ঢাকা থেকে ২ লাখ লিটার জ্বালানী তেল নিয়ে সিলেট আসছিলো ট্রেন। পথিমধ্যে হবিগঞ্জের মাধবপুরে লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে ট্রেনের ৬ টি বগি। এতে ৪০ শতাংশ ট্রেন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আর বিজিবি জানিয়েছে, তারা এক হাজার লিটার তেল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
এদিকে, বুধবার রাত দুর্ঘটনার পর থেকে ছড়িয়ে পড়া তেল লুটের রীতিমত হিড়িক শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা কলস, বলিতি, জগ যে যা পারছেন তাই নিয়ে তেল লুটে নিয়ে যাচ্ছেন। বৃহ্পতিবার দিনেও এই লুট অব্যাহত ছিলো। তেল লুট ঠেকাতে সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তবু লুটপাঠকারীদের ঠেকানো যাচ্ছে না।
বুধবার রাত ৯টার দিকে, হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা এলাকায় তেলবাহী ট্রেনটির ৬টি কন্টেইনার লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত সবগএলা বগি উদ্ধার করা যায়নি। ফলে প্রায় ২০ ঘন্টায়ও সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ এখনো স্বাভাবিক হয়নি। এদিকে, দুর্ঘপনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি ঘটন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ভোরে আখাউড়া থেকে পাঠানো উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। সকাল থেকে রেলওয়ের প্রকৌশল ও উদ্ধারকারী দল ক্ষতিগ্রস্ত বগি সরানো, লাইন মেরামত এবং ব্রিজের অবস্থা পুনরুদ্ধারে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার কারণে রেললাইন ও নিকটবর্তী ব্রিজে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা বিভাগের রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত গতি, লাইনজনিত ত্রুটি কিংবা অন্য কোনো কারণ—সব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
মনতলা স্টেশনের প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা মহসিন উদ্দিন বলেন, “তেলবাহী ট্রেন সাধারণত কম গতিতে চলে। তবে দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনটি তুলনামূলক বেশি গতিতে চলছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে চাকা স্লিপ করে লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।”
এদিকে দুর্ঘটনার পরপরই ছড়িয়ে পড়া তেল সংগ্রহ করতে আশপাশের মানুষ ভিড় করলে ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে নারীপেুরুষ শিশু নির্বিশেষে তেল লুটে নিতে দেখা যায়। রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তবু লুট অব্যাহত আছে।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার প্রভাবে সিলেট-চট্টগ্রাম ও সিলেট-ঢাকা রুটের একাধিক ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস, ঢাকাগামী উপবন ও কালনী এক্সপ্রেস সিলেট থেকেই যাত্রা বাতিল করেছে। একইভাবে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী পাহাড়িকা এক্সপ্রেসও যাত্রা বাতিল করা হয়েছে।
বিজিবির হবিগঞ্জ ৫৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান বলেন, বিজিবির উদ্ধারকারী দল নিজস্ব উদ্যোগে ড্রাম ও জারিকেন সংগ্রহ করে প্রায় এক হাজার লিটার ডিজেল উদ্ধার করে সংরক্ষণ করেছে। এ উদ্যোগের ফলে সরকারি সম্পদের অপচয় রোধের পাশাপাশি দুর্ঘটনাস্থলে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বজায় রাখাও সম্ভব হয়েছে।
Leave a Reply