মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

নোটিশ :
www.shobshomoy.com নিউজে আপনাকে স্বাগতম | সবসময় সবার আগে, নির্ভুল ও নিরপেক্ষ সংবাদ। Welcome to www.shobshomoy.com News | Always First with Fast, Accurate & Unbiased News.
শিরোনাম :
৯৯৯ টাকা দেনমোহরে অভিনেতা শিমুলের বিয়ে হবিগঞ্জে ‘ভুয়া’ চিকিৎসক আরিফ কারাগারে ক্ষমতায় থাকছেন, নাকি ছাড়তে হচ্ছে গদি— নেতানিয়াহুর ভাগ্য নির্ধারণ আজ আসামে হোটেলে গুলিতে নিহত ৫ কলকাতায় প্রেমিক, তার বাবা ও বন্ধুকে নগ্ন করে হাঁটানোর অভিযোগ ১৭ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনে স্বাস্থ্যব্যবস্থার অগ্রগতি হয়নি : রাষ্ট্রপতি জাপানের নিটসু লজিস্টিকস হাব পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী যান্ত্রিক ত্রুটি কাটিয়ে সচল জাতীয় গ্রিড, চালু হচ্ছে বিদ্যুৎকেন্দ্র সিলেটে একদিনে স্বজনের হাতে প্রাণ গেল ৩ জনের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ নিয়ে যা বলেলন সিসিক প্রশাসক সিলেটের লামাপাড়া থেকে আ ট ক ২ সিলেটে যুবদল নেতা বদরুল হ ত্যা মা ম লা র দুই আসামি কারাগারে হাজী জহির বখত’র মৃত্যু বার্ষিকীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত : হাজী জহির বখত হিউম্যানিটারিয়ান ট্রাস্ট’র যাত্রা শুরু রৌমারীতে ওয়ালটনের ‘সুরক্ষা সহায়তা’সুবিধা পেল মৃত গ্রাহকের পরিবার সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে একব্যক্তির জেল জরিমানা আগামী অর্থবছরের মধ্যে বদলে যাবে দেশের স্বাস্থ্যখাত : স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করতেও পিছপা হবে না পুলিশ : আইজিপি পুলিশ সদর দপ্তরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন আইজিপি সিলেটে ২৯ অক্টোবর প্রকৌশলীদের সংগঠন AEB-এর সভা পোলিওমুক্ত বিশ্ব গড়ার প্রত্যয়ে রোটারি ক্লাবের সচেতনতামূলক র‌্যালি কিডনী ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটে রেনাল নার্সিং কোর্সে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি শুরু ২৫ অক্টোবর নদীর ভাঙন থেকে দেওয়ান বাজার জামে মসজিদ রক্ষায় গহরপুর এসোসিয়েশন ইন ফ্রান্সের অনুদান শাহজালালের মাজার: পঞ্চম দফার গণনায় মিলল ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮০৪ টাকা ১১ বছর পর মাঠে ফিরছেন রোনালদিনহো, ১৫ নভেম্বর অভিষেক র‍্যাভেনার জার্সিতে মেসিকে পুরস্কৃত করল স্প্যানিশ রাজপরিবার, আবেগঘন বার্তা বার্সেলোনার জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ জিতল আফগানিস্তান বিনা টিকিটে দেখা যাবে বাংলাদেশ-ওয়েস্ট ইন্ডিজ টেস্ট, থাকছে শর্ত  ৯ মাসে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশে শীর্ষে বাংলাদেশিরা শাহজালাল মাজারের দানের টাকা ব্যাংকেই থাকবে: ডিসি শাহজালালের দানবাক্সে মিলল যেসব দেশের মুদ্রা
বিদায়, বাংলাদেশের নেতা

বিদায়, বাংলাদেশের নেতা

ঘর ছেড়ে এলেন রাজপথে। আপসকে দূরে টেলে দিয়ে বেছে নিলেন সংগ্রাম। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর জনসমাবেশ ছড়িয়ে দিলেন সারাদেশে। তারপর জনতার রায়ে গেলেন মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পাশে সংসদ ভবনে। সেখানে থেকে বিশ্ব দরবারে নিজেকে চেনানোর প্রচেষ্টা। সরকার ছেড়ে বিরোধী দল, বিরোধী দল থেকে আবার সরকারে।

