মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিটের প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ডাকে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর চত্বর কয়েক দিন ধরেই আন্দোলনকারীদের উপস্থিতিতে উত্তাল। এবার সেই আন্দোলনের ঢেউ দিল্লি ছাড়িয়ে দেশের অন্যান্য বড় শহরেও ছড়িয়ে পড়ছে। খুব শিগগিরই পশ্চিমবঙ্গেও কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছে সংগঠনটি।
কলকাতা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মধ্য কলকাতায় একটি কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি চেয়ে সিজেপির পক্ষ থেকে ই-মেইলে আবেদন করা হয়েছে। তবে আবেদনকারী ব্যক্তি সত্যিই সংগঠনটির প্রতিনিধিত্ব করছেন কি না, তা যাচাই করছে পুলিশ। আবেদনপত্রে কর্মসূচির তারিখ, সময় কিংবা ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি।
এর আগে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক এবং চেন্নাইয়ের টি নগর এলাকায় আগাম অনুমতি ছাড়াই বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে সিজেপির প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিক্ষোভে অংশ নেন।
নিট প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে সিজেপির সংসদ ভবন অভিযানের জেরে গত সোমবার দিল্লিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারি বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে এবং রাহুল গান্ধীকে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে আটক করে। এ সময় তার নাক দিয়ে রক্ত পড়তে দেখা যায়। পরদিন বুধবার (২২ জুলাই) সংবাদ সম্মেলনে রাহুল গান্ধী জানান, বিরোধীরা তিনটি দাবিতে অনড় রয়েছে।
তাদের দাবিগুলো হলো, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ ও পরীক্ষা ব্যবস্থার ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।
অন্যদিকে, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে পি নাড্ডা বিরোধীদের এসব দাবি নাকচ করে বলেন, সরকার এ বিষয়ে সংসদে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা গ্রহণযোগ্য নয়।
নিট-কাণ্ড এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে টানা তৃতীয় দিনের মতো অচল হয়ে পড়েছে ভারতীয় সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশন। বিরোধী সদস্যদের বিক্ষোভ ও হট্টগোলের কারণে দফায় দফায় মুলতবি করতে হয়েছে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম।
এদিকে সিজেপির সংসদ অভিযানে কথিত পুলিশি নির্যাতনের ঘটনায় জরুরি শুনানির আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ। আদালতে ঘটনার ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শনের আবেদন জানানো হলে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আদালতের মূল্যবান সময় নষ্ট করবেন না।’
Leave a Reply