২০০২ সালে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করার পর তৎকালীন বিএনপি সরকার অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নিয়েছিল, যা ছিল এক বড় চমক।
বর্তমানে চুক্তিতে নিয়োজিত একজন শীর্ষ আমলার নাম পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মূলধারার গণমাধ্যমে জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে ওই আমলাকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হতে পারে।
তবে প্রশ্ন উঠেছে, ক্ষমতাসীন বিএনপি যদি ওই জ্যেষ্ঠ আমলাকে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে মনোনীত করে, তাহলে তিনি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা রাখবেন কি না।
দেশের সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদের ৪(খ) উপ-অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য না হলে তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ারও যোগ্য হবেন না।
এখন প্রশ্ন হলো, আলোচনায় থাকা ওই আমলা সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্য কি না। আরপিওর ১২(এইচ) ধারা অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে অবসরের পর কেউ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলে, সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া বা বাতিল হওয়ার পর তিন বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচনের অযোগ্য থাকবেন।
সংশ্লিষ্ট ওই আমলা বর্তমানে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্বে রয়েছেন। এমনকি তিনি এখনই পদত্যাগ বা অবসরে গেলেও সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের জন্য তাকে তিন বছর অপেক্ষা করতে হবে। আরপিওর ১২(এফ) ধারায় বলা হয়েছে, প্রজাতন্ত্রের বা কোনো সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের বা প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগের চাকরি থেকে পদত্যাগ বা অবসর গ্রহণের পর তিন বছর অতিবাহিত না হলে কোনো ব্যক্তি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার যোগ্য হবেন না।
সে কারণে আলোচনায় থাকা ওই ব্যক্তি ক্ষমতাসীন দলের পছন্দের তালিকায় থাকলেও, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ শেষ হওয়ার পরও তিন বছর পর্যন্ত তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করবেন না।
এদিকে, বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী কে হতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আবদুল মঈন খানের নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত কোনো ‘চমক’ অপেক্ষা করছে কি না, তা নিয়েও গুঞ্জন রয়েছে। ২০০২ সালে অধ্যাপক এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর তৎকালীন বিএনপি সরকার অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছিল। একইভাবে ২০২৩ সালের এপ্রিলে সাবেক আওয়ামী লীগ সরকার বড় বড় নেতাদের বাদ দিয়ে মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত করে নতুন চমক দেখিয়েছিল।
Leave a Reply