তারপর ষড়যন্ত্র, এক-এগারো। আশির দশকের সংগ্রাম আবার শুরু… পথ চলায় হারায় বাড়ি-ঘর, ছোট ছেলেকে।কারাগারে গিয়ে ধীরে ধীরে শরীরে দানা বাঁধতে শুরু করলো রোগ। কিন্তু তার যে আপসহীন ভূমিকা, মাথা নোয়াবার নয়! তাই তো নিজের পথে ছিলেন অবিচল, করেননি আপস। আর চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী হয়ে উঠলেন বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক।

 

তবে শরীর যে মানে না! লড়াই চালিয়ে যান নিজের সাথে। পরিবার, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করে সুস্থ করে তোলার।চলতি বছরের একদম শুরুতেই গেলেন বিলেতে। চিকিৎসা নিয়ে সেখানে থাকতে পারতেন পরিবারের সান্নিধ্যে। কিন্তু দেশকেই বেছে নিলেন। একাই থাকবেন, তবুও দেশের মাটিতে।

 

দেশে ফেরার পথে হিথ্রো বিমানবন্দরে নেতাকর্মীদের বলেছিলেন, ভাইয়াকে (তারেক রহমান) দেখে রাখতে।বারবার বলছিলেন, ছেলে তারেক রহমানকে দেখে রাখতে। এ যেন তিনি বুঝতে পারছিলেন, সময় ফুরিয়ে আসছে, নিজে আর ছেলেকে আগলে রাখতে পারবেন না। দলের নেতাকর্মীদেরকেই দিলেন সেই দায়িত্ব।

 

এই অনুরোধ করে ফিরলেন দেশে। কারণ, তিনি তো জাতিকে বলেছিলেন, ‘আমি দেশ ছেড়ে, দেশের মানুষকে ছেড়ে কোথাও যাব না। এই দেশই আমার একমাত্র ঠিকানা। দেশের বাইরে আমার কিছু নেই, কোনো ঠিকানাও নেই।’

 

এক-এগারো থেকে শুরু করে শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে খালেদা জিয়া তার কথা রেখেছেন। এমনকি দেশে ফ্যাসিস্টমুক্ত হওয়ার পরেও। সুযোগ ছিল বিদেশে গিয়ে জীবন কাটানোর, কিন্তু সেই পথ বেছে নেননি। গোটা দেশ দেখলো তা। জাতিও বিনিময়ে ভালোবাসা দিতে ভোলেননি।

 

খালেদা জিয়াকে শেষ বিদায়ে সারাদেশ থেকে ছুটে আসে মানুষ। সংসদ ভবন এলাকা পেরিয়ে মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে শাহবাগ-বিজয় সরণি-আগারগাঁও-শ্যামলী-নিউমার্কেট এলাকা পৌঁছে যায় জনতার স্রোত।জানাজাস্থল থেকে যতদূর চোখ যায়, দেখা মেলে মানুষ আর মানুষ।

 

জীবনের শেষ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা খালেদা জিয়া যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপাসনের পরিচয় ছাপিয়ে গেছেন, তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয় মানুষের এই জনস্রোত। একজন রাজনীতিবিদের জীবন কতটা বর্ণাঢ্য হলে এতটা ভালোবাসা মেলে, তার উত্তর উপস্থিত মানুষের মাঝেই রয়েছে। তাদের অনেকেরই চোখ ছিল অশ্রুসজল।

 

বাংলাদেশের নেতা খালেদা জিয়াকে স্বয়ং প্রকৃতিও বিদায় জানিয়েছে। গেলো কয়েকদিনের কনকনে ঠান্ডা দূর করে মিষ্টি রোদ ওঠে নগরীতে। তাতে কিছুটা স্বস্তি পায় আগত জনতা।

 

