সিলেট সদর থানাধীন ধোপাগুল এলাকায় অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ১টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির।
জানা গেছে, অভিযানে সিলেট সদর উপজেলার এয়ারপোর্ট থানা ও ধোপাগুল এলাকায় ইটভাটা প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৫ লঙ্ঘন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ধারা ৬(ক) অনুযায়ী নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন সংরক্ষণ ও ব্যবহারের অভিযোগে ৩টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।
মোবাইল কোর্টে প্রসিকিউশন প্রদান করেন পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক ফাইজুল কবির। অভিযানে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
অভিযানকালে ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) অনুযায়ী আইন লঙ্ঘনের দায়ে ৩টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব মামলায় মোট ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আরোপ ও আদায় করা হয়।
এছাড়াও বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এর ৬(ক) ধারায় নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যবহার ও বিক্রির দায়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এ সময় সিলেট সদর থানাধীন মেসার্স ইসলাম ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা, ধোপাগুল এলাকার মেসার্স ভাই ভাই রেস্টুরেন্টকে ২ হাজার টাকা এবং তিন কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন সংগ্রহে রাখার দায়ে মেসার্স ইমন ভ্যারাইটিজ স্টোরকে ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের অধীন সকল জেলায় অবৈধ ইটভাটা, নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন সংরক্ষণ, ক্রয় ও বিক্রয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে নিষিদ্ধ পলিথিন, পাহাড়-টিলা কর্তন, শব্দ দূষণ ও বায়ু দূষণ বিরোধী নিয়মিত মোবাইল কোর্ট অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পরিবেশ সুরক্ষা, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও চলমান থাকবে। অবৈধ ইটভাটা ও নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবহারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়।
Leave a Reply