সবসময় ডেস্ক :::সিলেট সদর উপজেলার ৬নং টুকের বাজার ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের জাহাঙ্গীরনগর ও আশপাশের এলাকায় একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবাধে পাহাড় ও টিলা কাটার অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পাহাড়ের মাটি কেটে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ভ‚-প্রকৃতি মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় সুত্রের খবর, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে দিনের পাশাপাশি রাতের আঁধারেও বিভিন্ন যানবাহনের মাধ্যমে পাহাড়ের মাটি পরিবহন করা হয়। এতে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন সচেতন নাগরিকরা।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, জাহাঙ্গীরনগর এলাকায় পাহাড় ও মাটি কাটার এই অবৈধ কর্মকাÐ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অনুসন্ধান ও স্থানীয় অভিযোগ অনুযায়ী, এই মাটিখেকো সিন্ডিকেটের মূল হোতা হিসেবে নাম এসেছে জাহাঙ্গীরনগর গ্রামের মৃত ময়না মিয়ার ছেলে হাফিজ মেম্বার (৩৫)-এর। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ও গোয়াবাড়ি এলাকার পাহাড় ও মাটি কাটার কার্যক্রমে প্রভাবশালী ভ‚মিকা পালন করেন। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড় কাটার অভিযোগে হাফিজ মেম্বারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে।
অভিযোগে এই সিন্ডিকেটের সহযোগী হিসেবে আরও কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। তারা হলেন— ড্রাইভার মিনাল, ড্রাইভার মতিন মিয়া (৫০), ড্রাইভার বিরাজুল (৩০), ড্রাইভার মুহিবুর এবং মাটি কাটার শ্রমিক ইকবাল, রাজু মিয়া ও রুবেল মিয়া।
স্থানীয়দের দাবি, এই সিন্ডিকেটের প্রভাব ও হুমকির কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। তাদের মতে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রæত কার্যকর নজরদারি ও তদন্ত প্রয়োজন। অন্যথায় ভবিষ্যতে ভয়াবহ পাহাড় ধস, মাটির ক্ষয় এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
পরিবেশ সচেতন মহলের মতে, সিলেট অঞ্চলে পাহাড় ও টিলা কাটা শুধু একটি স্থানীয় সমস্যা নয়; এটি পুরো অঞ্চলের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য এক গুরুতর হুমকি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ের স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে আশপাশের বসতি ও জনসাধারণের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এলাকাবাসী অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা এই পাহাড় খেকো সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লিখিত অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া, এ ব্যাপারে জানতে বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply