স্টাফ রিপোর্টার ::: সিলেটের সীমান্তবর্তী জৈন্তাপুর উপজেলার হরিপুর রুট এখন ভারতীয় অবৈধ চোরাচালানের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট পয়েন্টে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এ রুটে সক্রিয় একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার ভারতীয়
কসমেটিকস, শাড়ি ও বিভিন্ন অবৈধ পণ্য সিলেট নগরীতে সরবরাহ করছে। এ সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে তিন ব্যক্তি এয়াহিয়া, নুরুল ও আমিন মোল্লার নাম উঠে এসেছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারত থেকে আনা অবৈধ পণ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে সাধারণ শপিং ব্যাগে বহন করা হচ্ছে। চোরাকারবারিরা সাধারণ যাত্রী বা ক্রেতার বেশে এসব ব্যাগ বহন করায় দূর থেকে বোঝার কোনো উপায় থাকে না যে এগুলো চোরাচালানের মালামাল। বড় কার্টন বা বস্তার পরিবর্তে শপিং ব্যাগ ব্যবহারের এই কৌশলে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কসমেটিকস ও দামি শাড়ি অনায়াসেই হরিপুর রুট পেরিয়ে সিলেটে প্রবেশ করছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে এসব পণ্য মূলত জিন্দাবাজার ও বন্দরবাজার এলাকায় সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে সবচেয়ে বেশি নামানো হচ্ছে নগরীর লালাদিঘীর পাড় এলাকায়। সেখানকার কয়েকটি নির্দিষ্ট পয়েন্ট, গোপন গোডাউন ও অসাধু ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যেই এসব চোরাই পণ্য নগরীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে ছড়িয়ে পড়ছে।
এদিকে, এই অবৈধ বাণিজ্যের কারণে সরকার বিপুল পরিমাণ শুল্ক রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। একই সঙ্গে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারী ব্যবসায়ীরা অসম প্রতিযোগিতার কারণে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযোগে উঠে আসা তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে এলাকায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। তাদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ও লাইনম্যানদের মাধ্যমে মহাসড়ক ও বিভিন্ন চেকপোস্টের তথ্য আগেভাগেই চোরাকারবারিদের কাছে পৌঁছে যায়। ফলে টহল ও নজরদারি থাকা সত্ত্বেও অধিকাংশ চালান নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছে যায়। মাঝে মধ্যে ছোটখাটো চালান জব্দ হলেও মূল হোতারা থেকে যান ধরাছোঁয়ার বাইরে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকলেও শপিং ব্যাগের আড়ালে পরিচালিত এই অভিনব কৌশলে অবৈধ পণ্য সরবরাহ থামানো যাচ্ছে না। তাই হরিপুর রুটে চোরাচালান নিয়ন্ত্রণে আরও কঠোর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
Leave a Reply