সবসময় ডেস্ক ::: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একমাত্র মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজনীতিতে আসছেন কি না, এমন আলোচনা এখন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এই আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অনুষ্ঠানে তার সক্রিয় উপস্থিতি এ ধারণাকে শক্ত করছে।
এর আগে বাবার প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্ট’ অনুষ্ঠানে অংশ নেন জাইমা রহমান। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গভর্নর ডেভিড বিসলে, সাবেক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ডেস্ট্রোসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ছিল তার রাজনৈতিক উপস্থিতির প্রথম স্পষ্ট ইঙ্গিত।
গত ২৩ নভেম্বর প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেলের আয়োজিত এক ভার্চুয়াল সভায় লন্ডন থেকে যুক্ত হন জাইমা রহমান। সভায় বক্তব্য দিয়ে তিনি দলীয় নেতাদের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় শোক অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের পাশেই দেখা গেছে জাইমা রহমানকে। বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ, জানাজা ও দাফনসহ সব আনুষ্ঠানিকতায় বাবার সঙ্গে তার উপস্থিতি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়েও অংশ নেন তিনি।
গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার দিন ফেসবুক পোস্টে জাইমা রহমান দাদির পাশে থাকার কথা জানান এবং বাবাকে সর্বাত্মক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেন। একই সঙ্গে একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
১৯৯৫ সালের ২৬ অক্টোবর জন্ম নেওয়া জাইমা রহমান ঢাকায় শৈশব কাটিয়ে ২০০৮ সালে লন্ডনে যান। কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক এবং লিংকনস ইন থেকে ‘বার অ্যাট ল’ সম্পন্ন করে তিনি একজন পেশাদার আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে পারিবারিক ধারাবাহিকতা নতুন নয়। সেই বাস্তবতায় জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার নাতনি হিসেবে জাইমা রহমানের রাজনীতিতে পদার্পণ অনেকের কাছেই সময়ের দাবি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলীয় সূত্রও জানাচ্ছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তিনি বাবার পাশে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারেন।
Leave a Reply