মঙ্গলবার, ২১ Jul ২০২৬, ০১:৫০ পূর্বাহ্ন

নোটিশ :
www.shobshomoy.com নিউজে আপনাকে স্বাগতম | সবসময় সবার আগে, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ সংবাদ। Welcome to www.shobshomoy.com News | Always First with Fast, Accurate & Unbiased News.
শিরোনাম :
বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে সিলেটে জামায়াতের প্রছার মিছিল হামহামে আ ট কে পড়া শিক্ষার্থীদের উদ্ধার সিলেটের সেইফওয়ে হাসপাতাল সিলগালা রুবেল আহমদের পিতৃবিয়োগে সিলেট জেলা ও মহানগর যুবদলের শোক সিলেটে যে মা*ম*লা*য় কাউন্সিলর জাহাঙ্গীরের ভাতিজা কা রা গা রে আটকে গেল বিয়ে এখন কি করবেন পরীমনি! বিজিবিকে আরো পেশাদার ও সতর্ক থাকার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর গ্রেফতার মেজর মোজাফফরের বিচার হবে সেনা আদালতে সিলেটে নদ-নদীর পানি বাড়ছে মৌলভীবাজারের বন্যায় প্রায় ৮০ কোটি টাকার ক্ষতি, পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের সিলেটে ৬ ঘন্টায় পুলিশের জালে অর্ধশত সিলেটে টানা বৃষ্টি নিয়ে দুঃসংবাদ সাংবাদিক ফয়সল আহমদ বাবলুর শাশুড়ী মজমুন্নেসা তাপাদার আর নেই অবশেষে সিলেটে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে যে পুকুর কোম্পানীগঞ্জ থেকে বৈদ্যুতিক মোটর চু রি ছাতকে উ*দ্ধা*র সিলেটে পুলিশের ধাওয়ায় বিদ্যুতের খুঁটিতে পিকআপের ধাক্কা, অতঃপর.. মাধবপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ নিখোঁজের তিনদিন পর বাড়ির পাশের ক্ষেতে মিলল যুবকের লাশ সুনামগঞ্জের সীমান্তে অস্ত্র হাতে ভিডিও ভাইরাল ছাতকে সুরমার পানি বিপৎসীমার ২০ সেন্টিমিটার ওপরে সিলেটে হাম-রুবেলায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের সাক্ষাৎ আজ দেশের ৮ জেলায় ভারী বৃষ্টিতে বন্যা হতে পারে আর্জেন্টিনার খেলা দেখার সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুইজনের মৃত্যু স্পেনের জয় উদযাপন করল যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বাসিন্দারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ইরানের হামলা, আরও এক মার্কিন সেনা নিহত মঞ্চ ছাড়তে চাচ্ছিলেন না ট্রাম্প, সরাতে গিয়ে ব্যর্থ ফিফা সভাপতি ফাইনালে আর্জেন্টিনার লজ্জার রেকর্ড ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে বিশ্বব্যাপী ক্ষতি ১৭০০ কোটি ডলার প্রতিদিন শুধু সালাদ খেলেই কি শরীরে ফাইবারের ঘাটতি মিটবে

জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত ১৯ জুলাই : ৫৬ জনের প্রাণহানি ও দেশজুড়ে সেনাবহর

জুলাই অভ্যুত্থানের রক্তস্নাত ১৯ জুলাই : ৫৬ জনের প্রাণহানি ও দেশজুড়ে সেনাবহর

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাসে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর ও রক্তক্ষয়ী দিনগুলোর একটি। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির এই দিনে পুরো দেশ পরিণত হয়েছিল এক মৃত্যু উপত্যকায়।
একদিকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন, অন্যদিকে রাত ১২টা থেকে জারি করা হয় কঠোর কারফিউ। রাজপথে ছাত্র-জনতার ওপর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বর্বরোচিত নিপীড়ন এ দিন রূপ নেয় এক নির্মম ও রক্তাক্ত অধ্যায়ে।
আগের দিন ১৮ জুলাই দেশজুড়ে শতাধিক প্রাণহানির পর ১৯ জুলাই বিক্ষোভকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় বলপ্রয়োগ আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রধান প্রধান শহরগুলোতে দিনভর চলে ত্রিমুখী সংঘর্ষ। আন্দোলনকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানো হলে হাসপাতালগুলোতে গুলিবিদ্ধ মানুষের ঢল নামে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে প্রতি মিনিটে সাইরেন বাজিয়ে রিকশা, সিএনজি ও অ্যাম্বুলেন্সে করে আসতে থাকে শিশু, নারীসহ সব বয়সী মানুষের নিথর ও রক্তাক্ত দেহ।
ঢাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসায় তৎকালীন সরকারি দল বাধা সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ ওঠে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, শুধুমাত্র এই এক দিনেই সারাদেশে কমপক্ষে ৫৬ জন মুক্তিকামী মানুষ শহীদ হন।
পরিস্থিতি বেগতিক দেখে রাতে তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে জরুরি সাক্ষাৎ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানেরা। এরপরই মধ্যরাত থেকে দেশব্যাপী কারফিউ ও সেনা মোতায়েনের ঘোষণা আসে। গভীর রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম প্রধান সমন্বয়ক নাহিদ ইসলামকে সাদা পোশাকে আটক করা হয়।
এর আগে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট যেমন রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা, মহাখালী ও পল্টনে দিনভর যুদ্ধক্ষেত্রের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। ঢাকার সঙ্গে দূরপাল্লার বাস, ট্রেন, বিমান চলাচল এবং অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে অচল হয়ে পড়ে।
১৯ জুলাই বিক্ষুব্ধ জনতা নরসিংদী জেলা কারাগারে অতর্কিত হামলা চালিয়ে কারারক্ষীদের জিম্মি করে গেট ভেঙে ফেলে। এর ফলে কারাগার থেকে ৮২৬ জন বন্দি পালিয়ে যায়, যাদের মধ্যে কট্টরপন্থী নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্যরাও ছিলেন। একই সঙ্গে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট করা হয়।
এদিকে ঢাকার আকাশে র‍্যাবের হেলিকপ্টার থেকে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠলেও বাহিনীটি তা অস্বীকার করে দাবি করে, তারা কেবল আকাশ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
নিপীড়নের সমান্তরালে রাজনৈতিক অঙ্গনেও দিনটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তৎকালীন সরকারের তিন মন্ত্রীর সঙ্গে জরুরি বৈঠকে বসেন সমন্বয়ক সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ। সেখানে তারা তৎকালীন সরকার প্রধান শেখ হাসিনার প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা ও বিতর্কিত মন্ত্রীদের পদত্যাগসহ ঐতিহাসিক ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেন।
বিপরীতে তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলনকে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড বলে প্রচার করা হয়।
তবে শাহবাগে ‘সন্তানের পাশে অভিভাবক’ ব্যানারে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে ছাত্রদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করলে আন্দোলনের গতিপথ বদলে যায়। সব মিলিয়ে ১৯ জুলাইয়ের এই নজিরবিহীন রক্তপাত পরবর্তী ইতিহাস গড়ার মূল ভিত্তি তৈরি করেছিল।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com