রোববার (২১ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু।
সাদাপাথর লুটপাট-সংক্রান্ত আলোচিত ঘটনার পর সিলেটের জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পান মো. সারওয়ার আলম। দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে তিনি একাধিকবার আলোচনায় এলেও সাম্প্রতিক সময়ে মাজারকেন্দ্রিক পদক্ষেপের কারণে সবচেয়ে বেশি সমালোচনার মুখে পড়েন।
গত ১৮ জুন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহর আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার কথা বলে পুরোনো দানবাক্স ও তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়। একই সঙ্গে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং নিরাপত্তার জন্য আনসার সদস্য মোতায়েন করা হয়। প্রশাসনের এই আকস্মিক পদক্ষেপে মাজার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, খাদেম ও ভক্তদের একাংশের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সর্বত্র শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।
এর একদিন পর, ১৯ জুন, ডিসি সারওয়ার আলম শাহপরান (রহ.) মাজার পরিদর্শনে গিয়ে জুমার নামাজের আগে বক্তব্য দেন। তিনি মাজারের আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ করার আহ্বান জানান এবং মাজার এলাকায় মাদক ও গাঁজার আসর বন্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন। পাশাপাশি মাজারকেন্দ্রিক একটি ‘মাস্টারপ্ল্যান’ বাস্তবায়নের কথাও জানান। তার এসব বক্তব্য ও পদক্ষেপ ধর্মীয়ভাবে সংবেদনশীল এই প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের প্রশ্নে নতুন বিতর্কের জন্ম দেয়।
তবে সমালোচকরা বলছেন, আলোচিত অনেক বিষয়ে উচ্চকণ্ঠ হলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখাতে পারেননি সারওয়ার আলম।
সাদাপাথর লুটের ঘটনার তদন্তের অগ্রগতি এখনও জনসম্মুখে আসেনি। একইভাবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশের জমি অধিগ্রহণ নিয়েও তার দেওয়া একাধিক আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি। গত বছরের সেপ্টেম্বরে তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হবে। কিন্তু প্রায় নয় মাস পেরিয়ে গেলেও প্রকল্পটির দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
এছাড়া ভূমিকম্পের পর ঝুঁকিপূর্ণ ভবন অপসারণ, ফুটপাত দখলমুক্ত করা, হকার উচ্ছেদসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশাসনের জোরালো ঘোষণার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, একদিকে মাজার ব্যবস্থাপনা নিয়ে নজিরবিহীন প্রশাসনিক উদ্যোগ, অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজ এই দুই বাস্তবতার মাঝেই আকস্মিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে। তার এই প্রত্যাহারের পেছনে প্রকৃত কারণ কী, তা নিয়ে এখন সিলেটজুড়ে চলছে নানা আলোচনা ও জল্পনা।
Leave a Reply