শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন

নোটিশ :
Welcome To Our Website...
শিরোনাম :
আজ প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আজ মহান মে দিবস ঢাকা জেলার প্রথম নারী পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন সুনামগঞ্জে এক মাত্র বোর ফসল হারিয়ে হাওরজুড়ে কৃষকের বোবাকান্না সংসদ ভবন পরিদর্শনে আসা নিজ কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় প্রধানমন্ত্রীর সিলেটে হামে আরও ১ শিশুর মৃ ত্যু, উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ৪৩ সিলেট র‌্যাবের কব্জায় ২, জ ব্দ ২৮ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য সিলেটে নৌ-ঘাট ইজারা নিয়ে বিআইডব্লিউটিএ হঠাৎ নমনীয় দক্ষিণ সুরমা উপজেলা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক সাধারণ সভা সম্পন্ন মেঘ-ঢলের শঙ্কায় নির্ঘুম হাওড়পাড়ের কৃষক, সময়ের সঙ্গে দৌড়ে ধান কাটা তরুণদের স্বপ্নপূরণে সিলেটে ব্র্যাক ক্যারিয়ার হাবের ভিন্নধর্মী আয়োজন সিলেটে ঝড়ের তাণ্ডব: গাছ ভেঙে সিএনজি দুমড়ে-মুচড়ে, অল্পের জন্য রক্ষা কোম্পানীগঞ্জে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা, অংশ নিলেন ওসি সফিকুল ইসলাম খান ভোলাগঞ্জে পাথর উত্তোলনের সময় বালুচাপায় শ্রমিক নিহত স্থায়ী চাষাবাদের আওতায় ১৭ হাজার হেক্টর অনাবাদি জমি কোম্পানীগঞ্জ থানার ওসি সফিকুল ইসলাম খানের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আগামী সপ্তাহেই খুলছে ভারতীয় ভিসা সিলেটে আজ শেষ হচ্ছে পুলিশের আল্টিমেটাম যারা দেশের স্বাধীনতা চায়নি তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: মন্ত্রী আরিফ কাজিরবাজারের মালিকানা পেল রাষ্ট্র, যা বললেন সিসিক প্রশাসক হামের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে: রিজভী পোপকে নিয়ে ট্রাম্পের ‘অশালীন’ মন্তব্যে ক্ষেপলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ শুরু ইরানের উপসাগরীয় সব বন্দর অবরুদ্ধ করল যুক্তরাষ্ট্র কৃষক কার্ড’ উদ্বোধনে টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী নবব‌র্ষের শু‌ভেচ্ছা জানা‌লেন সুইডিশ রাষ্ট্রদূত আজ টাঙ্গাইলে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিসত্তার আত্মপরিচয়ের অনন্য প্রতীক পুলিশ কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নববর্ষে নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, তবু প্রস্তুত ‘স্পেশাল কমান্ডো ফোর্স’
সুনামগঞ্জে এক মাত্র বোর ফসল হারিয়ে হাওরজুড়ে কৃষকের বোবাকান্না

সুনামগঞ্জে এক মাত্র বোর ফসল হারিয়ে হাওরজুড়ে কৃষকের বোবাকান্না

সবসময় ডেস্ক :::: হাওরের সুখ-দুঃখ-আনন্দ-বেদনা সবই নির্ভর করে একমাত্র বোর ফসলের ওপর। সুনামগঞ্জ  জেলার  একটি মাত্র ফসল ঘরে তুলতে পারলেই কৃষকের এক বছরের খাদ্য নিশ্চিত হয়। তবে চলতি বছর যেন প্রকৃতি  মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে এই ভাটির জনপদ সুনামগঞ্জ জেলা থেকে। টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিতে সুনামগঞ্জের অধিকাংশ হাওরে তলিয়ে গেছে এক মাত্র  বোরো ধান। কৃষকের চোখের সামনে  তলিয়ে যাওয়া এক মাত্র বোর ফসল  হাওরজুড়ে কৃষকদের এখন বোবাকান্না।

 

 