জনতার এই স্রোত থামেনি দুপুর দুইটায়-ও, যে সময় তার জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এ কারণে জানাজা শুরু হতে বিলম্বও হয় কিছুটা।

 

ঘড়ির কাটায় যখন ২টা ৪৫ মিনিট, জানাজাস্থলে খালেদা জিয়ার কফিন পৌঁছায়। কফিনজুড়ে ছিল বাংলাদেশের পতাকা। তার আগে হাসপাতাল থেকে গুলশানে তারেক রহমানের বাসা, সেখান থেকে সংসদ ভবন এলাকায় রাষ্ট্রীয় প্রোটকলে লাল-সবুজ রঙের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো ফ্রিজার ভ্যানে করে তার মরদেহ আনা হয়।

 

কফিন পৌঁছার পর দলের পক্ষ থেকে শুরুতে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি তার বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের গল্প তুলে ধরেন।

 

এরপর ২টা ৫৮ মিনিটে দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন তারেক রহমান। মা হারানো তারেক স্বাভাবিকভাবেই ছিলেন আবেগাপ্লুত, শোকে মূহ্যমান। তিনি কোনও ধরনের ভূমিকায় যাননি বক্তৃতায়।

 

স্বজন হারিয়ে বাংলার আট-দশটি সাধারণ পরিবারের সন্তানের মতোই শোনা গেলো তার কণ্ঠ।‘আমি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। এখানে উপস্থিত সকল ভাই ও বোনেরা, মরহুমা যদি কারও কাছ থেকে কোনও ঋণ নিয়ে থাকেন, তাহলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন, আমি পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।

 

খালেদা জিয়া জীবিত থাকাকালীন উনার কোনও ব্যবহারে অথবা কোনও কথায় কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তার পক্ষ থেকে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। তার জন্য দোয়া করবেন।’

 

এরপর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আবদুল মালেকের ইমামতিতে জানাজার নামাজ সম্পন্ন হয়।লাখ-লাখ মানুষের এই জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, দেশের প্রায় সকল রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিও উপস্থিত ছিলেন।

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ শোক জানানোর পাশাপাশি শোকার্ত পরিবারকে সহমর্মিতা জানাতে ঢাকায় ছুটে আসেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর, পাকিস্তানের স্পিকার সরদার আয়াজ সাদিক, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিজিতা হেরাথ, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিয়নপো ডি এন ধুংগেল এবং মালদ্বীপের রাষ্ট্রপতি ড. মোহাম্মদ মুইজ্জুর বিশেষ দূত ও দেশটির উচ্চশিক্ষা, শ্রম ও দক্ষতা উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ড. আলী হায়দার আহমেদ।

 

দক্ষিণ এশিয়ার নেতাদের উপস্থিতিই বলে দেয়, খালেদা জিয়া বিএনপির নেত্রী নন, এই জাতি-রাষ্ট্রেরই নেতা।জানাজা শেষে খালেদা জিয়ার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জিয়া উদ্যানে। সেখানে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে তাকে সমাহিত করা হয়। এরপর তোপধ্বনির মাধ্যমে গান স্যালুট প্রদর্শন করে সম্মাননা জানানো হয়। সরকার, তিন বাহিনীর প্রধানরাও শ্রদ্ধা জানান।

 

নিরাপত্তাজনিত কারণে সমাধিস্থলে সীমিত সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ছিল। তবে বাইরে অনেক মানুষ অপেক্ষা করছিলেন ফেরার সময় কবর জেয়ারত করে যেতে। বাংলার এই মানুষ বলে দিচ্ছেন খালেদা জিয়া অমর হয়ে থাকবেন তাদের মানসপটে। তিনি থাকবেন বাংলার ধানের শীষে মিশে। যেখানে খুঁজে পাওয়া যাবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রেরণা, রাজনৈতিক সংগ্রামের গল্প, দেশ বাঁচাও-মানুষ বাঁচাওয়ের স্লোগান।

আপনার সামাজিক মিডিয়া এই পোস্ট শেয়ার করুন

Comments are closed.




© All rights reserved © 2023 shobshomoy.com
Design BY Web Nest BD
shobshomoy.com