সবসময় ডেস্ক :::সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ওয়ার্ড বয় ও শিক্ষানবিশ নার্সদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে দুইজন নার্সিং শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ সময় ড্রেসিং রুমের কাচ ও আসবাবপত্র ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বুধবার (১ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
আহতরা হলেন- সুরমা নার্সিং কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ, আল-আমিন নার্সিং কলেজের ছাত্র রবিউল আউয়াল শুভ। তারা বর্তমানে হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, পূর্বের কথাকাটাটির জেরে বুধবার সকালে প্রথমে হাসপাতালের আউটডোর ভবনের নিচতলায় সার্জিক্যাল মাইনর অপারেশন থিয়েটারের ড্রেসিং রুমে ওয়ার্ড বয় ও শিক্ষানবিশ নার্সদের কথাকাটাকাটি হয়। পরে পুরাতন ভবনের ক্যাজুয়ালিটি বিভাগের সামনে গিয়েও মারামারি হয়।
শিক্ষানবিশ নার্সদের অভিযোগ, তিনদিন আগে হাসপাতালের শিক্ষানবিশ দুই নার্সকে হয়রানি করেন আউটসোর্সিংয়ে নিয়োজিত দুই ওয়ার্ড বয় জামাল ও অঞ্জন। এ ঘটনার জেরে বুধবার বেসরকারি নার্সিং কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগের বিষয়ে জানতে ড্রেসিং রুমে যান। পরে সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা হামলা করেন। এতে দুই শিক্ষার্থী আহত হন।
শিক্ষানবিশ নার্স আফরান শিপন বলেন, তিনদিন আগে ওটি ও ড্রেসিং ইউনিটে আমাদের ইন্টার্ন নার্স ও শিক্ষার্থীরা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় কয়েকজন ওয়ার্ড বয়ের মাধ্যমে তারা ইভটিজিংয়ের শিকার হন। এর আগের দিন সুরমা নার্সিং কলেজের একজন শিক্ষকও একই ধরনের হয়রানির শিকার হন। ওয়ার্ড বয়রা তাঁকে অপমানজনক আচরণ করেন।
তিনি বলেন, আজ ইন্টার্ন নার্সরা জানতে চান, কেন তাদের ও শিক্ষকের সঙ্গে এমন আচরণ করা হয়েছে। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে ওয়ার্ড বয়রা আমাদের ইন্টার্ন ছেলেদের ওপর হামলা চালায়। এতে দুজন আহত হন। পরে তাঁদের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে সিলেটের সব নার্সিং কলেজের ইন্টার্ন নার্সরা কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে ওয়ার্ড বয়দের অভিযোগ, তিনদিন আগে হাসপাতালের আউটডোরে ড্রেসিং করার রুমের সামনে কিছু খালি জায়গায় সুরমা নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে ডিউটি বুঝে নিচ্ছিলেন। এসময় একজন ওয়ার্ড বয় তাদেরকে অন্য জায়গায় গিয়ে দাঁড়ানোর কথা বলেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ বুধবার প্রায় ২৫-৩০ জন শিক্ষার্থী এসে হাসপাতালের স্টাফদের ওপর হামলা চালায়।
তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা প্রথমে রুম থেকে টেনে হেঁচড়ে স্টাফদের বের করে আনে এবং এরপর সিনিয়র স্টাফ ও ব্রাদারদের ওপর আক্রমণ করে এবং ভাঙচুরও করে। কাঁচ ভাঙার কারণে এবং মারধরের ফলে তিনজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ বিষয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন ও প্রশিক্ষণ) ডা. মোহাম্মদ বদরুল আমিন জানান, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply