স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, কোনো কারণেই তাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়। তিনি বলেন, তিনি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধানমন্ত্রী তাকে চেনেন এবং ব্যক্তিগতভাবে জানেন এটুকুই তাদের সম্পর্ক।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এসব কথা বলেন।
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
মীর শাহে আলম বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তার পরিবার নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পরও তার পরিবারকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবে যোগ্যতার ভিত্তিতে তার পরিবারের কোনো সদস্য দায়িত্ব পেলে সেটিকে অযথা বিতর্কিত না করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আমার সম্পর্ককে “বন্ধুত্ব” হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়। আমি আপনাদের মাধ্যমে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি, এ বিষয়টি কখনোই এভাবে উপস্থাপন করবেন না। কোনো কারণেই, কোনোভাবেই আমাদের শ্রদ্ধেয় নেতা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমি বন্ধু নই। আমি বিএনপির সাধারণ একজন কর্মী।’
তিনি বলেন, বিএনপির কর্মী হিসেবে বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া এবং বগুড়া জেলার দায়িত্ব পালন করার কারণে তারেক রহমানের সঙ্গে বহুবার সাক্ষাৎ হয়েছে। বগুড়া তারেক রহমানেরও নিজ জেলা হওয়ায় তিনি স্নেহ করেন এবং বিভিন্ন সময় পরামর্শ দেন।
মীর শাহে আলম বলেন, ‘বগুড়ার মানুষ হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আমার এইটুকু যোগাযোগ আছে। তিনি আমাকে চিনেন, ব্যক্তিগতভাবে জানেন এটুকুই আমাদের সম্পর্ক। কিন্তু তার সঙ্গে আমার বয়সেরও অনেক পার্থক্য রয়েছে। তাই ‘তারেক রহমানের বন্ধু মীর শাহে আলম’ বলে উপস্থাপন করা আমি, আমার পরিবার কিংবা সমাজের অন্য মানুষ ভালোভাবে নেবে না। এ বিষয়টি থেকে সবাইকে বিরত থাকার অনুরোধ করছি।’
নিজ মন্ত্রণালয়ের কাজ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে তিনি স্বচ্ছতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। গুরুত্বপূর্ণ সব সিদ্ধান্ত মন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমে হওয়ায় তিনি নিজেকে নিরাপদ মনে করেন বলেও উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সরকার অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার ছেলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার পর সমালোচনা শুরু হলে তিনি নিজেই তাকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন। প্রথম বোর্ড সভার পরদিনই তার ছেলে পদত্যাগ করেন। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সম্পদ নিয়ে সমালোচনার জবাবে মীর শাহে আলম বলেন, তার নির্বাচনী হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সম্পদের পরিমাণ নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। ব্যক্তি নামে নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমি কেনা হয়েছে। এসব সম্পদের অর্থের উৎস বৈধ এবং প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা তদন্ত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তিকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের আগে পূর্ণাঙ্গ তথ্য যাচাই করা উচিত। সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে বক্তব্যের আংশিক অংশ ব্যবহার না করে পুরো বক্তব্য তুলে ধরারও আহ্বান জানান তিনি।
গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমালোচনা থাকলেও তিনি কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চান। গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা সরকারের কাজকে আরও কার্যকর করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তার কোনো ভুল বা অনিয়ম নজরে এলে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তাকে অবহিত করারও অনুরোধ জানান, যাতে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকে।
Leave a Reply