সব সময় প্রতিবেদন :::: মানবজীবন আসলে এক কঠিন পরীক্ষা। স্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা মানুষকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন পরীক্ষা করার জন্য—কে সুখে-সমৃদ্ধিতে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকে এবং কে দুঃখ-দুর্দশায় তাঁর দিকেই ফিরে আসে। কুরআনে আল্লাহ এই পরীক্ষাকে ‘ফেতনা’ নামে উল্লেখ করেছেন। ফেতনার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারলে পরকালে রয়েছে অফুরন্ত পুরস্কার, আর ব্যর্থতা ডেকে আনে কঠিন ও ভয়াবহ শাস্তি।
ফেতনার আগমনের বার্তা
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, সময় যতই অগ্রসর হবে, ফেতনাও তত বাড়বে। এমন দিন আসবে, যখন ফেতনা একের পর এক তসবির দানা ছিঁড়ে পড়ার মতো দ্রুতগতিতে মানুষকে আঘাত করবে। সেই কঠিন সময়েও একজন মুমিনের দায়িত্ব—ফেতনাকে চিনে নেওয়া এবং ঈমান-আমল আঁকড়ে ধরে তা মোকাবিলা করা।
মানবতার শত্রুর প্রতিজ্ঞা
আদম (আ.)-এর সৃষ্টি ও সম্মানের নির্দেশ অমান্য করে ইবলিশ যখন অভিশপ্ত হয়ে যায়, তখন সে আল্লাহর কাছে মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের প্রতিজ্ঞা করে। সে বলে—
“আমি তাদের সামনে, পেছনে, ডান ও বাম দিক থেকে আক্রমণ করব; এবং তাদের অধিকাংশকে তুমি কৃতজ্ঞ পাবে না।”
(সুরা আরাফ : ১৭)
শয়তানের উদ্দেশ্য মানুষকে সরাসরি এসে ভয় দেখানো নয়; বরং জীবনের চারদিকে বিভিন্ন প্রলোভন, পাপ, বিভ্রান্তি ও কু-সংস্কৃতি ছড়িয়ে দিয়ে ঈমানকে ধ্বংস করা। আজকের সমাজে আমরা সেটাই স্পষ্ট দেখতে পাই।
সামাজিক সংস্কৃতিতে ফেতনার ছায়া বর্তমান সময়ে মুসলিম সমাজে বিভিন্ন উৎসব, বিনোদন, রীতিনীতি ও সামাজিক সংস্কৃতির আড়ালে বিধর্মীদের চিন্তা-চেতনা দ্রুত প্রবেশ করছে। যুবসমাজের অনেকেই ভুলে যাচ্ছে ইসলামী মূল্যবোধ; বরং তারা মনে করছে, এসব অনুকরণই নাকি আধুনিকতা ও সফলতার চিহ্ন। ফলে অনেকেই অজান্তেই এমন পথে হাঁটছে, যা ঈমানকে দুর্বল করে দেয়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছিলেন—
“এক সময় আসবে, যখন ঈমান রক্ষা করা হবে জ্বলন্ত অঙ্গার হাতে রাখার মতো কঠিন।”
(মেশকাত)
ফেতনার সময় করণীয়
এ কঠিন বাস্তবতায় রাসুলুল্লাহ (সা.) আমাদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) বলেন, নবীজি (সা.) বলেছেন—যখন দেখবে মানুষ ওয়াদা ভঙ্গ করছে, আমানতের খেয়ানত করছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়েছে, তখন—নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখো, অকারণে বাইরে জড়িয়ে পড়ো না,
জিহ্বাকে সংযত করো, যা জানো—সেটাই আঁকড়ে ধরো, অজানা ও সন্দেহজনক বিষয় বর্জন করো, নিজের দায়িত্বের ব্যাপারে সতর্ক হও এবং অপ্রয়োজনে অন্যের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করো না।
(আবু দাউদ)
উপসংহার
ফেতনার এই যুগে টিকে থাকার একমাত্র পথ হলো—আল্লাহর প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস, সুন্নাহর অনুসরণ, সৎকাজে অটল থাকা এবং পাপ ও বিভ্রান্তির সব দরজা বন্ধ করে দেওয়া। আল্লাহর সান্নিধ্যই একজন মুমিনকে নিরাপদে টিকিয়ে রাখতে পারে। তাই প্রত্যেকের উচিত নিজের ঈমানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ইসলামী শিক্ষাকে বাস্তবায়ন করা।
Leave a Reply