার পর গ্রেপ্তার এড়াতে থাকসিন ও ইংলাক-দুজনই দেশ ছেড়ে স্বেচ্ছায় নির্বাসনে চলে যান। ২০২৩ সালের আগস্টে দেশে ফেরেন থাকসিন।

৩৭ বছর বয়সী পেতংতার্ন থাইল্যান্ডের সবচেয়ে কম বয়সী ও দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এর আগে তার ফুফু ইংলাক সিনাওয়াত্রা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

উত্তর কোরিয়ায় কিম পরিবার

বাবা, ছেলে ও নাতি—একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজনের রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার উদাহরণ আছে উত্তর কোরিয়ায়। কিম পরিবার ১৯৪৮ সাল থেকে উত্তর কোরিয়া শাসন করে আসছে।

কিম ইল-সাং ছিলেন বর্তমান উত্তর কোরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামের নেতা। ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার নেতা হিসেবে ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন। পদে ছিলেন ১৯৭২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৯৭২ সালে দেশের প্রেসিডেন্ট হন তিনি। রাষ্ট্রক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৪ সালের জুলাই, মৃত্যুর আগপর্যন্ত।

বাবার মৃত্যুর পর ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক এবং উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা (প্রেসিডেন্ট) হন কিম ইল-সাংয়ের ছেলে কিম জং-ইল। ২০১১ সালের ডিসেম্বরে মারা যান তিনি। আমৃত্যু এ পদে ছিলেন। কিম জং-ইলের উত্তরসূরি হন তাঁরই ছেলে কিম জং-উন। ২০১১ সাল বাবার মৃত্যুর পর যখন কিম জং-উন রাষ্ট্রক্ষমতা নেন তখন তার বয়স ছিল ২০-এর কোটায়।

উত্তর কোরিয়ায় কিম জং-উনের উত্তরসূরি বিবেচনা করা হচ্ছে তার কিশোরী মেয়ে কিম জু-আয়েকে।

গ্রিসে পাপানড্রেউ পরিবার

ইউরোপের দেশ গ্রিসের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবার হলো পাপানড্রেউ। এই পরিবার থেকে তিন প্রজন্মের তিনজন ব্যক্তি দেশটির সরকারপ্রধান হয়েছেন। জর্জিয়াস পাপানড্রেউ তিন দফায় গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রথমবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়, ১৯৪৪ সালের এপ্রিল থেকে ১৯৪৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

এরপর ১৯৬৩ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে স্বল্পমেয়াদে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন জর্জিয়াস। নির্বাচনে জিতে ১৯৬৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আবারও গ্রিসের সরকারপ্রধান হন জর্জিয়াস পাপানড্রেউ। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৬৫ সালের জুলাই পর্যন্ত।

জর্জিয়াস পাপানড্রেউয়ের দুই ছেলের একজন আন্দ্রেজ পাপানড্রেউ। তিনি দুই মেয়াদে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। প্রথমবার ১৯৮১ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৮৯ সালের জুলাই পর্যন্ত। এরপর ১৯৯৩ সালের অক্টোবরে আবারও সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নেন আন্দ্রেজ। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।

২০০৯ সালের অক্টোবরে গ্রিসের প্রধানমন্ত্রী হন জর্জ পাপানড্রেউ। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে একই পরিবারের তিন প্রজন্মের তিনজনের সরকারপ্রধান হওয়ার বিরল রেকর্ড হয়। তিনি ক্ষমতায় ছিলেন ২০১১ সালের নভেম্বর পর্যন্ত।

নিকারাগুয়ায় সামোজা পরিবার

একই পরিবারের তিনজনের দেশের প্রেসিডেন্ট হওয়ার নজির আছে নিকারাগুয়ায়। দেশটিতে এই রাজনৈতিক পরিবার ‘সামোজা পরিবার’ নামে পরিচিক। পরিবারটি থেকে প্রথম দেশের প্রেসিডেন্ট হন আনাস্তাসিও সামোজা গার্সিয়া। তিনি ১৯৩৭ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯৪৭ সালের মে পর্যন্ত প্রথম দফায় এবং ১৯৫০ সালের মে মাস থেকে ১৯৫৬ সালের সেপ্টেম্বরে আততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার আগপর্যন্ত দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

