পারভেজ আহমদ :::সিলেটে চলতি জুলাই মাসের এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে সিলেটে। শনিবার (৪ জুলাই) দুপুর ৩টার দিকে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা চলতি মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে বাতাসে উচ্চমাত্রার আর্দ্রতা থাকায় প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় গরমের অনুভূতি ছিল আরও বেশি, ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সকাল থেকেই সিলেটজুড়ে ছিল তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরম। সূর্যের প্রখর তাপে নগরী ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবন অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়ে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই ঘরের বাইরে বের হননি। ফলে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি এবং যানবাহনের চলাচলও ছিল স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক কম।
বিশেষ করে রিকশাচালক, দিনমজুর, নির্মাণশ্রমিক, হকার ও খোলা আকাশের নিচে কাজ করা শ্রমজীবী মানুষেরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। প্রচণ্ড গরমে কাজের গতি কমে যাওয়ায় অনেকেই ছায়াযুক্ত স্থানে বিশ্রাম নিতে বাধ্য হন। একই সঙ্গে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদেরও অতিরিক্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, শনিবার দুপুর ১২টায় সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুপুর ৩টার দিকে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়, যা চলতি জুলাই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তিনি বলেন, বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় মানুষের শরীরে গরমের অনুভূতি আরও তীব্র হয়েছে। এ ধরনের আবহাওয়ায় দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান করলে হিটস্ট্রোক, পানিশূন্যতা ও বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হলে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। এর প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার পাশাপাশি সিলেট বিভাগের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে প্রচণ্ড গরমে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ঠান্ডা পানীয়, ডাবের পানি, শরবত ও আইসক্রিমের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় বেড়েছে। চিকিৎসকরা এ সময় পর্যাপ্ত পানি পান, প্রয়োজন ছাড়া রোদে বাইরে না যাওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে জনজীবনে স্বস্তি ফিরতে পারে। তবে ততদিন পর্যন্ত সিলেটবাসীকে প্রখর রোদ ও অস্বস্তিকর গরমের সঙ্গে মানিয়ে চলতে হবে।
Leave a Reply