পারভেজ আহমদ :::: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যখন সারা দেশে পশুর হাটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করার কথা, তখন সিলেটের সীমান্ত অঞ্চলে দেখা দিয়েছে ভিন্ন চিত্র। ভারত থেকে অবৈধ পথে আসা গরু ও মহিষের বন্যায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। একই সঙ্গে লোকসানের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন জেলার পশুর হাটগুলোর ইজারাদাররাও।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত এলাকা বর্তমানে চোরাকারবারিদের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত ভারতীয় গরু ও মহিষ সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। পরে এসব পশু দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রভাবশালী একটি চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় দীর্ঘদিন ধরেই এই চোরাচালান চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বাসিন্দা জানান, অনেক সময় পুলিশের চেকপোস্টের সামন দিয়েই পশুবাহী গাড়ি চলাচল করলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ভয়ে সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।
অবৈধভাবে ভারতীয় পশু প্রবেশের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় খামারিরা। সারা বছর ঋণ ও ধার-দেনা করে গরু লালন-পালন করলেও এখন ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তারা চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন।
কানাইঘাটের খামারি জুনেল আহমদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সারা বছর কষ্ট করে গরু বড় করেছি ঈদের বাজারে লাভের আশায়। কিন্তু এখন বাজার ভারতীয় গরুতে ভরে গেছে। আমাদের মূলধনই উঠবে কি না, সেই দুশ্চিন্তায় আছি।
শুধু খামারিরাই নন, ক্ষতির আশঙ্কা করছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫টিসহ জেলার অর্ধশতাধিক পশুর হাটের ইজারাদাররা। তাদের অভিযোগ, অবৈধ পশুর কারণে বৈধ হাটে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ফলে রাজস্ব আদায়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিলেট জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, “চোরাচালান দমনে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছি। সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও সীমান্ত থেকে পশুর হাট পর্যন্ত চোরাচালান চক্রের তৎপরতা এখনো বহাল রয়েছে। ঈদের আনন্দ যখন ঘরে ঘরে পৌঁছানোর অপেক্ষায়, তখন সিলেটের হাজারো খামারির কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও গভীর হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষা এবং বৈধ পশুর বাজার সচল রাখতে সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং হাট ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান তদারকি এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
Leave a Reply