লুই সামোজা দেবাইলি এই পরিবারের দ্বিতীয় সদস্য যিনি রাষ্ট্রপ্রধান হয়েছিলেন। তিনি আনাস্তাসিও সামোজা গার্সিয়ার ছেলে। বাবার মৃত্যুর পর ১৯৬৭ সালে ক্ষমতায় বসেন লুইস সামোজা। ছিলেন ১৯৬৩ সাল পর্যন্ত। ১৯৬৭ সালে তার মৃত্যু হয়।

১৯৬৭ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন আনাস্তাসিও সামোজা দেবায়লি। তিনি দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট আনাস্তাসিও সামোজা গার্সিয়ার ছেলে এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট লুই সামোজা দেবাইলির ভাই। ১৯৭৪ সালে আনাস্তাসিও সামোজা দেবায়লি আবারও নিকারাগুয়ার প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৭৯ সালে নিহত হওয়ার আগপর্যন্ত তিনি এ পদে ছিলেন।

পেরুর প্রাদো পরিবার

মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদো ছিলেন পেরুর এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধান, পরবর্তী সময়ে তার পরিবারের আরও দুজন দেশ শাসন করেছেন। একজন রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে। অন্যজন ছিলেন সরকারপ্রধান।

দুই মেয়াদে পেরুর প্রেসিডেন্ট ছিলেন মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদো। প্রথমবার ১৮৬৫ সালের নভেম্বর থেকে ১৮৬৮ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর ১৮৭৬ সালের আগস্ট থেকে ১৮৭৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি আরেক দফায় দেশের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদোর ছেলে ম্যানুয়েল প্রাদো উগারতেছে দুই মেয়াদে পেরুর প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। প্রথমবার দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৩৯ সাল থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। পরেরবার তিনি ১৯৫৬ সালে প্রেসিডেন্ট হন। ক্ষমতায় ছিলেন ১৯৬২ সাল পর্যন্ত।

এই পরিবার থেকে পেরুর প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন হাভিয়ের প্রোদো উগারতেছে। ১৯১০ সালের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত স্বল্প মেয়াদে সরকারপ্রধান ছিলেন তিনি। হাভিয়ের দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট মারিয়ানো ইগনাসিও প্রাদোর ছেলে এবং ম্যানুয়েল প্রাদো উগারতেছের ভাই।

একই পরিবার থেকে দুজন যারা

বিশ্বের অনেক দেশে একটি রাজনৈতিক পরিবার থেকে দুজনের রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকারপ্রধান হওয়ার নজির রয়েছে। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য—যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এবং সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ (বাবা-ছেলে), বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (বাবা-মেয়ে), সিঙ্গাপুরের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লি কুয়ান ইউ এবং তার ছেলে দেশটির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি সেইন লুং, কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্রুডো এবং তার ছেলে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো।

ইন্দোনেশিয়ার প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন সুকর্ণ। আরর্ দেশটির পঞ্চম ও প্রথম নারী প্রেসিডেন্ট ছিলেন তার মেয়ে মেঘবতী সুকর্ণপুত্রী। আরও ছিলেন, সিরিয়ার সাবেক দুই প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল-আসাদ ও বাশার আল-আসাদ (বাবা-ছেলে), লেবাননের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি ও সাদ হারিরি (বাবা-ছেলে), কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ফিদেল কাস্ত্রো ও রাউল কাস্ত্রো (দুই ভাই), ফিলিপাইনের সাবেক প্রেসিডেন্ট বাবা ফার্দিনান্দ মার্কোস এবং ছেলে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র (বংবং মার্কোস নামে পরিচিত)।

শ্রীলঙ্কায় ২০১৯ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ছিলেন গোতাবায়া রাজাপক্ষে। এর আগে দেশটির প্রেসিডেন্ট এবং কয়েক দফায় প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন তার ভাই মাহিন্দা রাজাপক্ষে। জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদার বাবা তাকেও ফুকুদাও দেশটির সরকারপ্রধান ছিলেন। নেপালের প্রভাবশালী কৈরালা পরিবারের একাধিক সদস্যও সরকার পরিচালনা করেছেন।

তথ্যসূত্র: এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা, বিবিসি, রয়টার্স, আল-জাজিরা, পিএম ইন্ডিয়া, শ্রীমাভো বন্দরানায়েকের ওয়েবসাইট

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com