সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:::: সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখের একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্পষ্ট মন্তব্য করে পুরো সাংবাদিক সমাজকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
সম্প্রতি নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ওসি ধোপাজান নদী থেকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে উল্লেখ করেন, এক ‘সাংবাদিক ভাই’ বড় নৌকার পরিবর্তে ছোট নৌকা জব্দ দেখানোর জন্য তদবির করেন। তিনি এটিকে সম্ভাব্য ব্ল্যাকমেইল বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার প্রচেষ্টা বলেও ইঙ্গিত দেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, নদী রক্ষায় পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
তবে ওসির এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। তাদের দাবি, যদি কোনো ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয়ে অনৈতিক তদবির করে থাকেন, তাহলে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তা না করে ‘সাংবাদিক’ শব্দটি ব্যবহার করে ঢালাও অভিযোগ তোলায় পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।
জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের মতে, ধোপাজান নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন ও পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নিয়ে বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে করে সাংবাদিক সমাজকে অযথা বিতর্কে জড়ানো হচ্ছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, পুলিশ যদি সত্যিই কঠোর অবস্থানে থাকে, তাহলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেফতার করা হলো না কেন। অপরাধীকে আড়াল করে সামগ্রিকভাবে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার পেছনে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এদিকে, সিলেটের সিনিয়র সাংবাদিক দিপু সিদ্দিকী এক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করে লেখেন, “যে ব্যক্তি এমন প্রস্তাব দিয়েছে, তাকে আটক করা উচিত ছিল। তা না করে স্ট্যাটাস দেওয়াটা দুঃখজনক।”
সচেতন মহল মনে করছে, এমন সংবেদনশীল বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ না করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গণমাধ্যমের মধ্যে আস্থার সংকট আরও গভীর হতে পারে।
Leave a Reply