নিজস্ব প্রতিবেদক :::
সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার তেতলী ইউনিয়নে পূর্ববিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় মো. গেদা মিয়া (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার তেতলী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত গেদা মিয়া লক্ষ্মীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং স্থানীয়ভাবে সালিশ ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন আনছার আলী, কাহির মিয়া, বশির মিয়া, তাহমিম আহমদ মুরাদ, রবিন ও বাবুলের স্ত্রীসহ ১০ জন। আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, মসজিদ ও স্কুল পরিচালনা কমিটি নিয়ে নিহত গেদা মিয়া ও তাঁর পক্ষের লোকজনের সঙ্গে আলাউদ্দিন ও ইলিয়াসের পক্ষের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে শুক্রবার সন্ধ্যায় আলাউদ্দিন, ইলিয়াসসহ তাঁদের লোকজন ধারালো অস্ত্র নিয়ে গেদা মিয়া ও বাবুলের বাড়িতে হামলা চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় গেদা মিয়ার ছেলে কামালের বাড়িতে লুটপাটের চেষ্টা করা হলে গেদা মিয়া বাধা দেন। এতে হামলাকারীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তাঁর শরীরে ১৫ থেকে ২০টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। একপর্যায়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
গেদা মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে গ্রামের অন্য বাসিন্দাদের ওপরও হামলা চালানো হয়। পরে হামলাকারীরা বাবুলের বাড়িতে গিয়ে তাঁর স্ত্রীকে মারধর করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া ছাত্রদল নেতা জয়নাল আবেদীনের বাড়িতেও হামলার চেষ্টা করা হয়। এ সময় তাঁর বাবা মোশাহিদ আলী বাড়ির গেট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান।
অন্যদিকে, রবিন নামে এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে নিজ বাড়ি নিশ্চিন্তপুর যাওয়ার পথে হামলার শিকার হন। তাঁকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয় বলে জানা গেছে।
তেতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওলিউর রহমান জানান, হামলার খবর পেয়ে তিনি তাৎক্ষণিক পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
দক্ষিণ সুরমা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের মরদেহ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।