সবসময় ডেস্ক :::প্রচারণার শেষ দিনে ধানের শীষের পক্ষে ব্যাপক জনসমাগম
গণমিছিল, গণসংযোগ, জনসভা ও উঠান বৈঠকসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দলীয় ও জোট প্রার্থীদের জয় নিশ্চিত করতে সিলেটের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ছুটে বেড়িয়েছেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। কখনো জকিগঞ্জ–কানাইঘাট, কখনো বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর, আবার কখনো নিজের নির্বাচনী এলাকার প্রার্থীর পক্ষে বিরামহীন প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন তিনি।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ দিনে সিলেট জেলার প্রতিটি সংসদীয় আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও জনসমাগম লক্ষ্য করা গেছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একযোগে অনুষ্ঠিত পথসভা, গণসংযোগ ও জনসভায় সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য।
একই সময়ে সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের পক্ষে কর্মসূচি পালিত হয়। এতে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের সক্রিয় উপস্থিতি দেখা যায়। নির্বাচনী মাঠে বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা ও জনসমর্থনের বিষয়টি এদিন স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে।
অন্যদিকে, প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ একই সময়ে সব আসনে সমানভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়নি বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের শেষ দিনে জনসমর্থন প্রদর্শনে বিভিন্ন দলের সক্ষমতার পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র রক্ষার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবারের নির্বাচনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি তৎপরতা ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সিলেট জেলার সমন্বয়কের দায়িত্বও পালন করছেন আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। ফলে নির্বাচনী প্রচারণার পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক নানা দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তাকে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আসনে ছুটে যেতে হয়েছে।
সিলেট–৫ (জকিগঞ্জ–কানাইঘাট) আসনে বিএনপি দলীয় প্রার্থী না দিলেও জোট প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে সমর্থন দিয়েছে দলটি। গত ২৭ জানুয়ারি কাইয়ুম চৌধুরী এই প্রার্থীর পক্ষে কানাইঘাটে একাধিক নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নেন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল কর্মীসভা, পথসভা ও গণসংযোগ।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি তিনি সিলেট–৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর পক্ষে জৈন্তাপুর উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণা চালান। এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।
একই দিনে তিনি সিলেট–৬ (গোলাপগঞ্জ–বিয়ানীবাজার) আসনের বিএনপি প্রার্থী এবং সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীর পক্ষেও প্রচারণায় অংশ নেন।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) তিনি সিলেট–২ (বিশ্বনাথ–ওসমানীনগর) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনার সমর্থনে বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগরে ব্যাপক গণসংযোগ করেন এবং নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি ইলিয়াস আলীর স্মৃতিকে ধারণ করে লুনাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
এছাড়া সিলেট–১ (নগর–সদর) আসন এবং নিজের নির্বাচনী এলাকা সিলেট–৩ (দক্ষিণ সুরমা–ফেঞ্চুগঞ্জ–বালাগঞ্জ) আসনেও তিনি নিয়মিত প্রচারণা চালিয়েছেন।
নিজের তৎপরতা প্রসঙ্গে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, সিলেটে বিএনপি জোটের সমন্বয়ক হিসেবে সব প্রার্থীর পক্ষেই তিনি নিয়মিত মাঠে কাজ করছেন। তবে নিজের আসন হিসেবে সিলেট–৩ আসনের প্রার্থী এম এ মালেকের পক্ষে তিনি বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছেন। পাশাপাশি সিলেট–১ আসনের গুরুত্ব বিবেচনায় দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের পক্ষেও নিয়মিত সভা-সমাবেশ, উঠান বৈঠক ও গণসংযোগ চালিয়ে গেছেন।
Leave a Reply