মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভূমি দাতা পরিবারের সদস্য নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
এ নিয়ে এলাকায় দু’পক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে থাকায় যে।কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিষয়টি সুরাহার জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর পৃথক অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, কুলাউড়া উপজেলার জয়চন্ডী ইউনিয়নের ২৪ নং বেগমানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৪৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠাকালীন সময় হতে বিদ্যালয়টি সরকারি ভূমিতে স্থাপিত। কিন্তু ইদানিং কালে একই এলাকার বিজন চন্দ্র দাস ও তাঁর পরিবারের লোকজন বিদ্যালয়ের ভূমি তাদের পূর্ব পুরুষের দেওয়া বলে দাবি তুলেন। আর এটি নিয়েই এলাকায় দুটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এক পক্ষ ‘এসএ’ এবং ‘আরএস’ পর্চা হাতে নিয়ে বলছেন, বিদ্যালয়টি সরকারি জায়গায় স্থাপিত। বিজন চন্দ্র দাসের পক্ষ বলছেন, এটি তাদের পূর্ব পুরুষদের দেওয়া সম্পত্তি। এনিয়ে শান্তিপ্রিয় এলাকায় এখন দুটি পক্ষের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। যে কোন সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন এলাকার সাধারণ লোকজন।
এ বিষয়ে স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা এবং ওয়ার্ড সদস্য বিমল দাস জানান, ৫৬ সালের এসএ পর্চায় বেগমানপুর ফ্রি প্রাইমারী স্কুল, পক্ষে ম্যানেজিং কমিটি এবং বর্তমান আরএস পর্চায় খতিয়ান নং-৬২৮, জেএল নং-২৭, দাগ নং-১৬৮৫, ৩২ শতক এই জমির মালিকানায় বাংলাদেশ সরকার, পক্ষে শিক্ষা বিভাগ স্পষ্ট লেখা রয়েছে।
এছাড়াও মন্তব্য কলামে বিদ্যালয়ের নাম উল্লেখিত আছে। এত কিছু থাকার পরেও বিজন চন্দ্র দাস ওই জমিটি তার পূর্ব পুরুষের দাবী করে স্কুলে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। বারবার বলার পরেও বিদ্যালয়ের ভূমিদাতার কোনো দালিলিক প্রমাণাদি সাধারণ সভায় উত্থাপন করতে পারেন নাই তিনি।
বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ালেখার পরিবেশ সৃষ্টি এবং এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে বিদ্যালয়ের ভূমির কাগজপত্রাদি যাচাই করে ভূয়া দাতা সদস্য অপসারণের যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন ইউপি সদস্যসহ এলাকার লোকজন।
এ বিষয়ে বিজন চন্দ্র দাস জানান, এলাকার প্রবীণ সকলেই জানেন এটি তাদের মৌরশী সম্পত্তি। তাদের দাদা বৃন্দাবন দাস এই জায়গাটি স্কুলের জন্য দান করেছেন। এর আগের কমিটিগুলোতেও দাতা সদস্য হিসাবে আমাদের পরিবারের লোকজন ছিলেন। বর্তমানে গুটিকয়েক ব্যাক্তি তাদের পরিবারকে হেনস্তা করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।
ইউএনও অফিসে তারা যে আবেদন করেছিলেন সেটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন যে, বিদ্যালয়ের জায়গা আমাদের দাদা দান করেছেন এবং মোতাবেক পরবর্তী কমিটি করার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাকে নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা তাদের পরিবারকে হেনস্তা করার চেষ্টা করছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান বিজন চন্দ্র দাস।
পার্শবর্তী এলাকার বাসিন্দা ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আতিকুর রহমান ইমরান জানান, বিজন চন্দ্র দাসের পরিবারের লোকজন মুখে বলছেন এটি তাদের মৌরশী সম্পত্তি। কিন্তু কোন দলিলপত্র দেখাতে পারছেন না। এসএ, আরএস, প্রিন্ট পর্চাসহ সকল কাগজেই এটি সরকারি সম্পত্তি এবং বিদ্যালয়ের নামে।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খোরশেদ আলম জানান, তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজখবর নিয়ে জেনেছেন যে, বর্তমানে দাতা দাবীদারগণ বিগত সময়েও দাতা সদস্য হিসাবে প্রত্যোকটা কমিটিতে ছিলেন।
আজকে যারা প্রতিবাদ করছেন তারাও সেইসময় সেটি মেনে নিয়েই কমিটি করেছেন। আমি সেই মোতাবেকই প্রতিবেদন দিয়েছি।
Leave a Reply