ধর্মপাশা উপজেলার টগার হাওরের কৃষক বশির আহমেদ । শ্রমে ঘামে আর মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা এনে ১২ কেয়ার (হাওরাঞ্চলে জমি পরিমাপের ক্ষেত্রে কেয়ার একটি জনপ্রিয় আঞ্চলিক একক। ১ কেয়ার জমি সাধারণত ৩০ শতাংশ বা ১২ শতকের সমান ধরা হয়) জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ করেন। কিন্তু সেই ধান আর ঘরে তোলা হয়নি তার। অতিবৃষ্টিতে একরাতেই হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে ওই কৃষকের পাকা ধান তলিয়ে যায়। এতে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

 

 

শুধু বশির আহমেদ  নয়, হাওরজুড়েই যেন কৃষকদের এই বোবাকান্না শোনার কেউ নেই। কেউ ধান হারিয়ে কাঁদছেন আবার কেউবা অবশিষ্ট ধান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে টগার ও ধারাম হাওরে গিয়ে দেখা যায়, অন্যান্য বছর এই সময়ে হাওরে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর উৎসব চললেও এ বছর ভিন্ন চিত্র। পুরো হাওর জুড়েই সুনসান নীরবতা। কেউ ধান হারিয়ে কাঁদছেন আবার কেউবা শ্রমিক সংকটে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অবশিষ্ট ধান রক্ষায় প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
‘কষ্ট করে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু একটা ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। এখন পুরো বছর পরিবারকে কীভাবে খাওয়াব, কীভাবে মহাজনের টাকা পরিশোধ করবো সেই দুশ্চিন্তায় আছি।’
কৃষক বশির আহমেদ  বলেন, ‘আমার সব শেষ। কষ্ট করে বোরো ধানের চাষাবাদ করেছিলাম। কিন্তু একটা ধানও ঘরে তুলতে পারিনি। এখন পুরো বছর পরিবারকে কীভাবে খাওয়াব, কীভাবে মহাজনের টাকা পরিশোধ করবো সেই দুশ্চিন্তায় আছি।’
কৃষক আবুল মিয়া বলেন, ‘অনেক স্বপ্ন নিয়ে ধানের চাষাবাদ করেছিলাম। অথচ ধানগুলো ঘরে তোলার আগেই তলিয়ে গেলো। হাওরে যদি পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে হয়ত আমাদের ক্ষতি হতো না। এখন কান্না ছাড়া কৃষকদের আর কিছু করার নেই।’
হাসান আলী বলেন, ‘হাওরের কৃষকদের চোখের জলের কোনো মূল্য নেই। একমাত্র ফসল হারিয়ে কৃষকরা দিশাহারা হয়ে পড়েছে।’
মধ্যনগর উপজেলার জিনিরিয়া  হাওরের কৃষক রিপন বিশ্বাস  বলেন, ‘অনেক কৃষকের ধান বৃষ্টির পানিতে তলিয়েছে। তবে যে অবশিষ্ট ধান রয়েছে সেগুলোও কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছি না। তাই তলিয়ে যাওয়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দ্রুত কাটার চেষ্টা করছি।’
‘বজ্রপাতের আতঙ্কে শ্রমিকরা হাওরে ধান কাটছে না। অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, বাঁধ ভাঙছে।’
গুরমার হাওরের কৃষক আলী  মিয়া বলেন, ‘বজ্রপাতের আতঙ্কে শ্রমিকরা হাওরে ধান কাটছে না। অন্যদিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে, হাওরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, বাঁধ ভাঙছে। তাই বজ্রপাতের ভয় না পেয়ে নিজেই পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে হাওরে ধান কেটে ঘরে তোলার চেষ্টা করছি।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের চাষাবাদ হয়। এরই মধ্যে প্রায় ৪৭% ধান কর্তন হয়েছে। তবে গেলো কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে জেলার বিভিন্ন হাওরে ৭ হাজার হেক্টরের ধান জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। তবে মাঠ পর্যায়ে ধানের ক্ষতির পরিমাণ আরোও
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, এরই মধ্যে হাওরে ধান কাটার জন্য কৃষকদের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট নিরসনেও বাইরে থেকে শ্রমিক নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। সেইসঙ্গে ধান কেটে উঁচু স্থানে রাখার জন্য কৃষকদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
‘সুনামগঞ্জের সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আরও কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ি ঢল নেমে এই জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।’
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে সুরমা নদীর পানি ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ১.৫১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় এই জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৮ মিলিমিটার। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জের সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে আরও কয়েকদিন এই বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে এবং পাহাড়ি ঢল নেমে এই জেলায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com