সবসময় ডেস্ক :::: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। তার আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক হবে তারেক রহমানের।
প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৭ চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব এ তথ্য জানান।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈঠকের সময়সূচি এখনো আলোচনাধীন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।
২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওইদিন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর দুপুরে তিনি ট্রেনযোগে বেইজিংয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওউথাই স্টেট গেস্ট হাউসে থাকবেন।
২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট অব সিপিসি সেন্ট্রাল কমিটি, বাণিজ্যমন্ত্রী, সিআইডিসিএর চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।
বিকেলে চীনের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরও কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
পরদিন ২৬ জুন চেয়ারম্যান অব দ্য স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (স্পিকার সমমর্যাদার পদ) প্রধান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এর ফাঁকে ২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ওইদিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন জানিয়ে সচিব জানান, মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই সফর ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান, তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশা করি।
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ প্রশ্নে সচিব বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে গড়ে তোলার কথা রয়েছে। সেটির কাজও হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। আমরা বলেছি, ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম হবে। সুতরাং নিশ্চয়ই আমরা চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে চাই।
Leave a Reply