যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের ছুটি বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তির জন্য চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি।
পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, শুক্রবার (২২ মে) নতুন হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। তবে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় জানান, সরকারি দায়িত্ব পালনের কারণে তিনি শনিবার তার ছেলে ডনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র এর বিয়েতে উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো ট্রাম্পের নিউ জার্সিতে অবস্থিত নিজের গলফ রিসোর্টে কাটানোর কথা ছিল, কিন্তু এখন তিনি হোয়াইট হাউসে ফিরে যাচ্ছেন।
পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু মার্কিন সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা মেমোরিয়াল ডে উইকেন্ডের জন্য তাদের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন। নতুন হামলার সম্ভাবনার আশঙ্কায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যাক্সিওস নিউজের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প শুক্রবার তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ সদস্যদের সঙ্গে ইরান নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠক করেছেন। সূত্রগুলো বলছে, আলোচনায় শেষ মুহূর্তে কোনো অগ্রগতি না হলে তিনি নতুন করে হামলা চালানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরে ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ক্রমশ হতাশ হয়ে পড়েছেন। সপ্তাহজুড়ে কূটনীতির পক্ষে থাকা তার অবস্থান হামলার নির্দেশ দেওয়ার দিকে ঝুঁকেছে।
সিবিএস-এর মতো অ্যাক্সিওসও জানিয়েছে, সংঘাত পুনরায় শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে ট্রাম্প এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি।
এ প্রসঙ্গে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি সিবিএস-কে বলেন, ইরান যদি কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে তার পরিণতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। শনিবার সকালে তিনি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এরইমধ্যে ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে মার্কিন দাবি গ্রহণযোগ্য নয় বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই ধরনের শর্ত আলোচনাকে জটিল করে তুলছে এবং কোনো চূড়ান্ত সমঝোতার পথে এগোনো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আলোচনার বর্তমান লক্ষ্য যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত কমানোর দিকে। পারমাণবিক ইস্যু এখনও চূড়ান্ত আলোচনায় আসেনি। একইসঙ্গে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়ে গেছে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী ঘিরে নতুন করে কৌশলগত উত্তেজনার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। সুইডেনে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে আলোচনার পর তিনি বলেন, হরমুজ সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রকে বিকল্প পরিকল্পনা প্রস্তুত রাখতে হবে। প্রণালি খুলে দিতে অস্বীকৃতি জানালে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের কিছু একটা করতে হবে বলে সতর্ক করেন তিনি। তবে সেই ক্ষেত্রে ন্যাটোর ভূমিকা থাকবে কি না, এ বিষয়ে কিছুই স্পষ্ট করেননি তিনি।
Leave a Reply