দেশের প্রতিটি জেলাকে জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন রেলপথ নির্মাণ, বিদ্যমান লাইনের সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে পর্যায়ক্রমে দেশের ৬৪টি জেলা জাতীয় রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্য বলছে, বর্তমানে দেশের ৪৮টি জেলা জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের আওতায় রয়েছে। এখনও ১৬টি জেলা রেল যোগাযোগের বাইরে। প্রথম ধাপে রেলসেবা বঞ্চিত ১০টি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরবর্তী পর্যায়ে অবশিষ্ট ছয়টি জেলাতেও রেল সংযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ঢাকা মেইল।
রেলওয়ে সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ধাপে শেরপুর, মেহেরপুর, মাগুরা, সাতক্ষীরা, বরিশাল, বরগুনা, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, পিরোজপুর ও লক্ষ্মীপুরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব জেলার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রাথমিক সমীক্ষার কাজ চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ভোলা, নেত্রকোনা এবং মানিকগঞ্জকে পরবর্তী ধাপে রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে সাতক্ষীরায় রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ সবচেয়ে এগিয়েছে। যশোরের নাভারন থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। একইভাবে মধুখালী-মাগুরা রেলপথ সম্প্রসারণ, নোয়াখালীর চৌমুহনী থেকে লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত নতুন রেললাইন এবং শেরপুর হয়ে নাকুগাঁও স্থলবন্দর পর্যন্ত রেল সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে।
বরিশাল বিভাগে রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণের প্রাথমিক কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। ভাঙ্গা থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, পায়রা বন্দর হয়ে কুয়াকাটা পর্যন্ত প্রায় ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা।
তবে রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন জেলাগুলোতে কবে ট্রেন চলাচল শুরু হবে, তা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব নয়। কারণ সম্ভাব্যতা যাচাই, প্রকল্প প্রণয়ন, অর্থায়ন, ভূমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে কয়েক বছর সময় লাগবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) আল ফাত্তাহ মো. মাসউদুর রহমান বলেন, রেলবঞ্চিত জেলাগুলোকে নেটওয়ার্কে আনতে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ চলছে। বর্তমানে অধিকাংশ প্রকল্পই সম্ভাব্যতা যাচাই পর্যায়ে রয়েছে। এসব সমীক্ষা শেষ হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।
রেলওয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিদিন চার শতাধিক যাত্রী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। বছরে প্রায় ১০ কোটি যাত্রী রেলে ভ্রমণ করেন এবং প্রায় এক কোটি টন পণ্য পরিবহন করা হয়। নতুন জেলাগুলো রেল নেটওয়ার্কে যুক্ত হলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা করছে রেলওয়ে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৬-২০৪৫ মেয়াদের রেলওয়ের মহাপরিকল্পনা বর্তমানে পর্যালোচনাধীন। নতুন পরিকল্পনায় এর সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। পাশাপাশি নতুন রেললাইন নির্মাণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় লোকোমোটিভ, কোচ এবং অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুতের সমন্বিত পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন রেলপথ চালুর সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা যায়।
রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘দেশের যোগাযোগব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে কাজ করছে বর্তমান সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় রেলসেবাকে দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে পর্যায়ক্রমে ৬৪টি জেলাকেই রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
Leave a Reply