বিশ্বকাপের হতাশা ভুলে নতুনভাবে শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। সেই লক্ষ্যে বিশ্বকাপের পর প্রথমবার দল ঘোষণা করেছেন কোচ কার্লো আনচেলত্তি। অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের বিপক্ষে আসন্ন প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের দলে রেখেছেন ১৭ নতুন মুখ।
বিশ্বকাপে খেলা নয়জন ফুটবলারকে ধরে রেখেছেন আনচেলত্তি। তাদের মধ্যে আছেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র, রাফিনিয়া, মারকিনিওস ও ব্রুনো গিমারেস। নেইমার, কাসেমিরো, দানিলো, অ্যালেক্স সান্দ্রো ও ওয়েভের্তনের মতো অভিজ্ঞদের দলে রাখেননি তিনি।
সর্বশেষ বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নিয়েছিল ব্রাজিল। নরওয়ের বিপক্ষে হারের সেই হতাশা এখনও আছে বলে জানিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, বিশ্বকাপে ব্রাজিলের পারফরম্যান্স ভীষণ হতাশ করেছে।
আনচেলত্তি বলেন, ‘আমার মনে হয় না, প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা কিছু অর্জন করতে পেরেছি। স্বাভাবিকভাবেই সেই কষ্টটা রয়ে গেছে। নরওয়ের বিপক্ষে হেরে বিদায় নেওয়াটা ভীষণ হতাশার ছিল। এর জন্য আমরা খুব অনুতপ্ত।’
অবশ্য, অতীত নিয়ে পড়ে না থেকে এবার নতুন প্রজন্মের দিকে নজর দিতে চান আনচেলত্তি। নতুন দলে আটজনের অভিষেক হতে পারে। তাদের মধ্যে রয়েছেন পেদ্রো মরিসকো, অটাভিও, আর্থুর দিয়াস ও এস্তেভাও। ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগে ভালো করা খেলোয়াড়দেরও এবার সুযোগ দিয়েছেন আনচেলত্তি। তার মতে, শারীরিকভাবে তারা এখন বেশ ভালো অবস্থায় আছেন।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে এন্দ্রিককে নিয়েও বড় পরিকল্পনা আনচেলত্তির। ব্রাজিল কোচ মনে করেন, জাতীয় দলে ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
আনচেলত্তি জানিয়েছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য এখন থেকেই নতুন দল তৈরি করতে চান তিনি। তবে, এজন্য কোনো তাড়াহুড়া করতে চান না। ধীরে ধীরে তরুণদের সুযোগ দিয়ে ভবিষ্যতের জন্য সঠিক দল গড়াই তার লক্ষ্য।
ব্রাজিল কোচ বলেন, ‘ব্রাজিলের খেলোয়াড়রা এখন শারীরিক দিক থেকে আগের চেয়ে ভালো অবস্থানে আছে। ভালো হওয়ার একটা কারণ হলো, ব্রাজিলের লিগ অন্যান্য লিগের চেয়ে বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছে। তবে বিষয়টি এমন নয় যে আমরা কেবল ব্রাজিলে খেলা খেলোয়াড়দেরই অগ্রাধিকার দিচ্ছি। আমার মনে হয়, ব্রাজিলের ঘরোয়া লিগের বিভিন্ন স্তরে থাকা খেলোয়াড়রা খুবই চমৎকার করছে।’
নতুন ব্রাজিলের প্রথম পরীক্ষা হবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। আগামী ২৫ ও ২৯ সেপ্টেম্বর টাউনসভিল ও ব্রিসবেনে দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে সেলেসাওরা। এরপর ৩ অক্টোবর কলকাতায় ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামবে পাঁচবারের বিশ্বজয়ীরা।