আঞ্চলিক ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি আঙ্কারার পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান।
শনিবার (৯ মে) সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে এক টেলিফোন সংলাপে তিনি এই সংহতি প্রকাশ করেন।
তুরস্কের যোগাযোগ অধিদফতরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বর্তমান আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিশেষ করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আমিরাতের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এরদোয়ান।
টেলিফোন আলাপে তুর্কি প্রেসিডেন্ট উল্লেখ করেন, তুরস্ক সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাণিজ্য, জ্বালানি এবং নিরাপত্তা বিশেষ করে এই তিনটি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে অত্যন্ত গুরুত্ব প্রদান করছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা নিরসনে আঙ্কারা ও আবুধাবির মধ্যে গভীর সমন্বয় প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এরদোয়ান বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তুরস্ক সব সময় বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর পাশে থাকবে এবং যেকোনো ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ প্রচেষ্টার ওপর জোর দেবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে বর্ণনা করে এরদোয়ান জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে তুরস্ক সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
তিনি বিশ্বাস করেন, কেবল সংলাপ ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমেই এই অঞ্চলের নিরাপত্তা ঝুঁকিগুলো প্রশমন করা সম্ভব। তুরস্কের যোগাযোগ অধিদফতর তাদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এনসোশ্যালে জানিয়েছে, এরদোয়ান এই সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ ও টেকসই সমাধানের লক্ষ্যে তুরস্কের কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার পাশাপাশি দুই রাষ্ট্রপ্রধান পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছেন। এরদোয়ান তার বক্তব্যে এই অঞ্চলে শান্তি স্থাপনের জন্য বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামেও তুরস্ক আঞ্চলিক অস্থিরতা কমাতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমিরাত ও তুরস্কের এই শীর্ষ পর্যায়ের আলাপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
Leave a Reply