পারভেজ আহমদ:::সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলা ভূমি অফিসে নামজারি (জমা-খারিজ) সেবাকে ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নামজারি সহকারী অসিম চন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, মোটা অঙ্কের ঘুষ ছাড়া তার টেবিলে কোনো নামজারির ফাইলই এগোয় না। ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসে যেন তিনি নিজেরই একচ্ছত্র ‘ঘুষের রাজত্ব’ কায়েম করেছেন।

এসব অভিযোগে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এ লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, গোয়াইনঘাট উপজেলার নিয়াগুল গ্রামের বাসিন্দা মো. দেলোয়ার হোসেন নিজের খরিদা ২ শতক বাড়ি শ্রেণির জমিসহ আত্মীয়-স্বজনের নামে মোট চারটি নামজারির আবেদন করেন। আবেদনগুলোর মামলা নম্বর ৪৬/২০২৪-২৫, ৫২৮/২০২৪-২৫, ৫৭৮/২০২৪-২৫ এবং ৪৪৩৪/২০২৩-২৪।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আবেদন অনুমোদনের কথা বলে মূল দলিলসহ প্রথম দফায় তার কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা ঘুষ নেন অসিম চন্দ্র। পরে ‘বাড়ি শ্রেণির জমি’ দেখিয়ে অতিরিক্ত খরচের অজুহাতে আরও ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। নিরুপায় হয়ে সেই টাকাও পরিশোধ করেন দেলোয়ার হোসেন।
কিন্তু মোট ৬০ হাজার টাকা নেওয়ার পরও নামজারির কাজ সম্পন্ন হয়নি। বরং নতুন করে দলিলে ত্রুটির অজুহাত তুলে আরও ৪০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চারটি আবেদনই বাতিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এমনকি টাকা না দেওয়ার কারণেই আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযুক্ত কর্মকর্তা প্রকাশ্যেই দম্ভোক্তি করেছেন বলেও দাবি ভুক্তভোগীর।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরে নিজের টাকা ও মূল দলিল ফেরত চাইলে মাসের পর মাস ঘুরানো হয় দেলোয়ার হোসেনকে। ২ মার্চ ২০২৬ তারিখে টাকা ও দলিল ফেরতের আশ্বাস দিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে বসিয়ে রেখে শেষ পর্যন্ত কোনো কিছু না দিয়েই তাকে বের করে দেওয়া হয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ হলো, বিষয়টি সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে জানাতে চাইলে অসিম চন্দ্র ভুক্তভোগীকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বলেন – এসিল্যান্ডের কাছে গেলেও কোনো লাভ হবে না। উল্টো তোমাকে অফিসে ঢুকতেই দেব না, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করব।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অসিম চন্দ্রের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ ঘটনায় গোয়াইনঘাটজুড়ে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন একজন নামজারি সহকারী কীভাবে এত প্রভাবশালী হয়ে উঠলেন? কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তিনি এমন বেপরোয়া আচরণ করছেন?
গত ৭ জুন ২০২৬ তারিখে ভুক্তভোগী দেলোয়ার হোসেন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিজের অর্থ ও মূল কাগজপত্র উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন।
গোয়াইনঘাটের সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে চলমান দালালচক্র, ঘুষ বাণিজ্য ও অনিয়ম বন্ধ করে সাধারণ মানুষের জন্য স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Leave a Reply