সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে কড়া সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। তার দাবি, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ভারতের কিছু কর্মকাণ্ড শুধু আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শান্তির জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠেছে।
রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদে দেওয়া এক বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট জারদারি সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পর পাকিস্তানের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহানুভূতি ও সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াই কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। এটি একটি সম্মিলিত বৈশ্বিক দায়িত্ব।’
জারদারির ভাষায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা, সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থার পক্ষ থেকে পাওয়া সমর্থনের বার্তা পাকিস্তানের জনগণ এবং সন্ত্রাসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য মানসিক শক্তির উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব বার্তা প্রমাণ করে যে সন্ত্রাসবাদ এবং এর পেছনের সহিংস মতাদর্শ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক ঐক্য অপরিহার্য।
পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সীমান্তের বাইরে নিরাপদ আশ্রয় পায় কিংবা আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা লাভ করে, তখন তার ফল ভোগ করতে হয় নিরীহ মানুষকে- কেবল একটি দেশে নয়, বিশ্বজুড়েই।
এ প্রসঙ্গে জারদারি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের কিছু প্রতিবেশী দেশ তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর সুযোগ দিয়েছে। একই সঙ্গে কিছু শক্তি আর্থিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহায়তা দিয়ে এসব গোষ্ঠীকে পরোক্ষভাবে শক্তিশালী করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তার মতে, এই ধরনের কর্মকাণ্ড দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক শান্তির জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।
Leave a Reply