সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট উজানীনগর এলাকায় একটি তিনতলা বাড়িতে অভিযান চালিয়ে এক চিহ্নিত মানবপাচারকারীসহ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উজানীনগর গ্রামের আব্দুল করিম ওরফে ‘ব্যান্ডেজ করিমের’ মালিকানাধীন বাসা থেকে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
আটককৃতদের মধ্যে ১৩ জন দেশের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা এবং একজন স্থানীয় পাচারকারী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
আটক পাচারকারীর নাম মো. হানিফ মিয়া (৩৫)। সে জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবিরহাওর গ্রামের সাহেব মিয়ার ছেলে।
অন্যান্য আটককৃতরা হলেন— সুনামগঞ্জের তানজিম উদ্দিন (২৮), পিরোজপুরের হাফিজুর রহমান (৩৯), খুলনার মো. হাসান (২৬), নুরজাহান খাতুন (৩৫), এশা আক্তার (২৫), সুমি খাতুন (২২), সোনিয়া বেগম (৩০) ও শিশু হামজা শেখ (০২)। এছাড়াও রয়েছেন ঢাকার আমেনা আক্তার পলি (৩৩), সাতক্ষীরার নাসরিন আক্তার (২৩) ও সিমরান সুলতানা (২৫), নোয়াখালীর রুমি আক্তার (৩৫) এবং যশোরের সবুরুন নেছা (৪৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হানিফ মিয়া ডিবিরহাওর, ফুলবাড়ী, ঘিলাতৈলসহ বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়ে ২০ থেকে ৫০ হাজার রুপির বিনিময়ে অবৈধভাবে মানুষ পারাপার করে আসছিল। রোববার উজানীনগর এলাকার ওই বাড়িতে সন্দেহভাজন কিছু লোক জড়ো হওয়ার খবর পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করে তাদের আটক করে। পরে খবর পেয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিম উদ্দিন ও মিজানুর রহমান জানান, গত ৫ আগস্টের পর থেকে সীমান্ত এলাকায় পাচারকারী চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাচারকারীরা অবৈধভাবে সীমান্ত পার করে নিয়ে আসা ব্যক্তিদের বিভিন্ন চোরাকারবারিদের বাড়িতে লুকিয়ে রাখে এবং সুযোগ বুঝে গন্তব্যে পাঠায়। আটক হানিফ এর আগেও একই অপরাধে পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিল।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, স্থানীয় জনতা পাচারকারীসহ তাদের আটক করে থানায় খবর দিলে পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সোমবার (১৮ মে) তাদের আদালতে প্রেরণ করা হবে।
Leave a Reply