পারভেজ আহমদ ::::: পবিত্র ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে টানা ছুটির সুযোগে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী সিলেটে নেমেছে পর্যটকদের ঢল। ছুটির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার ভ্রমণপিপাসু সিলেটে এসে ভিড় জমাচ্ছেন, ফলে জেলার প্রায় সব পর্যটন স্পটেই সৃষ্টি হয়েছে উপচেপড়া ভিড়।
বিশেষ করে জাফলং, বিছানাকান্দি, লালাখাল, রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট, মালনীছড়া চা বাগান, শাহজালাল (রহ.) ও শাহপরান (রহ.) মাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব এলাকায় পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকছে। অনেকেই পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করছেন, আবার কেউ কেউ নৌকাভ্রমণ, পাহাড়ি ঝরনা ও চা বাগানের সবুজে সময় কাটাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদের আগেই সিলেটের অধিকাংশ হোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের কক্ষ বুকিং সম্পন্ন হয়ে যায়। ফলে হঠাৎ করে আসা অনেক পর্যটক আবাসন সংকটে পড়ছেন। কেউ কেউ বেশি ভাড়ায় কক্ষ নিতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার অনেকে বিকল্প হিসেবে আত্মীয়-স্বজনের বাসায় বা অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন।
পর্যটকদের এই বাড়তি চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন পরিবহন, নৌযান ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জাফলং ও বিছানাকান্দির মতো এলাকাগুলোতে নৌকার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে পর্যটকদের। তবুও ভ্রমণপিপাসুদের আগ্রহে কোনো ভাটা নেই।
এদিকে পর্যটকদের আগমনে চাঙ্গা হয়ে উঠেছে স্থানীয় অর্থনীতি। হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহন, নৌযান চালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক ব্যবসায়ী জানান, ঈদ মৌসুম তাদের জন্য বছরের অন্যতম সেরা ব্যবসার সময়।
পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা। পুলিশ, পর্যটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রয়েছে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
তবে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে কিছু স্থানে যানজট, পরিবেশ দূষণ এবং ব্যবস্থাপনার ঘাটতির অভিযোগও উঠেছে। সচেতন মহল মনে করছেন, পর্যটকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও অবকাঠামো উন্নয়ন জরুরি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ঈদের ছুটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে এই ভিড় অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে পর্যটন শিল্পে নতুন গতি সঞ্চার হবে।
Leave a Reply