পারভেজ আহমদ ::: সিলেট নগরীর রায়নগরে একই বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও গৃহকর্মীকে হত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো থানায় মামলা দায়ের হয়নি। তবে ঘটনাস্থলের পাশের একটি খালি জায়গা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রায়নগর এলাকার মিতালি ১৩১ নম্বর বাসা সংলগ্ন খালি জায়গা থেকে ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনজনকে হত্যার পর ঘাতক ছুরিটি সেখানে ফেলে রেখে যেতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যরা সবাই প্রবাসে থাকায় তারা দেশে ফেরার পথে রয়েছেন। পরিবারের সদস্যরা দেশে পৌঁছানোর পর তাদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
এদিকে, এ ঘটনায় আটক বাবুল মিয়াকে মামলা দায়েরের পর আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ বলছে, মামলার পর তাকে আদালতে তুলে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই রায়নগরের ওই বাসা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও আতঙ্ক ও অস্বস্তি বিরাজ করছে।
এদিকে ট্রিপল মার্ডারের প্রতিবাদে এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নগরের চৌহাট্টা এলাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়ে দ্রুত হত্যার রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ বলছে, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ ছিল, কারা জড়িত এবং ঘটনার সঙ্গে আর কেউ সম্পৃক্ত কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তারা দেশে ফেরার পর মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। আটক বাবুলকে মামলা দায়েরের পর আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে।
Leave a Reply