সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ডেগ ও দানবাক্সের টাকা গণনা চলছে। এক মাস ৮ দিন পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম শুরু হয়। মাদরাসার শিক্ষার্থীরা ডেগ ও দানবাক্সে জমা হওয়া টাকা গণনার কাজ করছেন।
মাজারে দেশ-বিদেশ থেকে আসা ভক্ত ও দর্শনার্থীরা নিয়মিত দান করে থাকেন। তিনটি ডেগ ও দানবাক্সে জমা হওয়া অর্থ নির্দিষ্ট সময় পরপর গণনা করা হয়। গণনার সময় টাকার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রুপার অলংকারসহ অন্যান্য সামগ্রী পাওয়া গেলে সেগুলোরও হিসাব করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেগ খুলে পাওয়া গেছে নগদ ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। এছাড়া এই গণনায় নগদ অর্থের পাশাপাশি দেশি-বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণালংকার ও গবাদিপশুও জমা পড়েছে।
জেলা প্রশাসন জানায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর ৩৪ দিনের ব্যবধানে মাজারের মোট ৮টি দানবাক্স ও ডেগ খোলা হয়। দিনভর গণনা শেষে নগদ প্রায় ৮৯ লাখ টাকার পাশাপাশি ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণালংকার এবং ১৫টি দেশের বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া যায়।
এছাড়া দান হিসেবে পাওয়া যায় ৬টি গরু ও ১১টি ছাগল। যার একটি অংশ মাজারের লঙ্গরখানার জন্য ব্যবহার করা হয়েছে, কিছু বিক্রি করে কর্মীদের পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে এবং দুটি গরিব পরিবারের মেয়ের বিয়েতে উপহার হিসেবে দান করা হয়েছে।
এছাড়া ১৫ আগস্ট মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়েছিল। ওই গণনায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণালংকার এবং ১ ভরি ২ আনা রুপাও পাওয়া গিয়েছিল। এছাড়া বিপুল পরিমাণ বিদেশি মুদ্রাও পাওয়া যায়।
দানের টাকা কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করার প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক।