আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ভারতের আশ্রয় নিয়েছেন তৃণমূল স্তরের অনেক নেতাকর্মীই। এবার ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার পরেও ভারতে অবস্থানের অপরাধে কলকাতায় ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
জানা গেছে, তারা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মী এবং তাদের মধ্যে একজন সঙ্গীতশিল্পীও।
গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) কলকাতার কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করেছে দেশের বেসরকারি একটি গণমাধ্যম।
কলকাতা পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তারা মূলত বাংলাদেশের নোয়াখালী ও টাঙ্গাইলের বাসিন্দা। তাদের কাছ থেকে ৬টি বাংলাদেশের বৈধ পাসপোর্ট উদ্ধার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- আবির হোসেন, মহম্মদ মামুন রশিদ, মহম্মদ আলিমুন গাজি, আজম মোল্লা, ফয়জল আমিন, জায়দুল ইসলাম।
এদের মধ্যে আজম মোল্লা বাংলাদেশের গায়ক। তিনি কলকাতায় আসার পরও পরিচিত মহলে গান গেয়ে বেড়িয়েছেন বলে জানা যায়। গ্রেপ্তার হওয়ার সময় আজম নিজের গিটারও হাতছাড়া করতে চাননি। পার্ক স্ট্রিট থানার পুলিশ কর্মকর্তাদের তিনি অনুরোধ জানান, যাতে তাকে গান গাইতে দেয়া হয়।
কলকাতা পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ভিসার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও পার্ক স্ট্রিটের কাছে কলিন স্ট্রিটের একটি হোটেলে ৬ জন বিদেশি অবস্থান করছে বলে তাদের কাছে খবর আসে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে হোটেলটিতে অবস্থানরত বিদেশি বোর্ডারদের পাসপোর্ট ও ভিসা পরীক্ষা করতে যান পুলিশ কর্মকর্তারা।
সেখানে গিয়ে তারা দেখেন, হোটেলটির একটি রুম ভাড়া নিয়েই রয়েছেন ৬ জন বাংলাদেশি। তারা মেডিকেল ভিসায় ভারতে আসলেও দীর্ঘদিন আগেই সেই ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এমন ঘটনার জেরে ওই ছয়জনকে হেফাজতে নেয় পুলিশ।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই বাংলাদেশি যুবকরা প্রত্যেকেই আওয়ামী লীগের সদস্য। বাংলাদেশ অশান্ত হওয়ার পর আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে মেডিকেল ভিসা নিয়ে পালিয়ে আসেন কলকাতায়। গত বছর তারা ৬ জনই আলাদাভাবে দেশ ছাড়া হন। শারীরিক অসুস্থতা দেখিয়ে চিকিৎসার কারণে তারা ভিসা নিয়ে কলকাতায় আসেন।
এখানে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং একের পর এক হোটেল পাল্টে থাকতে শুরু করেন। পরে বাংলাদেশ থেকে নিয়ে আসা টাকা শেষ হতে শুরু করলে চলতি ফেব্রুয়ারি মাসের শুরু থেকে কলিন স্ট্রিটের হোটেলটির একটি রুমেই থাকতে শুরু করেন ওই ৬ জন।
গত বছরের নভেম্বর থেকে তাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হতে থাকে বলেও জানা গেছে এবং চলতি বছরের জানুয়ারির মধ্যে প্রত্যেকেরই ভিসা শেষ হয়ে যায়। কিন্তু প্রাণের ভয়ে কেউ বাংলাদেশে ফিরে যেতে চাননি। বরং কলকাতা থেকে চাকরির উদ্দেশে বিদেশে পালানোর ছক কষছিলেন।
সোমবার তাদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে ৬ জনকেই ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। গ্রেপ্তারের পরও আওয়ামী লীগের সদস্যরা দেশে ফিরতে চান না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন। যদিও সাজার মেয়াদ শেষে আইন মেনেই তাদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
Leave a Reply