সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজে ‘আসাম প্যাটার্নের’ শতবর্ষী ভবনগুলো পরিদর্শন করেছেন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল।
সিলেট নগরীর টিলাগড় এলাকায় এমসি কলেজ ক্যাম্পাসে শুক্রবার বিকালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পরিদর্শক দল ভবনগুলো পরিদর্শন করেন।
রোববার দুপুরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক নাহিদ সুলতানা বলেন, অনুসন্ধান ও জরিপ কাজের অংশ হিসেবে পরিদর্শক দল এমসি কলেজের ভবনগুলো ভিজিট করেছে। এটা প্রতিবেদন আকারে প্রধান কার্যালয়ে জমা দেওয়া হবে।
“তারপর পর্যায়ক্রমে ভবনগুলো অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত হবে। সরকারিভাবে গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পর ভবনগুলো সংস্কারে উদ্যোগ নেওয়া হবে; এই ভবনগুরো সংরক্ষণ করা যাবে।”
এমসি কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম সোবহান চৌধুরী বলেন, পরিদর্শক দল জানিয়েছে, বিশেষ স্থাপত্যরীতির নিদর্শন হিসেবে প্রাক্তন বাংলা ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ভবন দুটি অধিদপ্তরের তালিকাভুক্ত স্থাপনার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ভবন দুটি নিয়ে একটি সার্ভে সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টরা মনে করেন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে এগুলোর সংরক্ষণ সম্ভব। একই সময়ে কলেজের পূর্বদিকে টিলায় অবস্থিত দ্বাদশ শতাব্দীতে নির্মিত ঘরটিও তারা পরিদর্শন করেছেন।
তিনি বলেন, এমসি কলেজের ঐতিহ্য ও ঐতিহ্যবাহী ভবন সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে একটা আন্দোলন চলমান আছে। এই আন্দোলনের ফলে সংরক্ষণ বিষয়টি বাস্তবায়ন হতে যাচ্ছে।
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন- এমসি কলেজের প্রাক্তন ছাত্র ও পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্ট সিলেটের সভাপতি ডা. মোস্তফা শাহজামান চৌধুরী বাহার, ধরা’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আব্দুল করিম কিম, কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী ও সমাজকর্মী রোমেনা বেগম রোজী এবং প্রাক্তন ছাত্র ও নাট্যকর্মী নাহিদ পারভেজ বাবু।
এ ধরনের ‘আসাম প্যাটার্ন’ বা ‘বাংলা ব্যাটন স্টাইল’ ভবনগুলো পাহাড়ের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশে ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় নির্মিত হয়ে থাকে। এ ভবনগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট হচ্ছে, এর নির্মাণশৈলি পরিবেশবান্ধব এবং বসবাসের জন্য আরামপ্রিয়।
সিলেটে এক সময় এ ধরনের অনেক ভবন থাকলেও কালের বিবর্তনে তা হারিয়ে গেছে। কিন্তু অযত্ন আর অবহেলার মধ্যেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে এমসি কলেজের টিলার পাদদেশের এ ভবন দুটি।
Leave a Reply